Abhishek Banerjee: আমতলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসের সামনে বুলডোজার, পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী; তুঙ্গে চাঞ্চল্য
Abhishek Banerjee's Office: দক্ষিণ ২৪ পরগনার আমতলায় তাঁর দলীয় তথা সাংসদ কার্যালয় ঘিরে ফেলেছে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী।

পার্থপ্রতিম ঘোষ, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: একদিকে যখন আইনি লড়াইয়ে সাময়িক স্বস্তি মিলল, ঠিক তখনই আমতলায় নিজের কার্যালয় নিয়ে চরম প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মুখে পড়লেন সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। দক্ষিণ ২৪ পরগনার আমতলায় (Amtala) তাঁর দলীয় তথা সাংসদ কার্যালয় ঘিরে ফেলেছে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী (Central Force)। অন্যদিকে, বিধানসভায় সই জাল করার মামলায় কলকাতা হাইকোর্ট (Kolkata High Court) থেকে আরও এক মাসের অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ পেলেন তিনি।
আমতলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কার্যালয়টি সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে এবং কোনও অনুমোদিত প্ল্যান ছাড়াই গড়ে তোলা হয়েছে বলে জেলা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জমা পড়েছিল। এই অভিযোগের ভিত্তিতে গত ১৫ জুলাই জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুনানির জন্য জোড়া নোটিসও পাঠানো হয়। সেই রেশ ধরেই এদিন আমতলার ওই কার্যালয়ের সামনে মোতায়েন করা হয় বিপুল পরিমাণ পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী, যা ঘিরে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সেই সঙ্গে অভিষেকের অফিসের সামনে নিয়ে আসা হয়েছে বুলডোজারও।
রাজনৈতিক এই টানাপোড়েনের মাঝেই অবশ্য আইনি ক্ষেত্রে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন অভিষেক। বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বেছে নেওয়ার জন্য অধ্যক্ষকে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছিল, যাতে একাধিক বিধায়কের সই জাল করার অভিযোগ ওঠে। এই সই জাল মামলার তদন্তভার হাতে নিয়ে সিআইডি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে জিজ্ঞাসাবাদের নোটিস পাঠায়। সিআইডি-র সেই নোটিস ও মূল এফআইআরটি খারিজের আবেদন জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন অভিষেকের আইনজীবী।
বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি কৌশিক চন্দের এজলাসে এই মামলার শুনানি হয়। সেখানে বিচারপতি চন্দ স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আগামী এক মাস অভিষেকের বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ করা যাবে না। তবে এই অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচের মেয়াদ বৃদ্ধির সঙ্গে আদালত স্পষ্ট শর্ত দিয়েছে যে, তদন্তের স্বার্থে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে। পাশাপাশি, এই এফআইআর খারিজের আবেদন প্রসঙ্গে রাজ্য সরকারকে আগামী সপ্তাহের মধ্যে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
আমতলার অফিস ঘিরে প্রশাসনের তৎপরতা যেখানে অভিষেকের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়াচ্ছে, সেখানে আদালতের এই এক মাসের রক্ষাকবচ তাঁর আইনি লড়াইয়ে বড় স্বস্তি। আগামী সপ্তাহে হাইকোর্টে রাজ্যের হলফনামা জমা পড়ার পর এবং আমতলার অফিসের শুনানিকে কেন্দ্র করে এই জোড়া বিতর্ক কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।






















