Kolkata: আবাসন কিনতে গিয়ে কোটি-কোটি টাকার প্রতারণার শিকার! ১৩ বছর ধরে EMI গুনেও কাজই শুরু হয়নি
West Bengal News: আপাতত বিশ বাঁও জলে এই অভিজাত আবাসন প্রকল্প।

কলকাতা: ১৪ বছর পার, কেউ কথা রাখেনি।
২০১২ সালে ইস্টার্ন মেট্রোপলিটান বাইপাস লাগোয়া জমিতে অভিজাত আবাসন কিনতে লোন নিয়েছিলেন অনেকেই। কিন্তু, অভিযোগ নানা গোরোয় গড়ে ওঠেনি আবাসন। আশা-আশঙ্কার দোলাচলে ক্রেতারা। যে অবনী গ্রুপের প্রকল্প নিয়ে বিতর্ক, তাদের আইনজীবীর বক্তব্য়, একজন ক্রেতা এই সমস্য়ার সমাধানে এগিয়ে এসেছেন। তিনি একটি প্রস্তাবও দিয়েছেন। যা এই মুহূর্তে ট্রাইবুনালে বিচারাধীন।
অন্যতম ক্রেতা ও অভিযোগকারী সৌরভ কুমার গোয়েল বলছেন, 'আমরা একটা বাড়ি কিনেছিলাম। মন ভেঙে গেছে।' আর এক ক্রেতা ও অভিযোগকারী মোহিত জয়সওয়াল বলছেন, 'সবকিছু দেওয়ার পর হাতে আমরা কিছুই পেলাম না।'
সবাই স্বপ্ন দেখেন, নিজের একটা ঠিকানা হবে! আর সেই ঠিকানা যদি হয় EM বাইপাসের ধারে ঝকঝকে আবাসনে, তাহলে তো সোনায় সোহাগা! কিন্তু, সেই স্বপ্ন সত্যি করতে গিয়েই ভয়ঙ্কর প্রতারণার শিকার হতে হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন মোহিত জয়সওয়াল, সৌরভ কুমার গোয়েল, বিকাশ কেডিয়ারা। আর প্রতারণার অঙ্কটা কয়েক কোটি!
ঘটনার সূত্রপাত ২০১২ সালে। অভিযোগকারী ক্রেতাদের দাবি, EM বাইপাসের ধারে একটি অভিজাত আবাসন প্রকল্পের বিজ্ঞাপন দেখেন তারা। যেটি তৈরি করছিল অবনী গ্রুপ। বিজ্ঞাপন দেখে পছন্দ হওয়ায় কেউ ৫ কোটি, কেউ ৪ কোটি টাকা করে দিয়ে ফ্ল্যাট বুকও করে ফেলেন! অভিযোগ, ১৩ বছরের বেশি কেটে গেলেও, এখনও কোনও ফ্ল্যাট তারা পাননি!
ক্রেতা ও অভিযোগকারী বিকাশ কেডিয়া বলছেন, '২০১২ সালে অবনীর একটা ব্রোসিওর এসেছিল খুব বড় একটা প্রজেক্ট আসবে, অভিজাত প্রজেক্ট আসবে। ওটা দেখে ভাল লাগল। তো সেইসময় আমরা পয়সা দিলাম। তখন থেকে আজকে ২০২৫, আমরা ১৩ বছর থেকে ঘুরছি। এটা স্ক্যামের মতো পুরো হয়ে গেছে। অবনীকে দিয়েছিলাম টাকা। ওদেরকে পাওয়া যাচ্ছে না, পালিয়ে গেছে এখান থেকে।'
অভিযোগকারীদের দাবি, ৪০-৪৫ জনের থেকে ২০০ কোটি টাকারও বেশি টাকা তুলেছে অবনী গ্রুপ। কিন্তু, আবাসন প্রকল্পের কাজ শুরুই হয়নি! বাইপাসের ধারে প্রস্তাবিত জমি খাঁ খাঁ করছে!
