Shatarup Ghosh : দিল্লিতে জুন মাল্যের হাতটা কে ধরল? নিচু তলার কর্মীদের প্রতি কী বিচার করছে BJP? যুক্তি-তক্কোয় ক্ষুরধার শতরূপ
শতরূপ ঘোষ একই বন্ধনীতে রেখে আক্রমণ করেন তৃণমূল ও বিজেপিকে। ইস্যু তুলে তুলে বিদ্ধ করেন উভয়কেই।

''গুণ্ডামি রুখবই,' সরকার বলছে,/
তাও দেখি তোলাবাজি একইভাবে চলছে!/
ব্রেকফাস্ট, হাই-টি আর মাখোমাখো ভোজনে-/
বিরোধীকে মাপা হল বন্ধুর ওজনে!/
কালকের কটুভাষী আজকেই মিত্র,/
তৃণমুলীকরণের কী আজব চিত্র!''
এবিপি আনন্দ-র যুক্তি-তক্কো অনুষ্ঠানে বাম নেতা শতরূপ ঘোষ একই বন্ধনীতে রেখে আক্রমণ করেন তৃণমূল ও বিজেপিকে। ইস্যু তুলে তুলে বিদ্ধ করেন বিজেপির প্রতিনিধি এবং কালীঘাট ও ঋতব্রত তৃণমূল নেতাকে। প্রশ্ন তোলেন, বিজেপির তৃণমূলীকরণের আর বাকিটা কী রইল?
বিজেপির তৃণমূলীকরণের খোঁচা
শতরূপ বলেন, ' এই মুহূর্তে আমাদের পশ্চিমবাংলা চলছে মোটামুটি ৮০ শতাংশ ভালো তৃণমূল আর ২০ শতাংশ বিজেপি দিয়ে। এখন তৃণমূল সম্পর্কে যে কথাগুলো সজলদা বললেন, এগুলো তো আজকে নতুন নয়। এখন তো তৃণমূল সরকারে নেই, এখানে বলে কী হবে। গত পনেরো বছর ধরে এই কথাগুলো, আমরাও বলেছি, বিজেপিও বলেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের চোর, টাকা, ধর্ষক, তোলাবাজ ভরে আছে। এই চুরি, ডাকাতি, ধর্ষণ কারা করেছিল? তৃণমূলের পার্টি অফিসের টেবিল - চেয়ারগুলো তে করেনি। এমনকি তৃণমূল কংগ্রেসকে ভোট দেওয়া কোনো তৃণমূলের সাধারণ সমর্থকও তো করেনি। করেছিল তো তৃণমূলের কয়েকজন নেতা। শতরূপ আরও বলেন, ' বিজেপি ক্ষমতায় আসায় পশ্চিমবঙ্গে আর কী উপকার হয়েছে না হয়েছে জানি না, কিন্তু একটা বিরাট উপকার হলো। বিজেপি এবার ভোটে না জিতলে, জানতেই পারতাম না তৃণমূলে এত ভালো মানুষ আছে। '
ঋতব্রত নিয়ে খোঁচা
'যুক্তি তক্কো'-র মঞ্চে অপর বক্তা বিধায়ক কুণাল ঘোষকেও শতরূপ বিদ্ধ করলেন ঋতব্রত-বাণে। শতরূপ বললেন, 'আপনি একটা কথা বললেন, আপনি বলেছেন, আমাকে কেউ চোর বলতে পারে, কিন্তু এই খারাপ দিন আমাকে গদ্দার বলতে পারবে না। আবার ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন, আমাকে কেউ গদ্দার বলতে পারে, কিন্তু আমাকে কেউ চোর বলতে পারবে না। সত্যি কথা বলতে, আমাকে যেহেতু গদ্দারও বলা হয় না, চোরও বলা হয় না, তাই দুটো শব্দের মধ্যে কোনটা শুনতে বেশি আনন্দ হয়, সেটা আমি ঠিক জানি না। তবে একটা কথা বলি। আপনি এখানে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে দলে নেওয়ার প্রসঙ্গে বললেন, তখন নাকি আপনাদের আপত্তি ছিল। কিন্তু তার কোনও প্রমাণ নেই। এখন আপনি বললে আমাদের বিশ্বাস করতে হবে।
শতরূপ আরও বলেন, একটা বাংলা প্রবাদ আছে “চোর পালালে বুদ্ধি বাড়ে।” কথাটার মধ্যে একটা বড় শিক্ষা আছে। যদি সেই সময় আপনাদের মনে থাকত, যদি আপনাদের দলের সর্বোচ্চ নেতাদেরও সেই কথাটা মনে থাকত, তাহলে যখন আমরা বলেছিলাম, কুণালদা, সিপিএমের খারাপ সময়ে সিপিএমকে ছুরি মারছে, তৃণমূলের খারাপ সময়ে তৃণমূলও থাকবে না, তখন আমাদের নিয়ে ব্যঙ্গ করার দরকার ছিল না। তখন আপনারা বলেছিলেন, সিপিএমের পার্টি অফিসে এখন লালবাতি জ্বলে গেছে, ওদের দলে আর কেউ যাবে না। এখন উন্নয়নে সামিল হওয়ার জন্য মানুষ আমাদের দলে আসছে ... কিন্তু আজ দেখতে পাচ্ছেন তো, বাস্তবটা কী হয়েছে। আপনাদের খারাপ সময়ে আমাদের সঙ্গে থাকেননি। আপনাদের খারাপ সময়ে আমাদের পাশে নেই। বিজেপির খারাপ সময়ে বিজেপির সঙ্গেও থাকবে না।
শমীক ভট্টাচার্যকে খোঁচা
এদিন শতরূপ বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকে খোঁচা দিতেও ছাড়েননি। একসময় বিজেপি অভিযোগ করত, এ রাজ্যে সিপিএম ও তৃণমূল আঁতাত করে চলে । এখন এই পরিস্থিতিতে তৃণমূলের সাংসদ জুন মাল্যর সঙ্গে সংসদ ভবনে শমীক ভট্টাচার্যর কথা বলা নিয়েও কটাক্ষ করেন শতরূপ। ' কী নাটকের সংলাপ! আরে প্রেম করলে দূরে কেন? কাছে এসো, এদিকে এসো, এসো না। সিপিএম, যে ছোটবেলা দেখতাম, পাড়ায় প্রেম করত, ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে দূরে গিয়ে করত। এখন সিপিএম বলে এখানে নয়, দিল্লি চলো। আরে দূরে দূরে প্রেম হয়, কাছে এসে হাতটা ধরো, কী না কী শুনেছিলাম। এখন দিল্লি গিয়ে জুন মাল্যর হাতটা কে ধরল শমীকবাবু?'
