Tangra Incident : মেয়ের পা চেপে ধরেন মা, মুখে বালিশ চেপে খুন করেন বাবা, ট্যাংরাকাণ্ডে প্রসূনের ভয়ঙ্কর স্বীকারোক্তি
যে মেয়ের সখ-সাধ, ছোট ছোট ভাললাগাগুলো এতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল বাবার কাছে, সেই মেয়েকে এভাবে শেষ করে দিতে পারলেন তিনি ?

হিন্দোল দে, ময়ূখ ঠাকুর চক্রবর্তী, আবির দত্ত, কলকাতা : পেঁয়াজের খোলার মতো পরতে পরতে ছিল রহস্য। ঘটনার পর থেকে এক এক করে একটা করে পর্দা সরেছে , আর একটা করে হাড়হিম করা সত্যি সামনে এসেছে। এও সম্ভব? এভাবে শেষ হয়ে যেতে পারে কলকাতার এক হাসিখুশি, স্বচ্ছল পরিবার? অভিজাত, সম্ভ্রান্ত, মার্জিত এক পরিবারের এই পরিণতি সম্ভব ? ভাবিয়েছে মানুষকে। এবার ট্যাংরাকাণ্ডে দে বাড়ির ছোট ছেলে প্রসূনের স্বীকারোক্তি শিড়দাঁড়ায় শীতল স্রোত বইয়ে দিল। যে মেয়ের সখ-সাধ, ছোট ছোট ভাললাগাগুলো এতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল বাবার কাছে, সেই মেয়েকে এভাবে শেষ করে দিতে পারলেন তিনি ? শেষ করে দিতে পারলেন নিজের স্ত্রীকেও? কিন্তু ঘটনা তো আরও ভয়ঙ্কর !
স্ত্রী ও বৌদিকে নিজের হাতে খুনের কথা আগেই স্বীকার করেছিলেন ট্য়াংরাকাণ্ডে ধৃত, বাড়ির ছোট ছেলে প্রসূন দে। সূত্রের খবর, এবার পুলিশের কাছে, নিজের মেয়েকে খুনের কথা স্বীকার করেছেন অভিযুক্ত। পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃত প্রসূন দে জানিয়েছেন, তিনজনের মধ্যে প্রথম মেয়েকেই খুন করা হয়। ঘুমের ওষুধ মেশানো পায়েস খাওয়ার পরও বেঁচে ছিল, কিশোরী প্রিয়ম্বদা। এরপর, স্ত্রীর সঙ্গে মিলে একমাত্র মেয়েকে খুন করেন তিনি। পুলিশ সূত্রে খবর, জেরায় প্রসূন দে জানিয়েছেন, তাঁর স্ত্রী রোমি, মেয়ের পা চেপে ধরেন। আর মেয়ের মুখে বালিশ চেপে ধরেন তিনি।
মেয়েকে খুনের পর একে একে, স্ত্রী রোমি ও বউদি সুদেষ্ণাকে গলা ও হাতের নলি কেটে খুন করা হয়। ঘটনার পর থেকে হাসপাতালেই ছিলেন ২ ভাই ও প্রণয়ের নাবালক পুত্র। সোমবার প্রসূন দে'কে হাসপাতাল থেকে ছাড়ার পরই গ্রেফতার করে পুলিশ।তারপরই এসব চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি করেন তিনি। জানিয়ে দেন, নিজের হয়ে একটাও যুক্তি খাড়া করতে চান না আদালতে। চা না কোনো আইনজীবীও !
লিগ্যালএইড তরফে দেওয়া আইনজীবী জানান, ধৃত প্রসূন দে কোনও আইনজীবী রাখতে চাইছেন না। ওকালতনামায় সইও করছেন না। এজলাসে, প্রসূন দে-র কাছে বিচারক জানতে চান, আপনি আইনজীবী নেবেন? উত্তরে, ঘাড় নেড়ে, তিনি জানান না। বিচারক বলেন, বিনা পয়সায় সরকারি আইনজীবী, কোনও টাকা লাগবে না। তাও রাখবেন না? ফের ঘাড় নেড়ে অসম্মতির কথা জানান প্রসূন। বিচারক বলেন, আপনার কিছু বলার আছে? তারও উত্তর না। এরপর বিচারক প্রসূন দে-র উদ্দেশ্যে বলেন, আপনাকে পুলিশি হেফাজতে চাইছে। পুলিশি হেফাজত মানে বোঝেন তো? আপনাকে জেলে পাঠানো হবে না। ওঁদের (পুলিশের) কাছে থাকতে হবে।
আপনার কিছু বলার আছে? প্রসূনের একটাই উত্তর, না। ধৃত প্রসূন দে-কে ৬ তারিখ পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
আরও পড়ুন : হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেতেই ট্যাংরাকাণ্ডে গ্রেফতার প্রসূন দে, 'মৃত্যুর রাস্তা বেছে নিতে চাই..'!






















