Suvendu Adhikari PA Murder Case: ‘মানসিক দংশনে’ ভুগছেন শুভেন্দু অধিকারী, চন্দ্রনাথ রথ খুনে বললেন, 'ভবানীপুরে মমতাকে যদি না হারাতাম…'
Chandranath Rath Murder Case: ময়নাতদন্তের পর বারাসাত মেডিক্যাল কলেজ থেকে চন্দ্রনাথের দেহ বের করতে এদিন সেখানে উপস্থিত ছিলেন শুভেন্দু।

কলকাতা: রাজ্যে নতুন সরকার গঠিত হওয়ার আগেই ভয়ঙ্কর ঘটনা। গুলি করে খুন করা হয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ককে। গুলিতে কার্যত ঝাঁঝরা করে দেওয়া হয় চন্দ্রনাথ রথকে। সেই নিয়ে এবার ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য শুভেন্দুর। জানালেন, তিনি যদি বিজেপি-তে না থাকতেন, যদি বিরোধী দলনেতা না হতেন, ভবানীপুরে যদি মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়কে পরাজিত না করতেন, তাহলে চন্দ্রনাথকে খুন হতে হতো না। (Chandranath Rath Murder Case)
ময়নাতদন্তের পর বারাসাত মেডিক্যাল কলেজ থেকে চন্দ্রনাথের দেহ বের করতে এদিন সেখানে উপস্থিত ছিলেন শুভেন্দু। চণ্ডীপুরের বাড়িতে চন্দ্রনাথের দেহ নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি চলছে। সেই পরিস্থিতিতেই সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু বলেন, "ঠান্ডা মাথায়, সুপারি কিলার ভাড়া করে এনে, বিরোধী দলনেতার আপ্ত সহায়ককে নৃশংস ভাবে গুলি করা হয়েছে। চন্দ্রনাথকে হারাতে হয়েছে আমাদের।" (Suvendu Adhikari PA Murder Case)
আরও পড়ুন: চন্দ্রনাথ খুনে মিলল ক্লু? শুভেন্দু বললেন, ‘ঠিক লাইনে এগোচ্ছে পুলিশ’
শুভেন্দু আরও বলেন, "৩৮ বছরের তরুণ যুবক, যিনি ১০ বছর এয়ারফোর্সে সার্ভিস দিয়েছেন, দেশমাতৃকার সেবা করেছেন, তাঁকে অকালে চলে যেতে হল বিরোধী দলনেতা তথা ভবানীপুর-নন্দীগ্রামের বিজয়ী প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক বলে। এখন আমার মনে হচ্ছে, বাড়ির লোকজন ভাবতেই পারেন যে আমার সহায়ক যদি না হতেন, বা আমি যদি ভবানীপুরে মুখ্যমন্ত্রীকে না হারাতাম, তাহলে হয়ত এই তরুণ যুবককে চলে যেতে হতো না।"
শুভেন্দুর সর্বক্ষণের ছায়াসঙ্গী হিসেবেও পরিচিত ছিলেন চন্দ্রনাথ। শুভেন্দু কথায়, "ছায়াসঙ্গী নয়, অফিসিয়াল সহায়ক। ১০ বছর এয়ারফোর্সে সেবা করেছেন। ২০২১ সাল থেকে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন বিধানসভার এগজিকিউটিভ অ্যাস্টিট্যান্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাঁর অপরাধ তিনি শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক। তাই অকালে, নৃশংস ভাবে, পরিকল্পিত ভাবে, ঠান্ডা মাথায়, সুপরিকল্পিত ভাবে রাষ্ট্রবাদী যুবকের প্রাণ কেড়ে নেওয়া হল। গত তিন-চার দিন ধরে রেকি করে, যেভাবে পাঁচটি বুলেট শরীর বিদ্ধ করেছে, এর নিন্দা এবং দুঃখের ভাষা আমার ডিকশনারিতে নেই।"
আরও পড়ুন: চন্দ্রনাথের গাড়ি ঘিরে ১০ রাউন্ড গুলি ! তিনদিক থেকে ঘিরে ফেলেছিল দুষ্কৃতীরা, তারপর...
এই দুঃসময়ে পাশে থাকার জন্য বিজেপি-র সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ থেকে বিএল সন্তোষ-সহ বাকিদের ধন্যবাদ জানান শুভেন্দু। এমনকি বারাসাতে বামেদের অনেকেও চন্দ্রনাথকে শ্রদ্ধা জানাতে এসেছেন বলে জানান। শুভেন্দু বলেন, "এটা আমার ব্যক্তিগত লস। আমার পরিবারের কাছেও। আমি যদি বিজেপি বা বিরোধী দলনেতা না হতাম, তাহলে হয়ত ওকে টার্গেট করতো না। আমি যদি ভবানীপুরে না জিততাম, ওকে হয়ত টার্গেট করা হতো না। আমি এই মানসিক দংশনে বিদ্ধ। প্রার্থনা করি, স্বর্গধামে বাস হোক ওর, ঈশ্বর ওকে নিজের কাছে জানুন।"
দোষীদের ফাঁসির দাবি করেছেন শুভেন্দু। তাঁকে বলতে শোনা যায়, "প্রত্যেকটা লোককে খুঁজে বের করে দ্রুত ফাঁসিতে ঝোলোনা হোক, আইনের মাধ্যমে। পুলিশ, সিআইডি, সিট বা অন্য যাঁরা তদন্তে সহযোগিতা করছেন, তাঁদের কাছে আবেদন। ডিজিপি জানিয়েছেন, তাঁরা অনেক দূর এগিয়েছেন। সিট বানিয়েছেন। ৪ কিলোমিটার দূর থেকে মোটর সাইকেলটা উদ্ধার হয়েছে।"
শুভেন্দুর ক্ষতি করতেই কি তাহলে চন্দ্রনাথকে খুন করা হল? তাঁর বক্তব্য, "আমি এ নিয়ে কোনও মন্তব্য করব না। শুধু বলব, চন্দ্রনাথের ক্রিমিনাল ব্যাকগ্রাউন্ড নেই, রাজনৈতিক পরিচয় নেই সরাসরি, মঞ্চে উঠে বক্তৃতায় আক্রমণের উদাহরণ নেই। তাই তার এই মৃত্যুর কারণ শুভেন্দু অধিকারী। বিরোধী দলনেতার সহায়ক হওয়ার জন্যই মারা হয়েছে। আমার নতুন করে মন্তব্যেক অবকাশ নেই। নিষ্পাপ, তরুণ, শিক্ষিত, এক্স সার্ভিসম্যানকে খুন করা হল কেবলমাত্র তিনি শুভেন্দু অধিকারীর সহায়ক বলে। আর শুভেন্দু অধিকারী ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়েছে বলে।"
চণ্ডীপুরে চন্দ্রনাথের বাড়িতে যাবেন কি না শুভেন্দু, তা এখনও স্পষ্ট নয়। বরং কাল থেকেই যে আছেন, তা জানিয়েছেন তিনি। জানান, তিনি তাঁর সব কর্তব্য পালন করবেন। চন্দ্রনাথের স্ত্রী-কন্যাকে দেখবেন তিনি। পরিবার চায়, দ্রুত খুনিদের গ্রেফতার করে চার্জশিট দিতে, যাতে দ্রুত ফাঁসি হয় দোষীদের। শুভেন্দু জানিয়েছেন, তিনি তাঁর দায়িত্ব পালন করবেন। সহযোগীরা সাহায্য় করবেন তাঁকে।




















