SSC Examination 2025: মণীন্দ্র থেকে জয়পুরিয়া... শহরের কলেজের সামনে উত্তরপ্রদেশ-বিহার থেকে আগত পরীক্ষার্থীদের ভিড়
SSC Exam: কেউ এসেছেন কাল রাত ২টোয়। কেউ বা পৌঁছেছেন আজ ভোর ৪টেয়। আপাতত অপেক্ষা পরীক্ষাকেন্দ্রের সামনে। তারপর পজিটিভ ভাবনাচিন্তা নিয়ে ভালভাবে পরীক্ষা দেওয়াই তাঁদের একমাত্র লক্ষ্য।

অর্ণব মুখোপাধ্যায়, কলকাতা : গত রবিবার ৭ তারিখ ছিল নবম ও দশম শ্রেণিতে শিক্ষক নিয়োগের জন্য এসএসসি- র পরীক্ষা। সেখানে দেখা গিয়েছিল উত্তরপ্রদেশ এবং বিহার থেকে এসেছেন পরীক্ষার্থী। এক সপ্তাহ পর আজ ফের একটা রবিবার। আজ ১৪ সেপ্টেম্বরও রয়েছে এসএসসি পরীক্ষা। একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণিতে শিক্ষক নিয়োগের জন্য দ্বিতীয় দফায় হতে চলেছে এসএসসি পরীক্ষা। আজও ধরা পড়ল একই ছবি। উত্তরপ্রদেশ এবং বিহার থেকে এসেছেন অনেক পরীক্ষার্থী। তাঁদের অনেকেরই পরীক্ষাকেন্দ্র শ্যামবাজারের কাছে মণীন্দ্র চন্দ্র কলেজ। কেউ কাল গভীর রাতে কলকাতায় এসেছেন। কেউ বা পৌঁছেছেন আজ ভোরে।
উত্তরপ্রদেশের সুলতানপুর থেকে এসেছেন এক পরীক্ষার্থী। তাঁর নাম অঙ্কিত পাণ্ডে, বয়স ২৫ বছর। এর আগে নিজের রাজ্যে এবং রাজস্থানে পরীক্ষা দিয়েছেন তিনি। পড়াশোনা করেছেন রসায়ন নিয়ে। কেমিস্ট্রিতে এমএসসি ডিগ্রি রয়েছে এই পরীক্ষার্থীর। করেছেন এমএড-ও। গত ৭ তারিখের পরীক্ষাও দিয়েছেন তিনি। অঙ্কিত জানিয়েছেন উত্তরপ্রদেশেও চাকরির ভ্যাকেন্সি রয়েছে। সামনেই অক্টোবর-নভেম্বরে রয়েছে একটি পরীক্ষা। অঙ্কিত এও বলেছেন তিনি যুবক, একটা চাকরি যেভাবেই হোক চায় তাঁর। তাই চাকরির আশায় পরীক্ষা দিচ্ছেন বিভিন্ন জায়গায়। গতকাল এসে পৌঁছেছিলেন হাওড়া স্টেশনে। তারপর আজ সকালে অঙ্কিত এসেছেন পরীক্ষাকেন্দ্রে।
আরেক যুবক এসেছেন উত্তরপ্রদেশের আজমগঢ় থেকে। তিনিও জানিয়েছেন ৭ তারিখের পরীক্ষা দিয়েছেন। এবার দেবেন আজকের পরীক্ষা। স্নাতকোত্তর উত্তীর্ণ মহম্মদ আসাদ গতকাল এসেছেন কলকাতায়। তাঁর বিষয় গণিত। বিএড করেছেন বলেও জানিয়েছেন এই পরীক্ষার্থী। সেই সঙ্গে তিনি এও জানিয়েছেন যে তিনি একজন 'পিএইচডি পারসুয়িং'।
উত্তরপ্রদেশের গোন্ডা জেলা থেকে এসেছেন দুর্গা প্রসাদ যাদব। তাঁরও বিষয় রসায়ন অর্থাৎ কেমিস্ট্রি। হরিয়ানা এবং বিহারে পরীক্ষা দিয়েছেন তিনি। এবার এসেছেন বাংলায়। পরীক্ষার্থী জানাচ্ছেন, ২০২২ সালে পিজিটি-র ফর্ম ফিলআপ করেছিলেন। চারবার পরীক্ষার দিন ঘোষণা হয়েছে। এদিকে পরীক্ষা হয়নি এখনও। এই পরীক্ষার্থী এও বলেছেন যে, উত্তরপ্রদেশের পিজিটি শিক্ষকদের যে শূন্যপদ রয়েছে সেখানে কোনও পরীক্ষা হচ্ছে না। আজ সকাল ৪টে নাগাদ কলকাতা এসেছেন এই পরীক্ষার্থী। এমএসসি- র পাশাপাশি বিএড ডিগ্রিও রয়েছে তাঁর। এই পরীক্ষার্থীর কথায়, 'যোগীজি আশ্বাস দিলেও, যেভাবে পরীক্ষা হচ্ছে না, তাতে মনে হচ্ছে শিক্ষকদের কোনও মূল্যই নেই।' খানিকটা আক্ষেপের সুরেই তিনি বলেছেন, পিজিটি শিক্ষকদের নিয়োগের জন্য শূন্যপদ রয়েছে, পরীক্ষার ঘোষণাও হচ্ছে, তবে পরীক্ষা শেষ পর্যন্ত হচ্ছে না। খুব বেশি ভ্যাকেন্সি নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি।
