North 24 Pargana News :'রেল পুলিশের ধাক্কায়' ট্রেন থেকে ছিটকে লাইনে, পায়ের ওপর দিয়েই গেল ট্রেন ! কাটা পড়ল পা
ভয়াবহ এক ঘটনার সাক্ষী থাকল ট্রেনের যাত্রীরা। অসহিষ্ণুতা যে কত সাঙ্ঘাতিক পরিণতি নিয়ে আসতে পারে, চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল এই ঘটনা।

সন্দীপ সরকার, কলকাতা : চলন্ত ট্রেন থেকে যাত্রীকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেওয়ার ভয়ঙ্কর অভিযোগ উঠল RPF-এর বিরুদ্ধে। যার পরিণতি হল মর্মান্তিক। ট্রেনের ধাক্কায় পা কাটা গেল সেই যাত্রীর । ভয়াবহ ঘটনার শিকার হলেন চাকদার বাসিন্দা জগদীশচন্দ্র সরকার। সারা জীবন তাঁকে এক পায়ের ভরসাতেই চলতে হবে। এক লহমায় অনিশ্চিত হয়ে পড়ল ভবিষ্যৎ। ভয়াবহ এক ঘটনার সাক্ষী থাকল ট্রেনের যাত্রীরা। অসহিষ্ণুতা যে কত সাঙ্ঘাতিক পরিণতি নিয়ে আসতে পারে, চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল এই ঘটনা।
কী ঘটেছিল?
শুক্রবার, শিয়ালদা থেকে রানাঘাট লোকালে ওঠেন জগদীশচন্দ্র সরকার। সেখানে, এক সহযাত্রীর সঙ্গে বচসায় জড়ান তিনি। সেই সহযাত্রী রেল পুলিশের হেল্পলাইনে ফোন করেন। জগদীশচন্দ্র সরকারের অভিযোগ, দমদম স্টেশনে, তাঁকে চলন্ত ট্রেন থেকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেন আরপিএফ-এর জওয়ান। তাঁর পায়ের ওপর দিয়ে চলে যায় ট্রেন। এক সহকর্মীর সহযোগিতায় গুরুতর আহত যাত্রীকে আর জি কর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
কী জানাচ্ছে রেল পুলিশ?
যদিও, ট্রেন থেকে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উড়িয়ে রেল পুলিশের তরফে দাবি করা হয়েছে, রানাঘাট লোকাল থেকে এক ব্যক্তি রেলপুলিশে অভিযোগ জানিয়েছিলেন। দমদমে ট্রেন ঢুকলে অভিযুক্ত ট্রেনযাত্রীকে নামিয়ে আনেন এক RPF-এর জওয়ান। দমদম স্টেশনেও সেই জওয়ানের সঙ্গে বচসায় জড়ান জগদীশচন্দ্র সরকার। এই ঘটনায় ওই RPF-এর জওয়ানও আহত হয়েছেন। তিনি বি আর সিংহ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। যদিও জগদীশচন্দ্র সরকারের সহকর্মী থেকে আত্মীয়া সকলেই মনে করছেন, আরপিএফের দোষেই এমন মর্মান্তিক পরিণতি হল তাঁর। শেষমেষ পা-টাই আর বাঁচানো যায়নি ৫৮ বছরের জগদীশচন্দ্রের। আপাতত, আর জি কর হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন তিনি।
রেলমন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হয়েছে। তদন্ত করে যথোপযুক্ত পদক্ষেপ করা হবে।
চলতি মাসেই এমনই এক ভয়াবহ ঘটনা
গত ৩ জুনের ঘটনা । বিরাটি স্টেশনে মারধরে গুরুতর জখম বেসরকারি ব্যাঙ্ক কর্মীর মৃত্যু হয়। অভিযোগ, ট্রেনের গেটে দাঁড়ানো নিয়ে বচসা থেকে যাত্রীকে মারধর শুরু হয়। তারপর তাঁকে স্টেশনের ওভারব্রিজ থেকে রেললাইনে ফেলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। ঘটনার তিন দিন পর হাসপাতালে মৃত্যু হয় আহত যুবকের। গ্রেফতার করা হয় অভিযুক্তকে। নিহত যুবকের স্ত্রী জানান, তাঁর স্বামীকে নৃশংসভাবে মারা হয়েছে। পরিবারে আছেন বয়স্ক বাবা মা। দেখার মতো আর কেউ নেই।






















