North Bengal Situation: নদী দিয়ে ভেসে আসছে আরও দেহ! বন্যপ্রাণের হামলায় আতঙ্কে উত্তরবঙ্গে, বাড়ছে মৃত্যু মিছিল!
North Bengal Flood: অন্যদিকে, বৃষ্টিতে বিধ্বস্ত মিরিক, বৃষ্টিতে ধসে পরপর মৃত্যু। মর্মান্তিক মৃত্যু দুই শিশুর।

শিলিগুড়ি: বৃষ্টি-ধসে বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গে মৃত্যু মিছিল। মৃত বেড়ে ২৮। বিজনবাড়িতে রঙ্গিত নদীতে মিলল আরও একজনের দেহ। মাথাভাঙায় জলে ভেসে আসা বন্য শুয়োরের হামলায় কৃষকের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। তোর্সা নদীর পাড়ে বন্য শুয়োরের হামলায় বীরেন বর্মনের মৃত্যু হয়েছে। এদিকে, NDRF সূত্রের খবর, দার্জিলিঙে ১৮ জনের মৃত্যু, জলপাইগুড়িতে ১০।
অন্যদিকে, বৃষ্টিতে বিধ্বস্ত মিরিক, বৃষ্টিতে ধসে পরপর মৃত্যু। মর্মান্তিক মৃত্যু দুই শিশুর। বাড়ির সামনে এখনও পড়ে রয়েছে রুহি ও আহানের খেলনা। ভেঙে গিয়েছে বাড়ির জানালা, দরজা, খাট। পাশাপাশি ভুটান পাহারে বৃষ্টির জেরে নাগরাকাটায় ধস। রাস্তায় বড় বড়া গর্ত-ফাটল। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলছে কাজ। বোল্ডার দিয়ে জল বন্ধ করার চেষ্টা চলছে। কবে রাস্তা স্বাভাবিক হবে কেউই জানেন না। ফের যদি পাহাড়ে বৃষ্টি হয় তাহলে আবার প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা।
এখনও পর্যন্ত মৃতদের যে পরিচয় পাওয়া গিয়েছিল তাঁরা হলেন, ৯ বছরের আহান ছেত্রী, ১২ বছরের রুহি ভুটিয়া, পুচুং ডুকপা, সুমিত লেপচা, স্নেহা প্রধান, অনুজ প্রধান, অনিতা প্রধান, ১২ বছরের আরুষি ছেত্রী, বিজেন্দ্র রাই, ঊষা রাই, সাতমা লামা। জোড়বাংলো থানা এলাকায় মৃত্যু হয়েছে ৪ জনের। এরা হলেন ওয়াংচুক তামাং, লায়লা রাই, সীমা সেওয়া, পুরুস্তা সুব্বা। সুখিয়া পোখরি থানা এলাকায় যে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে, তাঁদের নাম মনবাহাদুর প্রধান ও বিমলা প্রধান। সদর থানা এলাকায় রিজা রাই নামে এক মহিলার মৃত্যু হয়েছে। এখনও বহু মানুষ নিখোঁজ। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
উত্তরবঙ্গে আগামী ২ দিন হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা। ভারী বৃষ্টির সতর্কতা নেই। উত্তরবঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎসহ মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস।
এদিকে পাহাড়ে বৃষ্টি-বিপর্যয়ে আটকে পড়া পর্যটকদের ফেরাতে শিলিগুড়ি-কলকাতা বিশেষ বাস পরিষেবা চালু করেছে উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগম। NBSTC-র চেয়ারম্যান পার্থপ্রতিম রায় জানিয়েছেন, গতকাল ১৬টি বাস প্রায় ৮০০ জন যাত্রী রওনা দেয়।যার অধিকাংশই পর্যটক। আজও কয়েকটি স্পেশাল বাস শিলিগুড়ির তেনজিং নোরগে বাস টার্মিনাস থেকে ছাড়বে। অনলাইন এবং অফলাইন, দু’ভাবেই টিকিট কাটা যাচ্ছে।
অন্যদিকে, সুযোগ বুঝে ভাড়া বাড়িয়েছে উড়ান সংস্থাগুলি। বাগডোগরা থেকে কলকাতা সরাসরি উড়ানের ভাড়া গড়ে সাড়ে ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকা। সেটাই একলাফে বেড়ে হয়েছে ৯ হাজার থেকে ২১ হাজার টাকা। বিমান সংস্থাগুলি চড়া দাম হাঁকায় সমস্যায় পড়েছেন পর্যটকরা। বৃষ্টি-ধসের জেরে উত্তরবঙ্গগামী কয়েকটি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। বেশিরভাগ ট্রেন ঘুরপথে চালানো হচ্ছে। কয়েকটি ট্রেনের সময়সূচিও বদল করা হয়েছে।






















