BJP on Extortion: তোলাবাজি নিয়ে বার্তা শমীক, দিলীপ, অগ্নিমিত্রার; পাল্টা কটাক্ষ কুণাল ঘোষের, সরকার বদলালেও তোলাবাজির অসুখ কি সেরেছে?
Trinamool on BJP: বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বা অগ্নিমিত্রা পাল বক্তব্য রেখেছেন তোলাবাজি বন্ধ নিয়ে। আর বিজেপির শীর্ষ নেতাদের এই বার্তাকেই কটাক্ষ করছে 'কালীঘাট তৃণমূল'।

কলকাতা: বদলেছে সরকার, কিন্তু তোলাবাজির অসুখ? সেটা কি সারেনি? এই প্রশ্নই তুলে দিচ্ছে রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতাদের একের পর এক বার্তা। একদিকে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য আবার অন্যদিকে, প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি বা বর্তমান মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ থেকে আর এক মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। আর তোলাবাজি বন্ধ নিয়ে বিজেপির শীর্ষ নেতাদের এই বার্তাকেই কটাক্ষ করছে 'কালীঘাট তৃণমূল'।
আরও পড়ুন: অন্নপূর্ণা যোজনার ৩ হাজার টাকা কবে ঢুকবে আপনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে?
গত রবিবার, ২ অগস্ট সাংসদ ও রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য কর্মীদের হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, "প্রোমোটারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে পার্টি আপনাকে ছাড়বে না।" রাজনীতির রং পাল্টেছে। সরকার পাল্টেছে। কিন্তু, তোলাবাজি সংস্কৃতি কি পাল্টেছে? তোলাবাজির অসুখ কি সেরেছে?
একই দিনে পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বলেন, "তোলাবাজি সংস্কৃতি এত সহজে উঠে যাবে, এমন ভাবার কোনও কারণ নেই। আমাদের বহু নেতা আছেন, যাঁরা নতুন এই মধুতে আসক্ত হয়ে যাচ্ছেন।" তৃণমূল আমলে প্রায় প্রতিদিনই সিন্ডিকেট, তোলাবাজি, কাটমানি; শব্দগুলো শোনা যেত। নতুন সরকারের আমলে কি তা পরোপুরি বন্ধ হয়েছে? না কি বর্তমান সরকারের অস্বস্তিও বাড়ছে? ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের একের পর এক বার্তায় এই প্রশ্নই ক্রমশ জোরালো হচ্ছে।
রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, "সমস্ত কিছুর সমাধান করা যায়নি। আমি আমার দলের পক্ষ থেকে যদি দাঁড়িয়ে আপনাদের সামনে বলি যে আমি সমস্ত জায়গায় তোলাবাজি বন্ধ করে দিতে পেরেছি ভুল বলছি। বিচ্যুতি আছে। একটা পদ্ধতির মধ্য দিয়ে মানুষ দীর্ঘদিন চলে গেছে। একটা সহজ, মধ্য দিয়ে একটা সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছিল। ক্ষমতার পট পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সমস্ত পরিমণ্ডল বদল হয়ে গেছে, এরকম নয়।"
এরপর রবিবার শমীক আবারও বলেন, "সে পুলিশই হোক, আর সে বিজেপির কোনও নেতাই হোক, কাউকে প্রোটেকশন দিতে গেলে আর মিউনিসিপ্যালিটি অফিসে যাতায়াত বাড়িয়ে দিলে পার্টি তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। যা করবে সরকার করবে। পার্টি কিন্তু আপনাকে রেয়াত করবে না।"
তোলাবাজি রুখতে বার্তা দিতে হচ্ছে প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি থেকে হেভিওয়েট মন্ত্রীকেও। গতকাল পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বলেন, "তোলাবাজি সংস্কৃতি এত সহজে উঠে যাবে, এমন ভাবার কোনও কারণ নেই। পুলিশকেও বলা হয়েছে, এরকম অভিযোগ এলে তাদেরকে গ্রেফতার করা, ব্যবস্থা নেওয়া। এবং সেই তোলাবাজরাই আমাদের অনেক লোকের সঙ্গে চিপকে গেছে। আমাদের বহু নেতা আছেন, যাঁরা নতুন এই মধুতে আসক্ত হয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু পার্টিও নজর রেখেছে।"
আর এক হেভিওয়েট মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, "সবাইকে কি আমরা ডিটারজেন্ট আর ওয়াশিং মেশিনে ধুয়ে এনেছি, তা তো নয়। আজকে সরকার এসেছে, তার মধ্য়ে অনেকে আছে, তারা ভাবছে আমি এটা করে এবার রোজগার করব। সামনে একটা কথা বলব, ভিতরে বলব না না, তোলাবাজি করো, ৭০-৩০-এর হিসাবে ৭০ শতাংশ ৫ নম্বর সল্টলেকে পাঠিয়ে দেবে, আর ৩০ তুমি রাখবে। এই ডিলিংগুলো আগের সরকারের মতো আমরা করি না।"
তোলাবাজি বন্ধ নিয়ে বিজেপির শীর্ষ নেতাদের এই বারবার বার্তাকেই কটাক্ষ করছে তৃণমূল। বেলেঘাটার বিধায়ক ও 'কালীঘাট-তৃণমূল'-এর মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, "৩ মাস হয়নি একটা সরকারের, সেখানে শীর্ষ নেতৃত্বকে বলতে হচ্ছে তোলাবাজি নয়, তোলাবাজি নয়, তোলাবাজি নয়। তাহলে আপনারা এইটা প্রমাণ করে দিচ্ছেন যে বিজেপির এই একটা বড় অংশ এই তোলাবাজিতে ঢুকে গেছে। তৃণমূলের সময় যে দু-তিনজন তোলাবাজিতে নাম করেছিল তাদের থেকে তোলা তুলছে।"
শুধুমাত্র বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের বার্তায় কি আদৌ তোলাবাজি বন্ধ হবে? পুলিশ-প্রশাসন শুরু থেকে ব্য়বস্থা না নিলে কি পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে?























