Kolkata News: শিক্ষকদের ওপর 'পুলিশি অত্যাচার', প্রতিবাদে কাল রাজ্যজুড়ে ছাত্র ধর্মঘটের ডাক AIDSO-র
SSC Scam AIDSO Calls All Bengal Strike: রক্তাক্ত শিক্ষক, রাজ্যজুড়ে ছাত্র ধর্মঘটের ডাক এআইডিএসও-র

কলকাতা: বিকাশ ভবনে শিক্ষকদের ওপর পুলিশি অত্যাচার, রক্তাক্ত শিক্ষক। প্রতিবাদে কাল রাজ্যজুড়ে ছাত্র ধর্মঘটের ডাক এআইডিএসও-র। সকাল থেকে বিভিন্ন কলেজে পিকেটিং।
চাকরি ফেরত চাইতে গিয়ে খেতে হয়েছে তৃণমূলের মার, পুলিশের লাঠি। আহত হওয়ার পর, তাদের বিরুদ্ধেই মামলা করেছে পুলিশ। থানায় হাজিরার নোটিস দেওয়া হয়েছে। হাজির না হলে গ্রেফতার করা হতে পারে, সেই হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে। পুলিশের এই নোটিসের তীব্র সমালোচনা করেছেন আইনজীবী থেকে প্রাক্তন পুলিশ কর্তা। ভয় দেখাতেই কি এই নোটিস? উঠেছে প্রশ্ন। যাঁরা কোটি কোটি টাকা খেয়ে চাকরি বিক্রি করেছেন। তাঁদের জন্য় যোগ্য় শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জীবনে নেমে এসেছে অন্ধকার। চাকরি ফেরত চাইতে এসে কখনও জুটেছে পুলিশের লাথি। কখনও লাঠি। কখনও আবার তৃণমূলের গুন্ডাবাহিনীর মার । যারা এইভাবে রক্তাক্ত হয়েছে, আহত হয়েছেন, সেই সব চাকরিহারা শিক্ষক-অশিক্ষককর্মীদের বিরুদ্ধেই পুলিশ মামলা রুজু করেছে। সেখানে জামিন অযোগ্য় ধারা দেওয়া হয়েছে।এমনকী সোম ও বুধবার... বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারীকে চিহ্নিত করে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে। শুধু তাই নয়, হাজিরা না দিলে গ্রেফতারির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে নোটিসে!
আইনজীবী সুদীপ্ত দাশগুপ্ত বলেন, 57/25 যে কেসের প্রেক্ষিতে ডাকা হয়েছে,অ্য়ারেস্ট করতে পারে... ভয় দেখানোর জন্য় এটা করা হচ্ছে। আমার প্রফেশনাল নোটিসে এটা দেখেছি। পুলিশ চাইলে যখন ইচ্ছা অ্য়ারেস্ট করতে পারে। লেখার দরকার নেই। এটা ভয় দেখানোর জন্য় করছে। ভয় পাবেন না। যখন সব্য়সাচী দত্তর লোকজন মারল, তখন তো কোনও কেস করল না। আসলে আন্দোলন দমানোর জন্য় এটা করল। এদিন আন্দোলনকারীদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিল্পী সমীর আইচ।শিল্পী সমীর আইচ বলেন, পুলিশের সমালোচনা করছেন।প্রাক্তন পুলিশ কর্তা সলিল ভট্টাচার্য বলেন,অনভিপ্রেত। বাড়তি প্রেসার তৈরির জন্য় গ্রেফতারের কথা বলা হয়েছে। পুলিশকে সামনে রেখে নয়, পুলিশের অতিসক্রিয়তার কারণ, সরকার অতিসক্রিয়। সরকার চেয়েছে, তাই পুলিশ করছে।
শনিবার, আহত, চাকরিহারাদের উদ্দেশ্য়ে ধেয়ে এসেছিল তৃণমূল সরকারের নেতা-মন্ত্রীদেরই কটাক্ষ... বিদ্রুপ। পুরমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেতা ফিরহাদ হাকিম বলেন, সুপ্রিম কোর্টের রায়, একমাত্র সুপ্রিম কোর্টই বদলাতে পারে। সুতরাং এটা তো নাটক হচ্ছে। সুর চড়িয়ে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে বিদ্রুপাত্মক মন্তব্য করেন কুণাল ঘোষ।তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন, ছবিটা দেখেছেন, একটা ছেলে বারবার ঘুরে ঘুরে গিয়ে হাত-পা ছুড়ে ক্য়ামেরার সামনে শুয়ে পড়ছে। একাধিক চ্য়ানেলের ক্য়ামেরা ছিল,যে জায়গায় ক্য়ামেরা যাচ্ছে প্রথম কথা 'ক্য়াম লুক'।
এই প্রেক্ষাপটেই আন্দোলনকারী চাকরিহারাদের থানায় ডেকে পাঠিয়েছে পুলিশ।যদিও এদিন অনেকটাই সুর নরম ছিল কুণাল ঘোষের। পাশাপাশি আন্দোলনকারীদের উপর পুলিশের লাঠি চালানো নিয়ে তৃণমূলেই উঠে এল ভিন্নমত। কুণাল ঘোষ বলেন, ফিরহাদ হাকিম কিংবা আমি কোনওভাবে আমরা যন্ত্রণা নিয়ে অপমান করতে চাইনি। মমতা আইনিভাবে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করছেন। কিন্তু কেউ কেউ রাজনীতি করছে। তলবের বিষয়ে এটা সম্পূর্ণ পুলিশ এবং প্রশাসনের বিষয়। পুলিশ কোনও গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে দমন করতে যায়নি। বারাসাত তৃণমূল বিধায়ক চিরঞ্জিত চক্রবর্তী বলেন , পুলিশের লাঠিচার্জ ঠিক হয়নি। কথায় বলে, পড়াশোনা করে যে গাড়ি-ঘোড়া চড়ে সে। কিন্তু এখন পড়াশোনা করে এই মাানুষগুলোকে রাস্তায় এসে বসতে হয়েছে। খেতে হচ্ছে লাথি-লাঠি! মামলার পাহাড়। আর থানায় তলব।






















