North 24 Parganas: ভাগ্যবদলে নেশামুক্তির শপথ! কোটি টাকা জিতে আর লটারি না কাটার বার্তা আমডাঙার ডাব ব্যবসায়ীর
হাসিমুখে রুলামিন বলেছেন, আর কখনও লটারির টিকিট কাটবেন না।

সমীরণ পাল, আমডাঙা (উত্তর ২৪ পরগণা) : একেই বোধহয় বলে ভাগ্যবদল। ডাব ব্যবসা করে দিন আনি দিন খাইয়ের সংসারে অভাব মেটাতে ঝুঁকেছিলেন ভাগ্যপরীক্ষায়। বুঝতে পারছিলেন, লটারির টিকিট কাটাটা কার্যত নেশায় পরিণত হচ্ছে। কারণ, রোজই ব্যবসার টাকা কিছুটা সরিয়ে রেখে কিনতেন লটারির টিকিট। শেষমেশ অবশ্য প্রসন্ন হলেন ভাগ্যদেবী। ৯০ টাকার টিকিটে কোটি টাকার জ্যাকপট জুটল রুলামিন মণ্ডলের। তবে এত টাকা একসঙ্গে পাওয়ার খবরে প্রথমে কিছুটা ভয়ই পেয়ে গিয়েছিলেন তিনি। গতকাল রাতে আশ্রয় নিয়েছিলেন আমডাঙা থানায়। অবিশ্বাসের আবেশ সরিয়ে তৃপ্তির হাসিমুখে রুলামিন অবশ্য বলছেন, 'আর লটারির টিকিট কাটব না। দরকার তো ভালো করে খেয়ে-পরে থাকা আর ছেলে-মেয়েদের ভবিষ্যৎ সাজিয়ে দেওয়া। এই টাকায় নিজের ডাবের ব্যবসাটাই আরও একটু ভালো করে করব, আর টাকাটা দিয়ে ছেলে-মেয়ের পড়াশোনার দিকটা চলে যাবে।'
আমডাঙার বোদায় গ্রামের বাসিন্দা রুলামিনের অভাবের সংসার। পরিবারের একাধিক সদস্য। থাকেন টালির চালের বাড়িতে। ডাবের ব্যবসা করে যা রোজগার করেন রুলামিন, তা বাড়ির সবার দু'বেলা দু মুঠো জোগাড় করতেই চলে যায়। তাও ভাগ্যপরীক্ষা চালিয়ে যেতেন রুলামিন। গতকাল আর পাঁচটা দিনের মতো ব্যবসার কাজের চাপ সামলে বাড়ি এসে একটু বিশ্রাম নিচ্ছিলেন রুলামিন। সেই সময়ই যাঁর থেকে তিনি লটারির টিকিট কেটেছিল, তিনি বাড়ি বয়ে এসে খবর দেন। প্রথমে খবর পেয়ে কিছুটা চিন্তা ও ভয়ে সোজা আমডাঙা থানার দ্বারস্থ হয়েছিলেন রুলামিন। সেখানে রাত কাটানোর পর পুলিশ আশ্বস্ত করায় বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ি ফিরে পরিবারের সবাইকে সুখবর শোনান। টিকিট বিক্রেতা অমর মণ্ডল জানান, গরিব মানুষের ভাগ্য ফেরায় তিনিও খুশি।
রুলামিন মণ্ডল ও তাঁর পরিবারের চোখেমুখে ভাগ্যবদলের চওড়া হাসি দেখা গেলেও ভাগ্যদেবী এভাবে সবার উপর আর প্রসন্ন হন কোথায়! ভাগ্যবদলের আশায় লটারির টিকিট কাটার নেশা অনেক পরিবারকে নিয়ে যায় আরও দুর্গতির পথে।






