রাজ্যে পালাবদলের পর বিজেপি ও তৃণমূলের নৈকট্যের অভিযোগ তুলে কড়া ভাষায় আক্রমণ শানান শতরূপ। বলেন, পুরো বিজেপি দলটাই তৃণমূলের লোকেদের দিয়ে তৈরি। প্রশ্ন তোলেন, বর্তমানে এনসিপিআই এর সদস্য হয়ে জুন মাল্যর মতো সাংসদরা শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে হাত মেলাচ্ছেন, নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ব্রেকফাস্ট সারছেন, এক সময় তিনিই ভোটের ফল বেরোলে বিজেপি কর্মীদের দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন। শতরূপ মনে করান, সজল ঘোষদা বলে নাকি, আমাদের পার্টিটা তৃণমূল নয়। ওখানে মমতা ব্যানার্জিকে গালাগাল দিয়ে , তারপর তৃণমূলে ঢুকে যাওয়া যায়, আমাদের পার্টিতে এরকমভাবে মোদিকে গালিগাল দিয়ে ঢোকা যায় না। তাই নাকি? শুভেন্দু অধিকারী মোদিকে গালাগাল দেয়নি কখনও? নাম শুনেছ শুভেন্দু অধিকারী বলে কারও? মোদিকে চোর, দাঙ্গাবাজ, কি না বলতেন ! সে এখন তোমা র মুখ্যমন্ত্রী। তুমি নিজে গালিগাল দাওনি বিজেপিকে? যখন কংগ্রেস করতে, যখন তৃণমূল করতে ... গোটা বিজেপিই তো তৈরি হয়েছে বিজেপিকে গালিগাল দেওয়া লোকেদের নিয়ে।
ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে খোঁচা
শতরূপ বলেন, '২০১১ - র পর থেকে ২০২১ পর্যন্ত গানপয়েন্টে আমরা ছিলাম। আমাদের কর্মীরা প্রাণ দিয়েছে, রক্তাক্ত হয়েছে, খুন হয়েছে, আমাদের ঘরবাড়ি ভাঙা হয়েছে। আমার এটা বলতে কোনো দ্বিধা নেই। ২০২১ র বিধানসভা ভোটের পরে যেহেতু বিজেপি প্রধান প্রতিপক্ষ বলে উঠে আসল এবং আমরা বামপন্থীরা পিছিয়ে গেলাম। ২০২১ এর পরে আমাদের থেকে অনেক বেশি পোস্টপোল ভায়োলেন্সের শিকার হয়েছে বিজেপি কর্মীরা। এই নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। খুন হয়েছে, ঘর ছাড়া হয়েছে। তোমরা সেই কর্মীদের প্রতি কী বিচার করছ আজকে?'
সায়নী - খোঁচা
তথাগত রায়কে কটাক্ষ করে শতরূপ বলেন, তিনি তো একসময় সায়নী ঘোষের বিরুদ্ধে হিন্দু ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত দেওয়ার অভিযোগ করে মামলা করেছিলেন। কিন্তু এখন তো মোদি ও সায়নী ঘোষ ব্রেকফাস্ট করছেন। এক ফ্রেমে ধরা পড়ছেন !
হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ হল?
হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে বিজেপি উস্কানিমূলক মন্তব্য করার জন্য কী পদক্ষেপ করল , তা নিয়েও প্রশ্ন করেন শতরূপ। বলেন, গ্রেফতার তো হল ওঁর সভায় যারা মাইক দিয়েছিল, প্যান্ডেল বেঁধেছিল, কিন্তু হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে কী হল !
আজকের রাজনীতিতে শত্রুর বন্ধু, আর বন্ধুর শত্রু হতে দু-দিনও সময় লাগে না। আর তাই তো কী অনায়াসে, চারমাস আগেও একে অপরকে যাঁরা চূড়ান্ত আক্রমণ করছেন, তাঁরাই একসঙ্গে ব্রেকফাস্ট খাচ্ছেন, আর হাই-টি-তে যাচ্ছেন। বিষয়টা স্পষ্ট ভারতীয় রাজনীতিতে । আর সেই বিষয়টাই চোখে আঙুল দিয়ে দেখালেন শতরূপ ঘোষ।
Before You Go
Jadavpur University: মেরামত করে ফিরল ঐতিহ্যের এমব্লেম, ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি যাদবপুরে






















