Sheikh Shahjahan: জেলবন্দি শেখ শাহজাহান, শাগরেদদের অস্ত্রভাণ্ডারের পর্দাফাঁস, গ্রেফতার শেখ শাহজাহান ঘনিষ্ঠ, তাহলে কি নেটওয়ার্কের নিয়ন্ত্রণ এখনও জেলে থাকা শেখ শাহজাহানের হাতেই ?
Sandeshkhali Arms Recovered: জেলবন্দি সন্দেশখালির একদা ত্রাস শেখ শাহজাহান। কিন্তু নেটওয়ার্কের রিমোট কন্ট্রোল কি এখনও তাঁরই হাতে?

ময়ূখ ঠাকুর চক্রবর্তী, সন্দেশখালি : শেখ শাহজাহানের খাসতালুক সন্দেশখালিকে একের পর এক জায়গায় মিলল অস্ত্রভাণ্ডারের খোঁজ। উদ্ধার হয়েছে ১৮টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৫৬ রাউন্ড কার্তুজ। শাহজাহান ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতার বাড়ির পুকুরেই মিলল ১৩টি আগ্নেয়াস্ত্র। আগের সরকারের আমলে এমন অস্ত্র মজুত হত। অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার বজায় থাকবে, পোস্টে লিখলেন মুখ্যমন্ত্রী। পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃত ৬ জনই শেখ শাহজাহানের ঘনিষ্ঠ।
উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালিতে উদ্ধার প্রচুর আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসন্তীকে গ্রেফতার তৃণমূল পঞ্চায়েত প্রধানের স্বামী রমজান মোল্লা সহ কয়েকজন। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সন্দেশখালিকাণ্ডের পর যখন গা ঢাকা দেন শেখ শাহজাহান, তখন বেশ কিছুদিন তিনি লুকিয়ে ছিলেন এই রমজান মোল্লার বাড়িতেই।
জেলবন্দি সন্দেশখালির একদা ত্রাস শেখ শাহজাহান। কিন্তু নেটওয়ার্কের রিমোট কন্ট্রোল কি এখনও তাঁরই হাতে? বহিষ্কৃত তৃণমূল নেতার খাসতালুক সন্দেশখালিতে বিপুল অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় ফের উঠছে এই প্রশ্ন। ঘটনায় বাসন্তী থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে চড়াবিদ্যা পঞ্চায়েতর তৃণমূল প্রধানের স্বামী ছেলে ভাইপো-সহ ৬ শাহজাহান ঘনিষ্ঠকে।
শনিবার সকাল থেকে NIA, বেঙ্গল STF এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর দল তল্লাশি শুরু করে, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার বেশ কিছু জায়গায়। উদ্ধার করা হয় ১৮টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৫৬ রাউন্ড কার্তুজ। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসন্তী থানার কুমড়োখালি গ্রামে বাড়ি তৃণমূল নেতা রমজান মোল্লার। এই ব্যক্তি সম্পর্কে শেখ শাহজাহানের দূর সম্পর্কের আত্মীয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সন্দেশখালিকাণ্ডের পর যখন গা ঢাকা দেন শেখ শাহজাহান, তখন বেশ কিছুদিন তিনি লুকিয়ে ছিলেন এই রমজান মোল্লার বাড়িতে।
২০২৪ সালের ৫ জানুয়ারি, রেশন কেলেঙ্কারির তদন্তে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে নিয়ে শেখ শাহজাহানের বাড়িতে পৌঁছয় ED. তাঁদের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালায় শেখ শাহজাহানের শাগরেদরা। রক্তাক্ত হন এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের আধিকারিকরা। শাহজাহান ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে লুকআউট সার্কুলার জারি করে ইডি। এরপরই শেখ শাহজাহানের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন সাধারণ মানুষ। দফায় দফায় অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে সন্দেশখালি।
তীব্র চাপের মুখে, হামলার ৫৫ দিন পর মিনাখাঁ থেকে শেখ শাহজাহানকে গ্রেফতার করে রাজ্য পুলিশ। গ্রেফতারির পর প্রায় ২৭ মাস কেটে গেছে। CBI ও ED, দুই কেন্দ্রীয় এজেন্সির মামলাতেই জেল হেফাজতে রয়েছেন শেখ শাহজাহান। কিন্তু, তারপরেও কি তাঁর নেটওয়ার্ক চলছে আগের মতো? জেলে বন্দি থাকলেও দাপট কি এতটুকু কমেনি শেখ শাহজাহানের? শাহজাহান জেলে থাকলেও সন্দেশখালির ছবিটা যে বদলায়নি, তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে সাক্ষীর গাড়ি দুর্ঘটনা। আদালতে যাওয়ার পথে, বয়ারমারির কাছে, সাক্ষী ভোলানাথ ঘোষের গাড়িতে সজোরে ধাক্কা মারে একটি ট্রাক। ভোলানাথ ঘোষ বেঁচে গেলেও ট্রাকের ধাক্কায় প্রাণ চলে যায় শেখ শাহজাহান মামলার অন্যতম সাক্ষীর ছেলের, মৃত্যু হয় তাঁর ড্রাইভারের। এবার জেলে বসে অস্ত্রের নেটওয়ার্ক চালানোর অভিযোগ উঠল সেই শেখ শাহজাহানের বিরুদ্ধে।





















