Blood Donation Problem: হচ্ছে না পর্যাপ্ত রক্তদান শিবির, এদিকে বাড়ছে ডেঙ্গি! রক্ত, প্লেটলেটের জোগান দিতে হিমশিম খাচ্ছে কলকাতার ব্লাড ব্যাঙ্কগুলি!
Dengue Update: একেই বলে, সঙ্কটের জোড়া ফলা! একদিকে রাজ্যে লাফিয়ে বাড়ছে ডেঙ্গি আক্রান্ত.....অন্যদিকে আশঙ্কা বাড়াচ্ছে রক্ত এবং প্লেটলেটের আকাল!

সন্দীপ সরকার ও ঝিলম করঞ্জাই, কলকাতা: রাজ্যজুড়ে ডেঙ্গি উদ্বেগের মধ্যেই প্লেটলেটের আকাল। মানিকতলার সেন্ট্রাল ব্লাড ব্যাঙ্ক থেকে বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল, বারবার ঘুরেও চাহিদামতো রক্ত মিলছে না বলে অভিযোগ করছেন রোগীর পরিজনরা। কেন এই সঙ্কট? সূত্রের দাবি, পুজোর মরশুমে সেভাবে রক্তদান শিবির হয়নি। কেউ আবার দাবি করছেন, SIR-প্রক্রিয়ার ব্যস্ততার কারণে রক্ত সংগ্রহের ক্যাম্পে ভাঁটা পড়েছে।
একেই বলে, সঙ্কটের জোড়া ফলা! একদিকে রাজ্যে লাফিয়ে বাড়ছে ডেঙ্গি আক্রান্ত.....অন্যদিকে আশঙ্কা বাড়াচ্ছে রক্ত এবং প্লেটলেটের আকাল! তবে শুধু মশাবাহিত রোগে আক্রান্তরাই নন, অভিযোগ, সঙ্কটে ভুগছেন অন্যান্য রোগীরাও।তবে শুধু মশাবাহিত রোগে আক্রান্তরাই নন, অভিযোগ, সঙ্কটে ভুগছেন অন্যান্য রোগীরাও। মানিকতলা ব্লাডব্যাঙ্ক-সহ বিভিন্ন হাসপাতালে একই ছবি। মানিকতলার সেন্ট্রাল ব্লাড ব্যাঙ্ক থেকে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ, নীলরতন সরকার হাসপাতাল থেকে আর জি কর মেডিক্যাল বা ন্যাশনাল মেডিক্যাল- সব জায়গাতেই রক্তের সঙ্কট, এমনই অভিযোগ করছে রোগীদের আত্মীদের একাংশ।
এক রোগীর আত্মীয় বলছেন, 'ভাই সনাতন সোরেনের টিউমার থেকে ক্যানসার। ৬ মাস ধরে কলকাতা মেডিক্যালে ভর্তি। রক্তের জন্য অনেকবার গেছি। পাচ্ছি না। ডাক্তার বলছেন এমার্জেন্সি কেস, তাও দিচ্ছে না। ডোনার নিয়ে যাচ্ছি তাও পাচ্ছি না।' অনেকে বলছেন, রক্ত না মেলায় একরকম বাধ্য হয়ে অপারেশন পিছিয়ে দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। আরেক রোগীর আত্মীয় বলছেন, 'মা ৩ মাস ধরে ভর্তি।আগে ডোনেট করেছি। এখন বলছে দেওয়া যাবে না। বলছে ডোনার নিয়ে আস। ডাক্তার বলছে কার্ড নিয়ে যাও দেবে, ওরা বলছে দেবে না। এই নিয়ে ৫বার অপারেশন পিছিয়েছে।'
সরকারি ব্লাডব্যাঙ্ক থেকে রক্ত না মেলায় অনেককেই বাইরে থেকে চড়া দামে কিনতে হচ্ছে রক্ত বা প্লেটলেট। এক রোগীর আত্মীয় জানাচ্ছেন, তিনি ১২ ইউনিট প্লেটলেট ১২ হাজারে কিনেছেন। আরেক রোগীর আত্মীয় বলছেন, 'কালীঘাটের বেসরকারি ব্লাড ব্যাঙ্ক থেকে কিনে এনেছি। ১ ইউনিট রক্ত ১ হাজার ৬০০ টাকা। মানিকতলা, কলকাতা মেডিক্যালে পাইনি। তাই কিনেছি কালীঘাট থেকে।' অনেকেই বলছেন, পুজোর মরশুমে সেভাবে রক্তদান শিবির হয় না। ফলে প্লেটলেটের জোগান থাকে কম। সেই সঙ্কটকে তীব্র করেছে, রাজ্যজুড়ে SIR ব্যস্ততা।
ফলে, ডেঙ্গির প্রকোপের মধ্যে প্লেটলেট জোগাতে কার্যত হিমশিম খাচ্ছে ব্লাড ব্যাঙ্কগুলি। স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কর্ণধার ডি আশিস বলছেন, 'এই মুহূর্তে প্লেটলেট সময় মতো পাওয়া যাচ্ছে না। তার কারণ হচ্ছে রক্তদান শিবির খুব অপ্রতূল। রক্তদান কমার অন্যতম কারণ SIR। যাঁরা দাতা তাঁদের মধ্যে সকলেই এখন এরকম একটা প্রভাবে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। অনেক ব্লাড ব্যাঙ্ক বলছে রবিবার যেখানে আমাদের ১০টা করে ক্যাম্প হয়, সেখানে ২টো ক্যাম্প হচ্ছে।'
সাম্প্রতিক রক্তদান শিবিরের পরিসংখ্যানেও স্পষ্ট সঙ্কটজনক পরিস্থিতি। সূত্রের খবর, রবিবার কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের ব্লাডব্যাঙ্কের টিম ডাক পেয়েছে মাত্র ১টি ক্যাম্প থেকে। ১টিও রক্তদান শিবিরের সন্ধান পায়নি ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ। আর জি কর মেডিক্যাল ২টো শিবির থেকে রক্তের জোগান পেয়েছে। এনআরএস হাসপাতাল রক্ত পেয়েছে ৪টি ক্যাম্প থেকে। সর্বাধিক ১৩টি শিবির থেকে রক্ত সংগ্রহ করতে পেরেছে মানিকতলা সেন্ট্রাল ব্লাডব্যাঙ্ক।
রোগী লড়াই করছেন সুস্থতার লক্ষ্যে। আর আত্মীয়রা লড়াই করছেন রক্ত সংগ্রহ করতে। এই সমস্যা থেকে কোন পথে মিলবে রেহাই? জবাব খুঁজছেন সবাই।






















