Fake Voter: আরামবাগের পুনরাবৃত্তি সাগরে ! ভোটার তালিকায় 'মৃতরাও' !
South 24 Parganas Fake Voter : সাগরে ভোটার তালিকায় ৩০ থেকে ৩৫ জন এমন ভোটার রয়েছেন, যাঁদের অধিকাংশই মৃত !

গৌতম মণ্ডল, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: বেশি দূর নয়, বিধানসভা ভোটেও এমন অভিযোগ উঠেছিল। একবার মৃত ভোটারের নামে ভোট পড়েছিল সল্টলেকে। আজ্ঞে হ্যাঁ, অলৌলিক কোনও ঘটনা নয়, নাইবা ছিল ভুতূড়ে, মৃত ব্যাক্তির নামে কেউ এসে দিয়ে গিয়েছিলেন ভোট ! বলাইবাহুল্য, সেই খবর প্রকাশ্যে আসতেই আরও কড়াকড়ি ব্যবস্থা করা হয় বুথকেন্দ্রগুলিতে। আর এবার বছর পেরোলেই ছাব্বিশের ভোট। কোথাও ভূতুড়ে ভোটার, কোথাও আবার দুটি আধার কার্ডে একই নাম্বার। জেলায় জেলায় উঠে আসছে একের পর এক অভিযোগ। আরামবাগের পুনরাবৃত্তি এবার সাগরে !
এবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার সাগরে মৃত মানুষের নাম ভোটার তালিকায় রেখে দেওয়ার অভিযোগ। গঙ্গাসাগরের রামকরচর গ্রাম পঞ্চায়েতের ভোটার তালিকায় মৃত ভোটারের নাম। তালিকায় ৩০ থেকে ৩৫ জন এমন ভোটার রয়েছেন, যাঁদের অধিকাংশই মৃত বা ভিনরাজ্যের ভোটার। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ভূতুড়ে ভোটারদের নিয়ে ব্লক ও জেলা প্রশাসনে নালিশ জানানো হয়েছে। তাঁদের দাবি, এ নিয়ে রাজ্যপালের দ্বারস্থ হয়েও কাজ হয়নি।
কেউ বেঁচে থেকেও মৃত, কেউবা মরে গিয়েও জীবিত। ১০-১৫ বছর আগে মারা গিয়েছেন, কিন্তু দিব্যি আছেন ভোটার তালিকায়। তালিকায় বেঁচে থাকাই শুধু নয়, রীতিমতো রেশনও তুলছেন তাঁরা। দক্ষিণ ২৪ পরগনার সাগরে উঠেছে এমনই অভিযোগ। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ- বিডিও থেকে রাজ্যপাল- সবাইকে জানানো হলেও কোনও কাজ হয়নি। শুরু হয়েছে তৃণমূল বিজেপি তর্জা। মুখ্য়মন্ত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায় বলেন,' একই এপিক নম্বরে বাংলার ভোটারের যেখানে নাম আছে, সেখানে হরিয়ানা, পাঞ্জাব, রাজস্থান, বিহার, সব নাম ঢুকিয়েছে।'
বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, 'রোহিঙ্গা মুসলিম, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের নাম তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস।' কেউ মারা গিয়েছেন ১০-১৫ বছর আগে, কিন্তু বেঁচে আছেন ভোটার তালিকায়। কারও অবস্থা রবীন্দ্রনাথের কাদম্বিনীর মতো, বেঁচে থেকেও মৃত! আবার এলাকায় যাঁর অস্তিস্তই নেই, তিনি বহাল তবিয়তে আছেন ভোটার লিস্টে! মোটকথা, তালিকায় দিব্যি আছেন 'তেনারা'। ভূতেরা দুপুরবেলা ঢেলা মারছে কি না জানা নেই, তবে নিয়মিত রেশন সামগ্রী তুলছে বলে অভিযোগ!দক্ষিণ ২৪ পরগনার গঙ্গাসাগরের রামকরচর গ্রাম পঞ্চায়েতের ৫৯ নম্বর বুথের বাসিন্দা। প্রফুল্ল রাণা মারা গিয়েছেন ২০২১ সালে। কিন্তু নাম এখনও রয়েছে গেছে ভোটার তালিকায়।
কাশীনাথ রাণা মারা গিয়েছেন ২০১৫ সালে। কিন্তু এখনও তিনি বেঁচে রয়েছেন ভোটার হিসেবে। মৃত কাশীনাথ রাণার স্ত্রী বৈশাখী রাণা বলেন, নাম, আছে আমরা কী করে বুঝব? আমি তো দেখেছি আগে, বলেছি বলে- ও নাম থাকে। অঞ্চলে গিয়ে ৩ মাসের মধ্যে করার কথা, ডেথ সার্টিফিকেট বের করেছি। বলছে, রেশন কার্ড জমা দিয়ে দাও, এসেটাও দিয়েছি। ২ মাসের মধ্যে রেশন বন্ধ করে দিয়েছে। যেটা সুযোগ সুবিধা আমার পাওয়ার কথা, সবাই বলছে, হ্যাঁ তোমার নামে সব আছে, কিন্তু কিছু দিচ্ছে না। শুধু তাই নয়, এমনও অনেকের নাম রয়েছে, যাঁরা ভিনরাজ্যের ভোটার। সাগর রামকরচর গ্রাম পঞ্চায়েত ভোটার হরেকৃষ্ণ রাণা বলেন, ৩০ বছর এখানে নেই, পঞ্জাবে আছে। কিন্তু এখানে তার, ভোটার লিস্টে নাম আছে। এখন দেখছি যে ৫০ জনের ওপরে আছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রশাসনকে বার বার জানিয়েও কোনও কাজ হয়নি।






















