Humayun Kabir: ‘পাথর মারলে আমরা কি রসগোল্লা-পান্তুয়া ছুড়ব?’ ভোটের সকালে হুমায়ুন-উবাচ, বললেন, ‘৪ঠা মের পর…’
Humayun Kabir on West Bengal Election প্রথম দফার ভোটে সক্রিয় আম জনতা উন্নয়ন পার্টির হুমায়ুন কবীর। ৪মে-র পর কী করবেন জানালেন।

নওদা: শুরুতে যে ঝড় তুলেছেন, 'স্টিং ভিডিও' কাণ্ডে তা খানিকটা স্তিমিত। তবে এখনও আত্মবিশ্বাসী আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীর। বৃহস্পতিবার প্রথম দফার ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার পর বুথে বুথে ঘুরতে দেখা গেল তাঁকে। শুধু তাই নয়, পুলিশ অফিসারকেও হুঁশিয়ারি দিতে শোনা গেল তাঁকে। ৪মে-র পর সুন্দরবনে পোস্টিং করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিলেন। (Humayun Kabir on Voting)
প্রথম দফার ভোটের আগে গতকাল রাতেই নওদায় বোমা বিস্ফোরণ ঘটে। শিবনগর প্রাথমিক স্কুলের বুথের কাছেই ফাটে বোমা। ওই সময় এলাকায় ছিলেন তৃণমূল প্রার্থী শাহিনা মমতাজ খান। তৃণমূল প্রার্থীর অভিযোগ, তাঁকে টার্গেট করেই বোমা মারা হয়েছিল। বুথের কাছে বাহিনী থাকা সত্ত্বেও কীভাবে বিস্ফোরণ ঘটল, প্রশ্ন তোলেন শাহিনা মমতাজ।হুমায়ুন কবীরের দল আম জনতা উন্নয়ন পার্টির দিকেই আঙুল তোলেন তিনি। (West Bengal Phase 1 Election)
এর পাল্টা এদিন সকালে 'রসগোল্লা' উবাচ শোনা যায় হুমায়ুনের মুখে। তাঁকে বলতে শোনা যায়, "আমাদের যদি কেউ চ্যালেঞ্জ ছোড়ে। কেউ যদি পাটকেল ছোড়ে, তাহলে তো রসগোল্লা দিলে হবে না! পরিবর্তে যেটা দেওয়া দরকার...শক্তপোক্ত কিছু দিতে হবে। আমাকে কেউ ইঁট ছুড়লে আমি তো তাকে রসগোল্লা, পান্তুয়া দেব না?" এদিন সকালে মিষ্টির দোকানেও পৌঁছে গিয়েছিলেন তিনি।
বোমা ছোড়ার অভিযোগ একেবারেই খারিজ করে দেন হুমায়ুন। তিনি বলেন, "সর্বৈব মিথ্যা অভিযোগ। আমাদের এত মানুষ আছে। কাউকে মারার দরকার নেই। এমন কোনও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়। কেন মারতে যাবে! একজন মহিলা, আমার বোনের মতো। পাঁচ বছর ধরে বিধায়ক। কলকাতায় থাকত অধিকাংশ সময়। এখানে দেখেইনি। আমাদের কোনও লোকের বোমা মারার প্রয়োজন নেই। কারণ নওদা বিধানসভার সাধারণ ভোটার খোলাখুলি তৃণমূলকে বয়কট করেছেন। আম জনতা উন্নয়ন পার্টি, হুমায়ুন কবীরকেই সমর্থন করছেন সকলে।"
এদিন পুলিশকেও কাঠগড়ায় তোলেন হুমায়ুন। তাঁর দাবি, দু'টো বুথে তৃণমূল 'মস্তানি' করছে। পুলিশকে জানিয়েও লাভ হয়নি। পুলিশ 'দালালি' করছে তৃণমূলের। উল্টে তাঁর দলের দু'জনকেই গ্রেফতারের অভিযোগ। তাঁর দলের লোকজন বুথে ঢুকতে না পারলে ২০০ গজের বাইরে অবরোধে বসারও হুমকি দেন। রেজিনগরে তাঁর এজেন্ট বসতে দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
ভাইপো রাজা শেখের গ্রেফতারি নিয়ে হুমায়ুন বলেন, "পরিকল্পিত। একটা মহিলা। গানবাজনা করে বেড়ায়। আমার ভাইপো গ্র্যাজুয়েশন। তিন ভাই চাকরি করে। দুই ভাই হাইস্কুলের মাস্টার, একজন কলকাতায় পুলিশে। সে আমার ব্যক্তিগত ব্যবসা দেখাশোনা করে রাজা শেখ। তাকে পুলিশ তৃণমূলের দালালি করতে গিয়ে হুমায়ুন কবীরের ভাইপোকে আটকে বাহাদুরি দেখাচ্ছে। বিচারব্যবস্থা আছে। ১৬৪-এ অভিযোগ হলে আগেই তো অ্যাকশন নেওয়া উচিত ছিল। আজ ভোট আর কাল বিকেল ৫টায় এসব করা বাহাদুরি নয়! আগামী ৪মে আসতে দিন। এসব পুলিশ অফিসারদের ভাল জায়গা জায়গায়, সুন্দরবনের বাঘ গোনানোর জন্য পোস্টিং করে দেব।"




















