Second Heart Attack Risks: হাসপাতালে চিকিৎসা চলছিল, অস্ত্রোপচারের আগেই দ্বিতীয় হার্ট অ্যাটাক, দেব আনন্দের ছেলের মৃত্যুতে হৃদরোগ নিয়ে বাড়ল উদ্বেগ
Suneil Anand Dies: দ্বিতীয় বার হার্ট অ্যাটাক। মারা গেলেন দেব আনন্দের ছেলে। কতটা ঝুঁকিপূর্ণ দ্বিতীয় হার্ট অ্যাটাক?

নয়াদিল্লি: হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর চিকিৎসাধীন ছিলেন। সেই অবস্থাতেই দ্বিতীয় বার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু। কিংবদন্তি অভিনেতা দেব আনন্দের ছেলে সুনীল আনন্দের মৃত্যুতে নয়া তথ্য সামনে এল। আর তাতেই ‘রেকারেন্ট হার্ট অ্যাটাকে’র ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। প্রথম হার্ট অ্যাটাকের পর দ্বিতীয় বার হার্ট অ্যাটাক হলে, তাতে বিপদ বেশি বলে মত বিশেজ্ঞদেরও। (Suneil Anand Dies)
কী ভাবে মৃত্য়ু সুনীল আনন্দের?
সুনীলের পরিবার জানিয়েছেন, আমেরিকা থেকে ব্রিটেন হয়ে ভারতে ফেরার কথা ছিল তাঁরর। লন্ডনেই প্রথম হার্ট অ্যাটাক হয়। সেখানকার হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। বুকে স্টেন্ট বসানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন চিকিৎসকেরা। কিন্তু সেই প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগেই দ্বিতীয় বার হার্ট অ্যাটাক হয় সুনীলের। শত চেষ্টা করেও তাঁকে বাঁচানো যায়নি। লন্ডনের যে হাসপাতালে দেব আনন্দ মারা গিয়েছিলেন, সুনীলও সেখানেই মারা গিয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে। (Second Heart Attack Risks)
আরও পড়ুন: প্রয়াত অভিনেতা সুনীল আনন্দ, কিংবদন্তি দেব আনন্দের ছেলে, বিদেশের মাটিতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন
দ্বিতীয় হার্ট অ্যাটাক কেন বিপজ্জনক?
এই ঘটনায় দ্বিতীয় হার্ট অ্যাটাক নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রথম হার্ট অ্যাটাকের পর বেঁচে ফিরে আসার সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু দ্বিতীয় বার হলে ঝুঁকি অনেক বেশি। NDTV-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে চিকিৎসক আশিস কুমার জানিয়েছেন, প্রথম হার্ট অ্যাটাকের পর হৃদযন্ত্র দুর্বল হয়ে পড়ে। স্থায়ী ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে পেশির কিছু অংশ। সেই অবস্থায় যদি দ্বিতীয় বার হার্ট অ্যাটাক হয়, সেক্ষেত্রে হৃদযন্ত্র আগের মতো সুস্থ-সবল থাকে না। রক্তের প্রবাহে বাড়তি বাড়তি বাধার সৃষ্টি হলে, তা সামাল দিতে পারে না পেশিগুলি। ফলে দ্বিতীয় হার্ট অ্যাটাক হলে, সে যত সামান্যই হোক না কেন, তা অনেক বেশি বিপজ্জনক এবং প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।
বুকে স্টেন্ট বসালে বা অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি হলেই দ্বিতীয় বার হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমে যায় বলে যে ধারণা প্রচলিত রয়েছে, তাও ভুল বলে মত বিশেষজ্ঞদের। তাঁদের মতে, স্টেন্ট অবরুদ্ধ ধমনী খুলে দিয়ে রক্তের প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য় করে। কিন্তু যে কারণে ধমনীতে ওই প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছিল, সেই মূল রোগের নিরাময় হয় না। ধমনীর সমস্যা একটি দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা। তাই শুধু স্টেন্টের দ্বারা তার নিষ্পত্তি সম্ভব নয়। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়বিটিস, ধূমপান, কোলেস্টেরল, ওজন নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত জরুরি। নইলে পুনরায় অবরুদ্ধ হয়ে পড়তে পারে ধমনী।
আরও পড়ুন: মৃত্যুর পর কালিমামুক্ত হলেন মনমোহন সিংহ, ক্লিনচিট দিয়ে সুপ্রিম কোর্ট বলল, ‘যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণ ছিল না’
একটি হার্ট অ্যাটাক সাধারণত ঘটে যখন একটি করোনারি ধমনীতে রক্ত প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়, প্রায়শই একটি এথেরোস্ক্লেরোটিক প্লেক ফেটে যায় এবং রক্ত জমাট বাঁধে। অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি, স্টেন্ট এবং বাইপাস সার্জারির মতো চিকিৎসা রক্ত প্রবাহ পুনরুদ্ধার করতে পারে, তবে তারা অগত্যা ধমনীর ফলক তৈরির প্রবণতা দূর করে না। অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপ, উচ্চ কোলেস্টেরল, ডায়াবেটিস, ধূমপান, স্থূলতা, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ করোনারি ধমনী রোগের অগ্রগতিতে অবদান রাখতে পারে। এর মানে হল যে একজন রোগী ভাল বোধ করার পরেও, এই কারণগুলিকে সম্বোধন করা না হলে অন্য কার্ডিয়াক ইভেন্টের ঝুঁকি থাকতে পারে।
হৃদপিণ্ডে রক্ত সঞ্চালনকারী ধমনী দিয়ে রক্তপ্রবাহ বন্ধ হয়ে গেলে হার্ট অ্যাটাক হয়। অ্যাথেরোস্কলেরোটিক প্লেক ফেটে যায়, জমাট বাঁধে রক্ত। অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি, স্টেন্ট বা বাইপাস সার্জারির মাধ্যমে পুনরায় রক্তপ্রবাহ স্বাভাবিক করা গেলেও, তা ধমনীতে পুনরায় প্লেক তৈরি হওয়া আটকাতে পারে না। উচ্চ রক্তচাপ, অত্যধিক কোলেস্টেরল, ডায়বিটিস, ধূমপান, স্থবলতা, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, মানসিক চাপ হার্ট অ্যটাকের নেপথ্যকারণ।
দ্বিতীয় হার্ট অ্যাটাকের উপসর্গ
যাঁদের একবার হার্ট অ্যাটাক হয়ে গিয়েছে, তাঁদের বিশেষ ভাবে সতর্ক থাকা জরুরি। কিছু উপসর্গ দেখলে সঙ্গে সঙ্গে সতর্ক হতে হবে-
- বুকে ব্যথা বা যন্ত্রণা, বুক ভারী হয়ে যাওয়া, চাপ অনুভব করা
- যন্ত্রণা ক্রমশ চোয়াল, ঘাড়, কাঁধ এবং হাতে ছড়িয়ে পড়লে
- হঠাৎ করে শ্বাসকষ্ট শুরু হলে এবং অবস্থার উন্নতি না হলে
- ঠান্ডা ঘাম হলে
- মাথা ঝিমঝিম করলে বা মাথা ঘুরলে
- বমি বমি ভাব
- অজ্ঞাত কারণে অবসন্নতা, ক্লান্তি গ্রাস করলে
অস্বস্তি বোধ করলে সঙ্গে সঙ্গে পদক্ষেপ জরুরি। সামান্য বিলম্বেও অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। ওষুধ একেবারেই বন্ধ করা চলবে না।
Check out below Health Tools-
Calculate Your Body Mass Index ( BMI )
সেরা শিরোনাম