আজকের পরীক্ষা দিতে উত্তরপ্রদেশ থেকে এসেছে রমেশ কুমার যাদব। তিনিও এমএসসি করেছেন কেমিস্ট্রিতে। করেছেন বিএড- ও। এর আগে রাজস্থানে পরীক্ষা দিয়েছেন। এবার এসেছেন বাংলায়। কাল রাত ২টোয় এসেছেন কলকাতায়। তারপর সকালে এসেছেন পরীক্ষাকেন্দ্রে। রমেশ বলছেন, উত্তরপ্রদেশে শিক্ষকদের জন্য তেমন শূন্যপদ নেই। চাকরির সুযোগ সেভাবে হচ্ছে না। অনেকদিন পর এলটি গ্রেডের চাকরির ঘোষণা হয়েছে। তার জন্য ফর্ম ফিলআপ করেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে রমেশের গলায় বারবার উঠে আসছে আক্ষেপের সুর। তাঁর নিজের রাজ্যে শিক্ষকদের জন্য চাকরির তেমন সুযোগ হচ্ছে না বলে দাবি করেছেন তিনি। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের উদ্দেশেও রমেশের বার্তা তিনি যেন তাঁর দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করেন।
বিহারের বেগুসরাইয়ের বাসিন্দা রজনী কুমারীও এসেছেন পরীক্ষা দিতে। পাটনা থেকে এসেছেন তিনি। এর আগে বিহারে পরীক্ষা দিয়েছেন তিনি। বাংলায় শূন্যপদ দেখে এসেছেন চাকরির পরীক্ষা দিতে। স্নাতকোত্তর ডিগ্রি রয়েছে তাঁর। নিজের রাজ্যে জেনারেলদের জন্য অত্যন্ত বেশি কাট-পফ। চাকরি পাওয়া বেশ কঠিন। বাংলায় তুলনায় কাট-অফ কম, তাই এসেছেন চাকরির পরীক্ষা দিতে, চাকরি পাওয়ার আশায়। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, অক্টোবর মাসে শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষা রয়েছে উত্তরপ্রদেশে।
জয়পুরিয়া কলেজের সামনেও রয়েছেন ভিন রাজ্যের অনেক পরীক্ষার্থী। উত্তরপ্রদেশের হাথরস থেকে এসেছেন ভানু প্রতাপ। এমএড, নেট, জেআরএফ- সব যোগ্যতাই রয়েছেন তাঁর। যেখানে শূন্যপদ পান, সেখানেই চাকরির জন্য পরীক্ষা দিতে চান ভানু প্রতাপ, কারণ তিনি মনে করেন সারা ভারত তাঁর দেশ। চাকরির জন্য বাংলায় প্রথম এসেছেন পরীক্ষা দিতে। পজিটিভ ভাবনাচিন্তা নিয়েই পরীক্ষা দেবেন এই পরীক্ষার্থী।
উত্তরপ্রদেশের জৌনপুর থেকে এসেছেন সুনীল কুমার যাদব। তিনি বলছেন, উত্তরপ্রদেশে শিক্ষকদের জন্য সেভাবে চাকরির সুযোগ হচ্ছে না। চাকরির ঘোষণা নেই শিক্ষকদের জন্য। অনেক বছর ধরেই এই সমস্যা চলছে। এর আগে বিহার, রাজস্থানে পরীক্ষা দিয়েছেন তিনি। এবার এসেছেন বাংলায়। টিজিটি, পিজিটি যেখানে যা সুযোগ পাচ্ছেন ভালভাবে পরীক্ষা দেওয়াই ভিন রাজ্যের এই পরীক্ষার্থীদের একমাত্র লক্ষ্য।






















