Kolkata Fire: 'বেশিক্ষণ বাঁচব না, ছেলে-বউকে দেখিস..', নাজিরাবাদের জ্বলন্ত কারখানার ভিতর থেকে দাদাকে শেষ ফোন কর্মরত নিরাপত্তারক্ষীর
Nazirabad warehouse fire: ২৬ জানুয়ারি রাত ৩.১৪ মিনিটে দাদাকে ফোন করেছিলেন রবীশ হাঁসদা। তিনি ছিলেন ওয়াও মোমোর গোডাউনে কর্মরত নিরাপত্তাকর্মী।

কলকাতা: ছাই আর তার মধ্যে মধ্যে পড়ে থাকা হাড়। মানুষের হাড়। নাজিরাবাদের মর্মান্তিক ঘটনার প্রায় ৮ দিন পার হয়ে গেলেও, এখনও পোড়া গোডাউন থেকে একের পর এক উদ্ধার হচ্ছে দেহ। তবে সেগুলিকে দেহ বললে অত্যুক্তি করা হয়। সেগুলি দেহাংশ। মধ্যরাতের সেই আগুন পুড়িয়ে দিয়েছে অনেক স্বপ্ন, অনেক আশা.. তবে শেষ মুহূর্ত চেষ্টা ছিল বাঁচার। যাঁরা নাজিরাবাদের আগুনে হারিয়েছেন প্রিয়জনদের, চোখে জল নিয়ে তাঁরাই মনে করছেন, শেষ ফোনগুলোর কথা। যখন দাউ দাউ করে জ্বলছে কারখানা, ভিতরে আটকা পড়ে রয়েছেন কর্মীরা। বেরতে পারছেন না। তখন শেষ মুহূর্তে পরিবারকে ফোন করেছিলেন অনেকেই। জানিয়েছিলেন, 'আর বাঁচব না।' কিন্তু যতক্ষণে পরিবার এসে পৌঁছেছে সেই অভিশপ্ত কারখানায়, ততক্ষণে সব শেষ।
২৬ জানুয়ারি রাত ৩.১৪ মিনিটে দাদাকে ফোন করেছিলেন রবীশ হাঁসদা। তিনি ছিলেন ওয়াও মোমোর গোডাউনে কর্মরত নিরাপত্তাকর্মী। সেই সময়ে, তাঁর দাদা ভাবতেও পারেননি যে, ভাইয়ের সঙ্গে এটাই তার শেষ কথা। কান্না ভেজা গলায় দাদা মনে করছেন, ভাই শেষবারের মতো বলেছিল, 'আমি মরেই যাব, বেশিক্ষণ বাঁচব না। সন্তান ও স্ত্রীকে দেখিস। দাদা সুনীল হাঁসদার সঙ্গে ফোনে শেষবার ২ মিনিট ৩ সেকেন্ড কথা বলতে পেরেছিলেন রবীশ। তারপরে আর ফোন পাওয়া যায়নি। সুনীল যতক্ষণে পরিবারকে নিয়ে এসে পৌঁছন, ততক্ষণে আগুনে সব জ্বলেপুড়ে গিয়েছে।
বাঁচতে চেয়েছিলেন ওয়াও মোমোর আরেক কর্মরত কর্মী, পঙ্কজ হালদার ও। শেষবার ফোন করে স্ত্রীকে কাতরভাবে বলেছিলেন, 'আগুন লেগেছে, আমি আর বাঁচব না। কোম্পানির কাউকে ফোন করতে বলো'। রাত ৩.১১ মিনিটে, ১ মিনিট ৯ সেকেন্ড স্ত্রীয়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিলেন পঙ্কজ। স্ত্রীয়ের মাধ্যমে খবর পৌঁছনোর চেষ্টা করেছিলেন কোম্পানির কাউকে। যথাসাধ্য চেষ্টা করেছিলেন স্ত্রী ও। শেষ ফোন করেছিলেন, ৩.১৬ মিনিটে। তারপরে আর ফোন পাওয়া যায়নি পঙ্কজের। গাড়ি বুক করে যখন স্ত্রী এসে পৌঁছন নাজিরাবাদে, ততক্ষণে সব শেষ।
জানা যাচ্ছে, নাজিরাবাদে অভিশপ্ত সেই কারখানার মূল গেটে তালা দিয়ে, ভিতরে থাকতেন কর্মীরা। চুরি আটকাতে, এটাই ছিল নিয়ম। কারখানায় ছিল না ন্যুনতম অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থাও। বাইরে বেরনোর জন্য, ছোট গেটের বাইরে প্রচুর মাল রেখেছিল ডেকরেটর্স সংস্থা, দাবি কর্মীদের। সেই কারণে, আগুন লাগলেও বেরতে পারেননি কর্মীরা। ভিতরেই জ্বলে যান। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, নাজিরাবাদের কারখানা থেকে ২৫ জন কর্মীর দেহাংশ উদ্ধার করা গিয়েছে।























