Regent Park 'Robbery' :জামাইবাবুর সঙ্গে ষড় ! নিজেই গয়না চুরি করে 'ডাকাতির গপ্পো', রিজেন্ট পার্কে গ্রেফতার অভিযোগকারিণীই
Kolkata News : সম্ভবত একটু কাঁচা থেকে গিয়েছিল গল্পের ভিত। আর সেই ফাঁকেই ধরা পড়ে গেলেন স্বয়ং অভিযোগকারিণী।

আবির দত্ত, কলকাতা : মুখে কাপড় গুঁজে, গলায় ছুরি ঠেকিয়ে দুঃসাহসিক ডাকাতি। মাথায় আঘাত। আতঙ্কে-ত্রাসে বুঁজে আসা গলা। কলকাতার রিজেন্ট পার্কের ডাকাতির অভিযোগের বর্ণনা ছিল হাড়হিম করা। কলকাতায় একের পর এক লুঠের ঘটনায় বড়সড় প্রশ্নের মুখে পড়ে যায় নাগরিকদের নিরাপত্তা। কিন্তু ২৪ ঘণ্টা পের হতে না হতেই দেখা গেল পুরোটাই 'সাজানো'। টানটান ক্রাইম থ্রিলারের ধাঁচে গল্প ফেঁদেছিলেন গৃহকর্ত্রী। কিন্তু সম্ভবত একটু কাঁচা থেকে গিয়েছিল গল্পের ভিত। আর সেই ফাঁকেই ধরা পড়ে গেলেন স্বয়ং অভিযোগকারিণী।
জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশের অনুমান, সোনার গয়না হাতাতে গৃহকর্ত্রী নিজেই ডাকাতির সাজানো অভিযোগ সাজিয়েছিলেন। কিন্তু পুলিশ তদন্ত এগোতেই বেশ কিছু ফাঁক খুঁজে পান। এতবড় ডাকাতির ঘটনা, তাও আবার ভর সন্ধেবেলায়, অথচ কোনও সিসিটিভি ক্যামেরাতেই কোনও ফুটেজ নেই ! এখন যে কোনও অপরাধের কিনারা করতেই পুলিশ সাহায্য নেয় এলাকায় সিসিটিভি ফুটেজের। সেই সূত্র ধরে এগোতে গিয়েই লাগে খটকা। অভিযোগকারিণীর উত্তরে ধরা পড়ে বড় ফাঁক।
এভাবেই মিথ্যা অভিযোগের পর্দাফাঁস করে কলকাতা পুলিশ। রিজেন্ট পার্কে লুঠপাটের অভিযোগ সংক্রান্ত ঘটনায় গ্রেফতার করা হয় খোদ অভিযোগকারী মহিলাকেই । সেই সঙ্গে গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁর জামাইবাবুকেও। পুলিশ সূত্রে খবর, সোনার গয়না হাতাতেই ডাকাতির গপ্পো ফেঁদেছিলেন ম্যুর অ্যাভিনিউর বাসিন্দা সোনালি বিশ্বাস। গত কয়েকমাস ধরেই আলমারি থেকে বাড়ির গয়না সরাচ্ছিলেন তাঁরা। তারপর নিজেদের চুরি ঢাকতেই ডাকাতির গপ্পো ফাঁদা, ধারণা পুলিশের। জিজ্ঞাসাবাদে সেকথা স্বীকারও করেছেন অভিযোগকারিণী। জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, শ্বশুরবাড়ি থেকে দেড়শো গ্রামের সোনার গয়না সরিয়ে ফেলেছেন মহিলা। তা খোয়া গেছে প্রমাণ করতেই ডাকাতির গপ্পো ফাঁদেন তিনি। পুলিশ সূত্রে খবর, কোনও একজন আত্মীয় সঙ্গে তাঁর কয়েক লক্ষ টাকার লেনদেন সংক্রান্ত বিষয়েও টানাপোড়েন চলছিল।
সোমবার ভর সন্ধেয় রিজেন্ট পার্কের ম্যুর অ্যাভিনিউতে, থানা থেকে মাত্র ২০০ মিটার দূরে বাড়িতে ঢুকে দুষ্কৃতী হামলার অভিযোগ ওঠে। গৃহকর্ত্রী সোনালি বিশ্বাসের অভিযোগ ছিল, তিনি দরজা খোলার সময়, জোর করে ফ্ল্যাটে ঢুকে পড়ে মুখোশে মুখ ঢাকা দুই দুষ্কৃতী। তাঁর মুখে কাপড় গুঁজে, গলায় ছুরি ঠেকিয়ে, তাঁকে দিয়েই আলমারি খুলিয়ে সোনার গয়না লুঠ করে পালায় দুষ্কৃতীরা।
পুলিশ সূত্রে খবর, সিসিটিভি ফুটেজে দরজা দিয়ে কাউকে বাড়িতে ঢুকতে দেখা যায়নি। ছাদ দিয়েও কেউ ঘরে ঢোকেনি। তাতেই সন্দেহ বেড়ে যায় তদন্তকারীদের। অভিযোগকারী মহিলার জামাইবাবু রাজা নাগকেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ।






















