Sonali Bibi : 'যতদিন মমতা ব্যানার্জি এখান থেকে টাকা দিয়ে পাঠাতেন, খেতে পেতাম', অসুস্থতার কারণে হাসপাতালে সোনালি বিবি
India-Bangladesh News: জুন থেকে ডিসেম্বর, প্রায় সাড়ে পাঁচ মাস। ১৬২ দিন। অন্তত ৩৮৮০ ঘণ্টা। বিভীষিকার মধ্য়ে কাটিয়ে দেশে ফেরা !

অভিজিৎ চৌধুরী, ভাস্কর মুখোপাধ্যায়, জয়ন্ত পাল : শুক্রবার বাংলাদেশ থেকে দেশে ফিরেছিলেন। আজ নিজের গ্রামে ফিরলেন সোনালি বিবি। তবে এখনও বাংলাদেশে আটকে রয়েছেন তাঁর স্বামী ও সুইটি বিবির পরিবার। এদিকে অসুস্থতার কারণে সোনালিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। যদিও তিনি আর দিল্লিতে কাজে যেতে চান না।
জুন থেকে ডিসেম্বর, প্রায় সাড়ে পাঁচ মাস। ১৬২ দিন। অন্তত ৩৮৮০ ঘণ্টা। বিভীষিকার মধ্য়ে কাটিয়ে দেশে ফেরা ! যেন অবশেষে জীবনের কিছুটা সোনালি রেখা দেখতে পেলেন সোনালি বিবি। কিন্তু এখনও বাংলাদেশে আটকে রয়েছেন সুইটি বিবি ও তাঁর দুই ছেলে।
বাংলাদেশ ফেরত বীরভূমের পরিযায়ী শ্রমিক সোনালি বিবিকে প্রশ্ন করা হয়, ওখানকার অভিজ্ঞতা কেমন আপনার ? উত্তরে সোনালি জানান, 'পুলিশ অত্যাচার করেনি, কিছু করেনি। যতদিন মমতা ব্যানার্জি এখান থেকে টাকা দিয়ে পাঠাতেন, তো খেতে পেতাম। নিজের দেশ তো দেশই হয়।' বাংলাদেশ থেকে খাবার দিত না ? এই প্রশ্নের উত্তরে সোনালি বিবি বলেন, "না, বাংলাদেশ থেকে দিত না। জেলে যে খাবার দিত, জেলের খাবার তো জানেন কেমন। হয়ে যেত, ওই খেতাম।"
৮ বছরের ছেলেকে নিয়ে শনিবারই বাংলাদেশে থেকে ফিরেছেন অন্তঃসত্ত্বা সোনালি। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে শুক্রবার সন্ধেয়, মালদায় ভারত-বাংলাদেশের মহদিপুর সীমান্ত দিয়ে তাঁদের ফিরিয়ে আনা হয়। নিয়ে যাওয়া হয় মালদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে নানারকম পরীক্ষা করা হয়। পরিযায়ী শ্রমিক হিসাবে একসময় যে দিল্লিতে গেছিলেন, সেখানকার পুলিশ সম্পর্কে এদিন একরাশ ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন সোনালি বিবি। তিনি বলেন, "দিল্লি পুলিশ অনেক অত্যাচার করেছিল। আমরা এত অনুরোধ করলাম, ওদের পায়ে-হাতে ধরলাম, BSF যখন জঙ্গলে ছাড়ে, ওদেরও পায়ে-হাতে ধরলাম, তাও ওরা কোনও মতেই মানল না। তাও আমাদের জবরদস্তি জঙ্গলে ছেড়ে দিল।" এরপরেও কি দিল্লি যাবেন? জানতে চাওয়া হয়েছিল সোনালি বিবির বৌদি সীমা বিবিকে। তিনি বললেন, "আমরা এখানে আশা না পেলে আমাদেরকে দিল্লি যেতেই হবে। আমাদের ছেলেকে পালন করার জন্য।"
শনিবার বেলা ১২টা নাগাদ অ্যাম্বুল্যান্সে করে নিয়ে আসা হয় বীরভূমের পাইকর গ্রামে। নিজের গ্রামে ফিরলেও, এদিন ঘরে ঢুকতে পারেননি সোনালি। অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাঁকে রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সূত্রের দাবি, সোনালি বিবির দেশে ফেরা প্রসঙ্গে ঘনিষ্ঠ মহলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, এটা পশ্চিমবঙ্গের জয়। কারণ, রাজ্য়ের মানুষের উপর দিল্লির জমিদারদের অত্যাচারের কাছে আমরা মাথা নত করিনি। পশ্চিমবঙ্গ-বিরোধী বিজেপি, আরও যাঁদেরকে বেআইনিভাবে বাংলাদেশে পাঠিয়েছে, তাঁদের ফেরানোর জন্য় আমাদের লড়াই চলবে। এর পাশপাশি তৃণমূল সূত্রে দাবি, শীঘ্রই সোনালি বিবি ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে দেখা করবেন অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়।
এ প্রসঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক ও নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী শশী পাঁজা বলেন, "যারা বাংলা বলে বলে, বাংলাদেশি করে দিলেন, এই ৬ মাস ধরে সংবিধানের বিরুদ্ধে যারা কাজ করেছে সেই কেন্দ্রীয় সরকারের মুখে ঝামা ঘষে দিয়েছেন সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।" বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলছেন, "এই ধরনের ১০০, ৮০০, ৮ হাজার সোনালি বিবিদের সঙ্গে সঙ্গে লক্ষ লক্ষ রূপালি খাতুন ছড়িয়ে আছে। সুতরাং পশ্চিমবঙ্গের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা শুধু বিঘ্নিত নয়, পশ্চিমবঙ্গের কারণে জাতীয় নিরাপত্তা কম্প্রোমাইজড হয়েছে।"
অসুস্থতার কারণে এদিন ফের অন্তঃস্বত্ত্বা সোনালিকে ভর্তি করা হয়েছে হাসপাতালে। প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ অধীর চৌধুরী বলেন, "সোনালি বিবির উপর অন্যায়টা আমরা সবাই ঘৃণা করি, নিন্দা করি। তাঁকে অন্যায় করে SIR, বাংলাদেশি, ফালতু ফালতু সমস্ত তকমা লাগিয়ে তাঁর জীবনে যে অপমানটা তাঁকে সহ্য করতে হয়েছে, তার কে ক্ষতিপূরণ দেবেন বলুন।"
সোনালি বিবি ছেলেকে নিয়ে ফিরলেও, এখানও বাংলাদেশে আটকে রয়েছেন তাঁর স্বামী এবং আরেক পরিযায়ী শ্রমিক সুইটি বিবি ও তাঁর দুই ছেলে।






















