Sikkim Landslide : সিকিমে ভয়াবহ ধস, নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল ঘর-বাড়ি, সরকারি আবাসন, চারিদিকে হাহাকার
ভয়াবহ ধসের কবলে পড়ল সিকিমের ইয়ুকসাম। ধসের কবলে পড়ল দার্জিলিংয়ের গ্রামীণ হাসপাতালও।

মোহনপ্রসাদ, দার্জিলিং : পাহাড়ে নাগাড়ে বৃষ্টির জেরে পশ্চিম সিকিমের ইয়ুকসামে নামল ভয়াবহ ধস। চাপা পড়েছে একাধিক বাড়ি ও সরকারি আবাসন। বৃষ্টিতে ভেঙে পড়ল পশ্চিমবঙ্গের তাকদা গ্রামীণ হাসপাতাল ভবনের একাংশ। সেখানে এখনও পর্যন্ত প্রাণহানির কোনও খবর নেই। তবে মহানদীর কাছে ১১০ নম্বর জাতীয় সড়কে ধস নামায় ব্যাহত হয় যান ও টয় ট্রেন চলাচল।
ভয়াবহ ধসের কবলে পড়ল সিকিমের ইয়ুকসাম। ধসের কবলে পড়ল দার্জিলিংয়ের গ্রামীণ হাসপাতালও। দেওয়াল ভেঙে ঢুকে পড়ল জল-কাদার স্রোত! সেই সঙ্গে বিপদের মুখে পড়ল এ রাজ্যের দুধিয়ার অস্থায়ী সেতু। ধস নামল, ১১০ নম্বর জাতীয় সড়কে।
৩ বছরের মাথায় ফের ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার সাক্ষী হল সিকিম। একটানা বৃষ্টির জেরে বৃহস্পতিবার রাতে ধস নামে পশ্চিম সিকিমের কিছু এলাকায়। মুহূর্তের মধ্যে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় বেশ কিছু বাড়ি। উপড়ে ভেসে যায় গাছপালা। ঘটনায় বড়সড় ক্ষতির মুখে পড়েছে পশ্চিম সিকিমের ইয়ুকসাম-তাশিডিং বিধানসভা এলাকার রিম্বি গ্রাম। মাটির তলায় চাপা পড়েছে গ্যালশিং জেলার একাধিক বাড়ি ও সরকারি আবাসন। ঘটনার পরই শুরু হয়েছে উদ্ধারকাজ।
ক্ষতিগ্রস্ত বহু পরিবারকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, নতুন করে ধস ও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কায় ঢালু এলাকা বাসিন্দারা নিরাপদ জায়গায় সরে গিয়েছেন। ধসের কারণে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে উদ্ধারকাজ। রিম্বিতে ভয়াবহ ধসের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে X POST করেছেন সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী প্রেম সিং তামাং। তিনি লিখেছেন, এই কঠিন সময়ে রিম্বির মানুষের পাশে রয়েছে সরকার। পরিস্থিতি এখনও গুরুতর। মানুষের নিরাপত্তাই আমাদের সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমস্তরকম পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
টানা বৃষ্টিতে ধসের কবলে পড়েছে দার্জিলিঙের তাকদা গ্রামীণ হাসপাতালও। দেওয়াল ভেঙে ডল-কাদার স্রোত ঢুকে পড়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, হাসপাতাল একাংশ। স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে খবর, কাদামাটির তলায় চাপা পড়ে আহত হয়েছে এক রোগীর আত্মীয়।
তাঁকে নিয়ে পাঠানো হয়েছে দার্জিলিং জেলা হাসপাতালে। প্রশাসন সূত্রে খবর, নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে তাকদা হাসপাতালের বাকি রোগীদের সরিয়ে আনা হয়েছে জেলা হাসপাতালে। তাকদা হাসপাতালের ক্ষতিগ্রস্ত অংশের মেরামতি কাজ শুরু হয়েছে। পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে প্রশাসন।
এর পাশাপাশি, এদিন সকালে ধস নামে ১১০ নম্বর জাতীয় সড়কের মহানদীর কাছে। ব্যাহত হয় গাড়ি ও টয় ট্রেন চলালল। টানা বৃষ্টির জেরে, পাহাড়ি নদীগুলির জলস্তর বেড়েছে। ধসের কারণে বন্ধ হয়ে গিয়েছে বেশ কিছু রাস্তা। দুধিয়ায় ফের ভেসে গিয়েছে হিউম পাইপ দিয়ে তৈরি ব্রিজ। এর আগে একাধিক বিপর্যয়ের সাক্ষী হয়েছে সিকিম।
২০২৩ সালে ৩ অক্টোবর ভোরে, মেঘভাঙা বৃষ্টির জেরে উত্তর সিকিমে ফেটে যায় দক্ষিণ লোনক লেক। হুড়মুড়িয়ে নেমে আসা জলের চাপে ভেঙে যায় চুংথাম ড্যাম। উত্তর সিকিমের ঘুম ভাঙার আগেই ভোরের অন্ধকারে হড়পা বান নেমে আসে তিস্তায়।
উত্তর সিকিমের সিংতামের কাছে বরদাংয়ের সেনাছাউনিতে কাদাজলের নীচে চাপা পড়ে যায় সেনাবাহিনীর ৪১টি গাড়ি। ডুবে যায় সেনা ছাউনি। ভেসে যান জওযানরা।
চলতি বছরের ২০ জুলাই সিকিমের নামচিতে NHPC-র তিস্তা স্টেজ-6 জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য সুড়ঙ্গ তৈরির কাজ চলাকালীন
ধস নেমে বন্ধ হয়ে যায় সুড়ঙ্গের মুখ। ভিতরেই আটকে পড়ে মৃত্য়ু হয় বেশ কয়েকজন শ্রমিকের। সেই সব ঘটনার পর এবার বিপর্যস্ত পশ্চিম সিকিম।
Before You Go
CM Suvendu Adhikari : আলোকসজ্জা, পুরকর্মীদের বকেয়া! আর কী জানালেন মুখ্যমন্ত্রী?






















