TMC News: বড় ‘অফার’ সনিয়া গাঁধীর, কংগ্রেসে মিশে যাবে তৃণমূল? মমতা-অভিষেক কোন পদ পেতে পারেন?
TMC-Congress Merger Possibility: পুরনো দলেই ফিরবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়? তৃণমূল মিশে যাবে কংগ্রেসের সঙ্গে? জোর জল্পনা।

বিজেন্দ্র সিংহ, কলকাতা: রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষায় এবার কি কংগ্রেসের সঙ্গে মিশে যাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল? জল্পনা ক্রমশ জোরাল হচ্ছে। ইতিমধ্যেই কংগ্রেসের তরফে অভিষেককে গুরুত্ব পদ ‘অফার’ করা হয়েছে বলে খবর। দলের দুই সাংসদ মালা রায় এবং সায়নী ঘোষও দিল্লি রওনা দিয়েছেন। কংগ্রেসের তরফে তৃণমূলকে মিশে যাওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে খবর। (TMC-Congress Merger Possibility)
১৯৯৮ সালে কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে এসেই তৃণমূল গড়েছিলেন মমতা। কিন্তু বর্তমানে নিজের গড়া দলই হাতছাড়া মমতার। এমতাবস্থায় কংগ্রেস সূত্রে খবর, মমতা এবং অভিষেককে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, তাঁরা কংগ্রেসের সঙ্গে মিশে যান। মমতা নিজের পুরনো দলে ফিরে আসুন। মমতা এবং অভিষেককে জাতীয় স্তরে বড় পদের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। মমতাকে কংগ্রেসের জাতীয় সহ-সভাপতি এবং অভিষেককে জাতীয় সাধারণ সম্পাদ করা হতে পারে। (TMC News)
মঙ্গলবার সনিয়া গাঁধীর সঙ্গে দেখা করতে পৌঁছন মমতা। সেখানে সনিয়াই তাঁকে এই প্রস্তাব দেন বলে জানা যাচ্ছে। সূত্রের খবর, মমতাকে সনিয়া জানান, যেভাবে তৃণমূল ভাঙছে, তাতে রক্ষা করা সম্ভব নয়। বরং তিনি চলে এলে, কংগ্রেস নেত্রী হিসেবে কাজ করলে, এখনও সঙ্গে থাকা কর্মী-সমর্থকরাও কংগ্রেসে চলে আসতে পারবেন। এতে কংগ্রেসের হাত শক্ত হবে। কংগ্রেসের হাত ধরে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি-র বিকল্প তৈরি করা যেতে পারে।
এদিন সকালে রাহুল গাঁধীর সঙ্গে দেখা করতে পৌঁছন অভিষেকও। সেখানে তাঁর সঙ্গে ছিলেন ডেরেক ও’ব্রায়েন। তাহলে কি কংগ্রেসের প্রস্তাব গ্রহণ করবেন মমতা এবং অভিষেক। এমতাবস্থায় জল্পনা আরও উস্কে দিয়েছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার। তিনি বলেন, “রাজনীতি সম্ভাবনাময় শিল্প। অতএব আমরা মনে করি, RSS-এর বিচারধারা, বিজেপি-র তানাশাহির বিরুদ্ধে, রাহুল গাঁধীর লাগাতার আন্দোলনে, যে রাজনৈতিক দল, যে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, রাহুল গাঁধীকে প্রধানমন্ত্রী মেনে নিয়ে কংগ্রেসে আসবেন, তাঁদের সকলের জন্য দরজা খোলা।” তাহলে কি মমতার জন্যও দরজা খোলা? শুভঙ্কর বলেন, “আমাদের কথা, যে কোনও ব্যক্তি যদি রাহুল গাঁধীকে প্রধানমন্ত্রী মেনে, বিজেপি-র বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সত্যিকারের দম নিয়ে, ভয় না পেয়ে, রাহুল গাঁধী, কংগ্রেসের নেতৃত্বে আসেন, সবার জন্য দরজা খোলা।”
মমতাকে যদিও ফিরিয়ে নেয় কংগ্রেস, অভিষেককে কি নেবে তারা? জবাবে শুভঙ্কর বলেন, “তাঁরাই আসবেন, যাঁদের ভয় নেই। আমি দুর্নীতিতে যুক্ত, আমাকে অ্যারেস্ট করে নিতে পারে বলে যদি মনে হয়, তারা বিজেপি-র দরজা খুঁজবে, কংগ্রেসের দরজা নয়।” এমন পরিস্থিতিতে জল্পনা চরমে উঠেছে। সনিয়ার সঙ্গে মমতার দু’বার বৈঠক হয়েছে বলে খবর। অভিষেক বৈঠক করেছেন রাহুলের সঙ্গে। তবে কংগ্রেস নেতৃত্ব মমতা-অভিষেককে স্বাগত জানালেও, বিরূপ মন্তব্য করেছেন কংগ্রেস নেতা আব্দুল মান্নান। তাঁর কথায়, “নর্দমার জল গঙ্গাকে অপবিত্র করে দেয়। আর এটা তো পুকুর। পুকুর আরও অপবিত্র হবে।”
আরও পড়ুন: ফিরহাদ হাকিমের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হল, বিদ্বেষমূলক ভাষণ, মহিলাদের নিয়ে রুচিহীন মন্তব্যের অভিযোগও
মমতাপন্থী তৃণমূল নেতৃত্ব এখনও এ নিয়ে কোনও মন্তব্য করেনি। তবে অফ দ্য রেকর্ড দলের এক নেতা জানান, এখনও তেমন কোনও প্রস্তাব পাননি তাঁরা। বরং পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতি নিয়েই আলোচনা হয়েছে। তৃণমূলের উপর যে হামলা হচ্ছে, দলের নেতা-কর্মীরা যেভাবে আক্রান্ত হচ্ছেন, তা নিয়ে কংগ্রেসকে পাশে চাওয়া হয়েছে শুধু। সেই নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা, তৃণমূলের বিদ্রোহী নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় যদিও জানিয়েছেন, তাঁরা কংগ্রেসে যাচ্ছেন না। বরং পরিষদীয় দলে আরও হাত শক্ত হচ্ছে তাঁদের।






















