Purba Burdwan News: 'শাহজাহান তো এ যুগের, ও মধ্যযুগের বর্বরতাকে ছাপিয়ে গেছে', এবার জামালপুরের তৃণমূল নেতার 'কর্মকাণ্ডে' শোরগোল !
TMC Leader: সন্ত্রাস, অত্য়াচার, জুলুমবাজি ! আচার-আচরণে ঠিক যেন সন্দেশখালির শেখ শাহাজাহান !

কমলকৃষ্ণ দে, জামালপুর (পূর্ব বর্ধমান) : এলাকা জুড়ে সন্ত্রাস, জুলুমবাজি ও অত্যাচার। উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালির পর কার্যত একই অভিযোগ উঠছে পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরেও। তুলনা উঠছে সন্দেশখালির ত্রাস শেখ শাহাজাহানের সঙ্গেও। গ্রামবাসীর অভিযোগ, গায়ের জোরে জমি দখলই হোক কিংবা সার কিনে টাকা না দেওয়া, সবকিছুর নেপথ্যে রয়েছেন তৃণমূল নেতা ফিরোজ শেখ। যদিও নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ফিরোজ শেখ নিজেই।
সন্ত্রাস, অত্য়াচার, জুলুমবাজি ! আচার-আচরণে ঠিক যেন সন্দেশখালির শেখ শাহাজাহান ! তবে এবার উত্তর ২৪ পরগনা নয়, ঘটনাস্থল পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরের বেরুগ্রাম। আর এখানেই উঠেছে তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে দাদাগিরির অভিযোগ! গ্রামবাসীর অভিযোগ, এই গ্রামেরই তৃণমূল নেতা ফিরোজ শেখের নেতৃত্বে এলাকা জুড়ে চলছে সন্ত্রাস।
যে কারণে তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে এককাট্টা হলেন গ্রামবাসী। বেরুগ্রামের বাসিন্দা বাদল মল্লিক বলেন, "আমার সঙ্গে ৩০ হাজার টাকার বালি নিয়েছে, একটা পয়সাও দেয়নি। শাহজাহান তো এ যুগের বর্বর। ও তো মধ্যযুগের বর্বরতাকেও ছাপিয়ে গেছে।"
গায়ের জোরে জমি দখল হোক কিংবা সার কিনে টাকা না দেওয়া। মারধর, অত্যাচার! অভিযোগ, সবকিছুর পিছনেই হাত রয়েছে তৃণমূল নেতা ফিরোজ শেখের। অভিযোগকারী জমির মালিক স্থানীয় রফিউদ্দিন মল্লিক বলেন, "এই জায়গাটা আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি। কয়েক পুরুষ ধরে ভোগ করছি। অনেক চেষ্টা করেছি, ওঁকে অনুরোধ করেছি যে কিছু টাকা অন্তত..কিন্তু হাতে-পায়ে ধরেও পাইনি।" অভিযোগ, এমনকী স্থানীয় মসজিদের জমিতে জিম সেন্টার গড়ে তুলতেও কুণ্ঠাবোধ করেননি এই তৃণমূল নেতা। স্থানীয় বাসিন্দা গোলাম মহম্মদ খান বলেন, "এখানে মানুষকে কোনও কথা বলতে দেয়নি। মসজিদের সম্পত্তি, আমাদের একটা সম্পত্তি পাশে আছে সামনে। ওটা একজনকে বিক্রি দেওয়া হয়ে গেছিল। সেটাও আমরা ঘুরিয়েছি।"
এখন প্রশ্ন, কোথা থেকে আসছে এই ক্ষমতা ?কাদের প্রশ্রয়ে ? মাথার উপর কার হাত ? স্থানীয় সূত্রে খবর, তৃণমূলের কোনও পদাধিকারী নেতা নন এই ফিরোজ শেখ। তবে ২০১৮ সাল থেকে, একটানা বেরুগ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান পদে রয়েছেন তাঁর স্ত্রী। নাম হাসনারা বেগম। গ্রামবাসীর দাবি, ৩ মাস আগে পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশ সুপারের কাছে মাস পিটিশনও জমা দেওয়া হয় অভিযুক্ত এই তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে। কিন্তু, তারপরও যে কে সেই।
এদিকে, নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত এই তৃণমূল নেতা। পাল্টা, স্থানীয় তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতিকেই কাঠগড়ায় তুলেছেন তিনি। ফিরোজ শেখ বলেন, "না না, এটা একেবারে ভিত্তিহীন এবং মিথ্যে অভিযোগ। আমার যে বেরুগ্রামে অঞ্চল সভাপতি, শাহাবুদ্দিন শেখ ওরফে দানি, উনি একটি বাড়ি করেছেন বেআইনি জায়গায়। ওখানে বেশ কিছু লোককে পয়সা নিয়ে বসিয়েছে। ওগুলো আমি প্রতিবাদ করায় আমায় মিথ্যে মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে। অবৈধ খাদ চালাত ও (শেখ শাহাবুদ্দিন)।"
এনিয়ে আক্রমণ করতে ছাড়েনি বিজেপি। রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, "এটা কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। কোচবিহার থেকে কাকদ্বীপ পর্যন্ত একই চিত্র। পাহাড় থেকে সাগর পর্যন্ত এই অবস্থার কোনও পরিবর্তন নেই। এখন আমাদের চিন্তার বিষয় এটাই, ক্ষোভ যে জায়গায় পৌঁছাচ্ছে, সরকার পরিবর্তনের পর তো তৃণমূল তৃণমূলকে আরও বেশি করে আক্রমণ করবে।"
যদিও তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন, "শেখ শাহজাহান, শেখ শাহজাহান করছেন কেন ? খারাপটা তো খারাপ। কিন্তু, তার থেকে যে বড় খারাপটা সিপিএম পুষে রেখেছিল, বিজেপি অন্য রাজ্যে পোষে, সেগুলো একটু বলুন।" তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে বর্ধমানের (দক্ষিণ) এসডিপিও জানিয়েছেন, সমস্ত ঘটনার তদন্ত করা হচ্ছে।






















