Weather Kalboisakhi : কালবৈশাখীর ঝোড়ো হাওয়া, উথাল-পাথাল বৃষ্টি, ভোটের আগে রাজ্যে কোথায় কোথায় দুর্যোগ-সতর্কতা?
West Bengal Weather : ২৩ এপ্রিল দক্ষিণবঙ্গের বেশ কিছু জেলায় বিক্ষিপ্তভাবে হালকা বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোন কোন জেলায় ঝড়ঝঞ্ঝা?

কলকাতা : দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে ক্রমশ বাড়ছে গরমের দাপট। India Meteorological Department-এর প্রকাশিত বিশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, আগামী কয়েকদিন দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় তাপপ্রবাহ ও অস্বস্তিকর গরমের পরিস্থিতি তৈরি হতে চলেছে। একই সঙ্গে উত্তরবঙ্গের কিছু জেলায় বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, হিমালয়ের পাদদেশ সংলগ্ন এলাকায় একটি ঘূর্ণাবর্ত অবস্থান করছে এবং বিহার থেকে মণিপুর পর্যন্ত একটি অক্ষরেখা বিস্তৃত রয়েছে। এর প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গে গরম ও আর্দ্রতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে।
তাপমাত্রা কোথায় কোথায় বেশি
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী সাত দিনে তাপমাত্রার খুব বেশি পরিবর্তন না হলেও তা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশ কিছুটা বেশি থাকবে। বিশেষ করে দক্ষিণবঙ্গের পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ৩ থেকে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি থাকতে পারে। অন্যদিকে উপকূলীয় ও পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলিতে তাপমাত্রা ২ থেকে ৩ ডিগ্রি বেশি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি আর্দ্রতার পরিমাণও অনেকটাই বেশি থাকবে, উপকূলীয় জেলাগুলিতে সর্বোচ্চ আপেক্ষিক আর্দ্রতা ৮০ থেকে ৯৫ শতাংশ এবং অভ্যন্তরীণ জেলাগুলিতে ৭৫ থেকে ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছতে পারে, যা অস্বস্তিকর গরমকে আরও বাড়িয়ে তুলবে।
২১ এপ্রিল থেকে দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়ায় এই পরিবর্তন স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। এই দিনে পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার কিছু অংশে হালকা বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও বাকি জেলাগুলিতে শুষ্ক আবহাওয়া বজায় থাকবে। একই দিনে পুরুলিয়া ও পশ্চিম বর্ধমান জেলায় তাপপ্রবাহের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর ও পুরুলিয়ার কিছু এলাকায় বজ্রবিদ্যুৎসহ ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে, যার গতিবেগ ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে।
আজ বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টি কোথায় কোথায়
২২ এপ্রিলও একই ধরনের পরিস্থিতি বজায় থাকবে। দক্ষিণবঙ্গের কিছু জেলায় হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও অধিকাংশ জেলায় শুষ্ক আবহাওয়া বিরাজ করবে। পুরুলিয়া ও পশ্চিম বর্ধমান জেলায় তাপপ্রবাহের পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে এবং বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম ও পশ্চিম মেদিনীপুরের মতো জেলাগুলিতে গরম ও আর্দ্র আবহাওয়া মানুষের অস্বস্তি বাড়াবে।
২৩ এপ্রিল দক্ষিণবঙ্গের বেশ কিছু জেলায় বিক্ষিপ্তভাবে হালকা বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে একই সঙ্গে ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, বীরভূম, পশ্চিম মেদিনীপুর, পুরুলিয়া ও পশ্চিম বর্ধমান জেলায় গরম ও আর্দ্র আবহাওয়া বজায় থাকবে, যা সাধারণ মানুষের জন্য অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করবে।
২৪ এপ্রিল দক্ষিণবঙ্গের আরও বেশি জেলায় বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম ও মুর্শিদাবাদ জেলায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পশ্চিম বর্ধমান ও বীরভূম জেলায় গরম ও আর্দ্র আবহাওয়া বজায় থাকবে। এদিন বজ্রবিদ্যুৎসহ ঝোড়ো হাওয়া ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে বইতে পারে।
২৫ এপ্রিল থেকে বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা বাড়তে পারে এবং পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ ও নদিয়া জেলায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি দক্ষিণবঙ্গের অন্যান্য জেলাতেও বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টি হতে পারে। এই দিনে বজ্রবিদ্যুৎসহ ঝোড়ো হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। তবুও পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান ও বীরভূমের কিছু এলাকায় গরম ও আর্দ্র আবহাওয়া বজায় থাকবে।
২৬ এপ্রিল দক্ষিণবঙ্গের অনেক জেলায় বৃষ্টির সম্ভাবনা আরও বাড়বে। পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া ও উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় বৃষ্টির সম্ভাবনা বেশি থাকবে। এদিনও বজ্রবিদ্যুৎসহ ঝোড়ো হাওয়া ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে বইতে পারে এবং অন্যান্য জেলাগুলিতেও ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে হাওয়া বইতে পারে। তবে পুরুলিয়া ও পশ্চিম বর্ধমানের কিছু অংশে গরম ও আর্দ্র আবহাওয়া বজায় থাকতে পারে।
২৭ এপ্রিল দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে এবং এই দিনে বজ্রবিদ্যুৎসহ ঝোড়ো হাওয়ার দাপট আরও বাড়তে পারে। পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া ও উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় ঝোড়ো হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। অন্যান্য জেলাতেও ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।
এই গরমের পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের জন্য কিছুটা সহনীয় হলেও শিশু, বয়স্ক এবং দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতায় ভোগা ব্যক্তিদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। অতিরিক্ত গরমের কারণে হিট ক্র্যাম্প বা হিট র্যাশের মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। তাই আবহাওয়া দফতর সকলকে দুপুর ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত রোদ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে। পাশাপাশি হালকা ও ঢিলেঢালা সুতির পোশাক পরা, মাথা ঢেকে রাখা এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।






