ক্রেতা ও অভিযোগকারী মোহিত জয়সওয়াল বলছেন, 'অবনী গ্রুপের প্রজেক্ট ছিল। আমরা গিয়ে ল্যান্ড দেখলাম। ওরা কিন্তু পেমেন্ট কীভাবে দিতে হবে না হবে সবকিছু ফলো করছিল। শুধু পেমেন্টটা নেওয়ার টাইমে। ডেলিভারি কিছু পাইনি। ৫ থেকে সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা। এক এক জনের থেকে নেওয়া হয়েছে। এটা ১০০ শতাংশ স্ক্যাম। অবনীকে দিয়েছিলাম আমরা। এই ১২ বছরের মধ্যে যা লোন নিলাম, যে ইন্টারেস্টগুলো দিলাম, সবকিছু দেবার পর হাতে আমরা কিছুই পেলাম না।'
ক্রেতাদের একাংশের দাবি, তাদের বলা হয়েছিল, অবনী ও অ্যাডন এই দুই সংস্থার যৌথ উদ্যোগে এই প্রকল্প হবে। জমি অধিগ্রহণের বিষয়টা দেখবে অ্যাডন। আর আবাসন তৈরির দায়িত্ব অবনী গ্রুপের। সেখান থেকেই অবনীর তরফে দুর্নীতি হয় বলে অভিযোগ।
ক্রেতা ও অভিযোগকারী সৌরভ কুমার গোয়েল বলছেন, 'অ্যাডন অধিগ্রহণ দেখত, অবনী ডেভেলপমেন্টটা দেখত। আমরা সেই দেখেই টাকা দিয়েছিলাম। তারপর অবনী গ্রুপ টাকাটা সাইফন করে দিয়েছে। পৌনে তিন-চার কোটি টাকা ইনভেস্ট করেছিলাম।'
এই পরিস্থিতিতে জল গড়িয়েছে ন্য়াশনাল কোম্পানি ল ট্রাইবুনাল পর্যন্ত! ক্রেতা ও অভিযোগকারী বিকাশ কেডিয়া বলছেন, 'অবনীকে টাকা দিয়েছিলাম। ওদেরকে পাওয়া যাচ্ছে না, পালিয়ে গেছে এখান থেকে। তারপরে আমরা কেসও করেছি, NCLT-তেও আমরা কেস করেছি। কিন্তু কিছু হচ্ছে না। EMI দিতে হচ্ছে। লোনের ইন্টারেস্ট দিতে হচ্ছে। তারপরে প্রোজেক্ট পাচ্ছি না। ২০১৯-এ আমরা কেস করেছি NCLT-তে। কিন্তু কিছু হচ্ছে না। ২০০ কোটি তো নিশ্চয়ই আছে। বেশিও হতে পারে। ক্রেতা আমার মতে, ৪০-৪৫ জন আছে।'
আপাতত বিশ বাঁও জলে এই অভিজাত আবাসন প্রকল্প। ক্রেতাদের অভিযোগ নিয়ে মুখ খুলেছেন অবনী গ্রুপের আইনজীবী সুপ্রিয় গোলে। তিনি জানিয়েছেন, একজন ক্রেতা এই সমস্য়ার সমাধানে এগিয়ে এসেছেন। তিনি একটি প্রস্তাবও দিয়েছেন। যা এই মুহূর্তে ট্রাইবুনালে বিচারাধীন। বর্তমানে এই মামলা কী অবস্থায় রয়েছে, তা জানিয়েছেন মামলায় আদালত নিযুক্ত আইনজীবী অজয় আগরওয়াল। বর্তমানে বিষয় বিচারাধীন রয়েছে। বেশিরভাগই লোন করে টাকা দিয়েছেন! প্রতি মাসে EMI গুনতে হচ্ছে! কিন্তু ফ্ল্যাট পাননি! কবে পাবেন, তারও ঠিক নেই!






















