NBSTC : লোকসানের ভার ! ডিপোয় ছড়িয়ে থাকা জমি-বিল্ডিং শর্তসাপেক্ষে ভাড়া দেওয়ার সিদ্ধান্ত NBSTC-র
বিভিন্ন ডিপোতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা নিগমের জমি ও বিল্ডিংয়ের মতো সম্পত্তি শর্তসাপেক্ষে বেসরকারি সংস্থাকে ভাড়া দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জানিয়েছেন উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগমের চেয়ারম্যান।

শুভেন্দু ভট্টাচার্য, কোচবিহার : লোকসানের ভার কমাতে বিকল্প আয় বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছে উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগম। বিভিন্ন ডিপোতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা নিগমের জমি ও বিল্ডিংয়ের মতো সম্পত্তি শর্তসাপেক্ষে বেসরকারি সংস্থাকে ভাড়া দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জানিয়েছেন উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগমের চেয়ারম্যান। এনিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা।
করোনাকালে সাঁড়াশি আক্রমণে জেরবার পরিবহণ ক্ষেত্র। মারণ ভাইরাসের আতঙ্কে এমনিতেই চলছে যাত্রী সঙ্কট। তার মধ্যে আবার অগ্নিমূল্য জ্বালানি। এই পরিস্থিতিতে বিকল্প আয়ের রাস্তায় হাঁটল উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগম। উত্তরবঙ্গের লাইফ লাইন হিসেবে পরিচিত উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগম বা NBSTC সূত্রে দাবি, প্রতি মাসে বাস চালাতে তাদের প্রায় ২০ কোটি টাকা খরচ হচ্ছে। করোনা আবহে আয় কমে দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি টাকা। নিগম সূত্রে খবর, বর্তমানে তাদের হাতে মোট ৯৬৯টি বাস রয়েছে। তার মধ্যে রাস্তায় চলে ৬০০টি বাস। চালক ও কন্ডাক্টরের অভাবে বাকি বাসগুলি বসে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সংস্থার হাল ফেরাতে গত বৃহস্পতিবার বৈঠকে বসে নিগম কর্তৃপক্ষ।
উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগমের চেয়ারম্যান পদে নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন কোচবিহার জেলা তৃণমূলের প্রাক্তন সভাপতি পার্থপ্রতিম রায়। তিনি জানিয়েছেন, আয় বাড়াতে বিভিন্ন ডিপোতে থাকা নিগমের জমি, বিল্ডিংয়ের মতো সম্পত্তি শর্ত সাপেক্ষে বেসরকারি সংস্থাকে ভাড়া দেওয়া হবে। পর্যটন খাতে বাড়ানো হবে বাস। উত্তরবঙ্গ থেকে কলকাতার মধ্যে ৩৫টি পুজো স্পেশাল চলবে।
উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগমের চেয়ারম্যান পার্থপ্রতিম রায় বলেন, বিকল্প আয় কীভাবে বাড়ানো যায়, তার ভাবনা চলছে। হিসেব করে দেখেছি এখন যা তেলের দাম মাসে ১৬ কোটি টাকা তুলতে পারলে স্বয়ং সম্পূর্ণ হব। কিছু পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। অব্যবহৃত জমি, বিল্ডিং পিপিই মডেলে সরকারি নীতি মেনে ভাড়া দেওয়া হবে।
এই নিয়েও শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। কোচবিহার জেলা বিজেপির সম্পাদক রাজু রায় বলেন, এক সময় এনবিএসটিসির পরিষেবা উন্নতমানের ছিল। এখান থেকে অসম, বিহার, কোচবিহারের ওলিতে গলিতে বাস চলত। এখন সব বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এই সরকারের আমলে পরিষেবা তলানিতে ঠেকেছে। দুর্নীতি বন্ধ হলে এমনিতেই আয় বাড়বে। পিপিই মডেলে বেসরকারি সংস্থাকে কীভাবে ভাড়া দেওয়া হল, সেই তথ্য কী তাঁরা সামনে আনবেন? না আনলে বুঝতে হবে সেখানেও দুর্নীতি হয়েছে।
যদিও তৃণমূল নেতা তথা উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগমের চেয়ারম্যান বলেন, বিজেপির রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থা সম্পর্কে কোনও ধারণাই নেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারে আসার পর বাম আমলে ধুঁকতে থাকা এই সংস্থার কর্মীরা মাস পয়লায় বেতন পাচ্ছেন। অনেক নতুন বাস এসেছে। সংস্থার আয়ু বেড়েছে।
নতুন উদ্যোগে উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগম কতটা চাঙ্গা হবে, তা বলবে সময়।






















