Akhtar Ali : সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে তিনি প্রথম সরব হয়েছিলেন, আখতার আলিকেই দুর্নীতির অভিযোগে সাসপেন্ড করল স্বাস্থ্য দফতর !
R G Kar News: আর জি কর মেডিক্যালে দুর্নীতির অভিযোগ তোলা আখতার ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে ডেপুটি সুপারের পদ থেকে ইস্তফা দেন।

কলকাতা : দুর্নীতির অভিযোগ তোলা আখতার আলিকেই দুর্নীতির অভিযোগে সাসপেন্ড করা হল। তাঁর বিরুদ্ধে সরঞ্জাম পাইয়ে দেওয়ার বদলে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ইস্তফা গ্রহণ না করে আখতার আলিকে সাসপেন্ড করল স্বাস্থ্য দফতর। বর্তমানে কালিয়াগঞ্জ হাসপাতালের ডেপুটি সুপার তিনি। আর জি কর মেডিক্যালে ডেপুটি সুপার থাকাকালীন দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন আখতার। তাঁর অভিযোগের প্রেক্ষিতেই সন্দীপ ঘোষ গ্রেফতার হয়েছেন। বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরে চাকরি ছাড়ার জন্য পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু, সেই ইস্তফাপত্র গ্রহণ না করে তাঁকেই সাসপেন্ড করা হল। আখতার আলিকে সাসপেন্ড করে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর জানাল, 'আখতার আলির অভিযোগেই মিলেছে দুর্নীতিতে জড়িত থাকার প্রমাণ।' তাঁর বিরুদ্ধে বরাত পাইয়ে দিতে টাকা, পরিবারের জন্য বিমানের টিকিট নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আরও অভিযোগ, দু'টি সংস্থা থেকে একাধিকবার বিমানের টিকিট কাটিয়েছেন আখতার আলি। একটি সংস্থা থেকে স্ত্রীর অ্যাকাউন্টে ৫০ হাজার টাকা নিয়েছেন। চতুর্থ আরেকটি সংস্থা থেকে ২ লক্ষ ৩৯ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ৪ কোটি ১৪ লক্ষের বরাত পাইয়ে দিতে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছে।
যদিও আখতার আলি বলছেন, "আমি সিবিআইয়ের তরফ থেকে এরকম কোনও চার্জশিট দেখিনি। আমার আইনজীবী যিনি...তরণজ্যোতি তিওয়ারি...ওঁকেও ফোন করেছিলাম। উনিও কোনও পাননি। স্বাস্থ্য দফতর কোথা থেকে কী কথা বলছে...এটা পুরো অবস্তাব কথা বলছে। যেটা আমি কেস ফাইল করেছিলাম, ওই কেসেই ফাইল নম্বর আছে। ওই কেস নম্বরটাই আছে। ওটা তো এখনও চলছে। কেসটা তো শেষ হয়নি। ওই কেসে ৫ জন জেলে আছে। আর জি করের তদন্ত তো চলছে। ওই কেসেই তো সিবিআই অতীন ঘোষের ওখানে গিয়েছিল। সুদীপ্ত রায়ের ওখানে গিয়েছিল। তদন্ত তো সিবিআই করছে। আমায় সিবিআই যা জানতে চায় সবসময় দিয়েছি। আমার কাছ থেকে আমার পরিবারের ডিটেল, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে শুরু করে পাসপোর্ট নম্বর...যেটা অটোমেটিক্যালি যেগুলো ওদের দরকার হয় না...সেগুলো আমি দিয়েছি। আমি কোনও নোটিফিকেশন বা সমনও পাইনি সিবিআইয়ের কাছ থেকে।" তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, এখানে সিবিআইয়ের কেস নম্বর উল্লেখ করা হচ্ছে। সিবিআই তো আর জি করে দুর্নীতির তদন্ত করছে। আর জি করে দুর্নীতির তদন্তে কি সিবিআই আপনাকে অভিযুক্ত হিসাবে কখনো জিজ্ঞাসাবাদ করেছে ? উত্তরে আখতার আলি বলেন, "না।"
প্রেক্ষাপট
আরজি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে তিনিই প্রথম দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছিলেন। সেই কারণে তাঁকে বদলিও হতে হয়েছিল, বলে এর আগে দাবি করেছিলেন আখতার আলি। গত অগাস্ট মাসে আরও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ আনেন তিনি। তিনি দাবি করেন, সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে মুখ খোলা ও আইনি পথে যাওয়ার খেসারত দিয়ে যেতে হচ্ছে তাঁকে। দিনকয়েক আগেই সরকারি চাকরি থেকে ইস্তফা দেন আখতার আলি। কালিয়াগঞ্জ হাসপাতালের ডেপুটি সুপার পদে ইস্তফা দেন। আর জি কর মেডিক্যালে দুর্নীতির অভিযোগ তোলা আখতার ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে ডেপুটি সুপারের পদ থেকে ইস্তফা দেন। স্বাস্থ্য অধিকর্তার কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েও দেন। দুর্নীতির অভিযোগে সরব হতেই সরকারি প্রতিহিংসার অভিযোগ ওঠে। একের পর এক বদলির অভিযোগও উঠেছে। ইস্তফাপত্র পাঠিয়ে তিনি বলেছিলেন, "চাকরিটা করি এবং মান-সম্মান রেখে মাথা উঁচু করে করি। কিন্তু, আমার ডিপার্টমেন্টই আমায় চাকরি করতে দিচ্ছে না। আমি আর জি কর নিয়ে মুখ খুলেছি। এটাই হচ্ছে আমার অপরাধ। আর জি করের দুর্নীতির এক্সপোজ করেছি এটাই আমার অপরাধ।"






















