Bengal Election 2026 : 'বালিগঞ্জে বাবুল সুপ্রিয়কে প্রতিনিধি করার সাহস দেখিয়েছে তৃণমূল', কী অভিযোগ তুলে সরব হলেন সিপিএম প্রার্থী আফরিন ?
CPM News : এবিপি আনন্দর প্রতিনিধির সঙ্গে কথোপকথনে একাধিক বিষয় উঠে এল সিপিএমে তরুণ প্রার্থীর মুখ থেকে। কী বললেন তিনি ?

উজ্জ্বল মুখোপাধ্যায়, কলকাতা : আফরিন বেগম। বালিগঞ্জে বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা ও রাজ্যের মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্য়ায়ের বিপরীতে তাঁকেই প্রার্থী করেছে সিপিএম। সিপিএমের বালিগঞ্জের প্রার্থী যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক আফরিন বেগম (শিল্পী)। ইতিমধ্যেই বালিগঞ্জে জোরদার প্রচার শুরু করে দিয়েছেন তিনি। কিন্তু, জয়ের ব্যাপারে কতটা আত্মবিশ্বাসী তিনি ? এবিপি আনন্দর প্রতিনিধির সঙ্গে কথোপকথনে একাধিক বিষয় উঠে এল সিপিএমে তরুণ প্রার্থীর মুখ থেকে। কী বললেন তিনি ?
এবিপি আনন্দ : সিপিএম দলটা এরকম কেন হল যে আপনি প্রথমবারের জন্য নির্বাচনে দাঁড়াচ্ছেন, এরকম একটা কঠিন বালিগঞ্জ কেন্দ্রে আপনাকে পাঠিয়ে দিল সিপিএম, মহম্মদ সেলিমরা ?
আফরিন বেগম : কঠিন কেন্দ্র বলব না। আমি যেহেতু বালিগঞ্জের মেয়ে। বালিগঞ্জেই জন্মেছি, বালিগঞ্জেই বড় হয়েছি। ফলে, বালিগঞ্জ আমার কাছে খুব চেনা অঞ্চল। বালিগঞ্জের মানুষের সমস্যাগুলির, আমি নিত্যদিন মুখোমুখি হই। ফলে, সেটা কঠিন আমি বলব না।
এবিপি আনন্দ : কিন্তু, বালিগঞ্জের ইতিহাস এবং ভূগোল...আপনি যদি ইতিহাস দেখেন, একটা সময় বালিগঞ্জে সিপিএম জিতেছে ঠিকই, এখানে শচিন সেন দীর্ঘদিন ধরে বিধায়ক ছিলেন। এখানে রবীন দেব দীর্ঘদিন ধরে বিধায়ক ছিলেন। কিন্তু, বালিগঞ্জ মূলত বাম-বিরোধী সিট হিসাবে রাজ্য রাজনীতিতে পরিচিত। সুব্রত মুখোপাধ্যায় বলতেন, এখানে হাসতে হাসতে জিতবেন। তৃণমূলের একটা শক্তিশালী ঘাঁটি। যখন কংগ্রেস ছিল, কংগ্রেসেরও শক্তিশালী ঘাঁটি। এরকম একটা জায়গায় দাঁড়িয়ে আপনি কি মনে করছেন যে সিপিএম ঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে ?
আফরিন বেগম : হ্যাঁ, একদম ঠিক সিদ্ধান্ত। কারণ, ইতিহাস তো তৈরিই হয় বদলানোর জন্য। ফলে, ইতিহাস বদলে যাবে। যা হয়েছে সেটা নিয়ে তো বসে থাকলে চলবে না। ইতিহাস বদলাবে এবং আমি যদি দেখি আমাদের এই বালিগঞ্জ কেন্দ্রে একটু উপনির্বাচনের দিকে যদি আমরা যাই, ২০২৪ সালে তৃণমূল আর বিজেপি মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে। ফলে, তৃণমূল দলটা তৃণমূলে আছে না বিজেপিতে চলে গেছে, না বিজেপিটা আবার তৃণমূলের ফিরে এসেছে এটা এখন পশ্চিমবঙ্গে কেউ বলতে পারে না। আজ যাকে দেখছেন, কালকে আবার দেখবেন অন্য দলে। আমরা দেখেছি, ২০২৪ সালে নির্বাচনে কীভাবে বাবুল সুপ্রিয়র মতো একজন প্রতিনিধিকে নিয়ে এসেছিল বিজেপি থেকে তৃণমূলে এবং আমাদের বালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের মানুষের কাছে বাবুল সুপ্রিয়র মতো একজনকে প্রতিনিধি করার সাহস দেখিয়েছে তৃণমূল। মানুষ তাদের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে। বাবুল সুপ্রিয় কে ? বাবুল সুপ্রিয় যে আমাদের পশ্চিমবঙ্গে দাঙ্গা লাগানোর চেষ্টা করছে, দাঙ্গা লাগিয়েছে। আসানসোলে যে দাঙ্গা লেগেছিল তাতে ইমামের ছেলের রক্ত বাবুল সুপ্রিয়র হাতে লেগে আছে। মানুষের যে বিপুল বিরোধিতা রয়েছে সেটা দেখতে পেয়েছি ভোটবাক্সে। ফলে, যতই শক্তিশালী ঘাঁটি হোক না কেন ইতিহাস বদলাবেই। বামপন্থীরা সেই ঘাঁটি নাড়িয়ে দেবে।
এবিপি আনন্দ : কিন্তু, বাবুল সুপ্রিয় তো এবার আর প্রার্থী না।
আফরিন বেগম : তার মানে তৃণমূল নিশ্চয়ই ভয় পেয়েছে যে বালিগঞ্জের মানুষ রিজেক্ট করছে বাবুল সুপ্রিয়কে। ফলে, তাঁকে আর দাঁড় করানো যাবে না। তাঁকে পাঠিয়ে দিয়েছে অন্য জায়গায়।





















