(Source: ECI/ABP News)
Manoj Tiwary: '৫ কোটি টাকা দিতে পারিনি, তাই টিকিট পাইনি', তৃণমূল ছেড়েই বিস্ফোরক মনোজ
West Bengal Assembly Election 2026: রাজনীতিতে আসার কোনও ইচ্ছে প্রথম থেকে ছিল না মনোজ তিওয়ারির। ২০২১ এ বিধানসভা নির্বাচনে দাঁড়িয়েছিলেন।

কলকাতা: ১৫ বছরের রাজত্বের পর অবশেষে বাংলায় তৃণমূল কংগ্রেসকে এবার আর বেছে নেয়নি জনগণ। বিধানসভা নির্বাচনে লজ্জার ফল করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের দল। ২৯৪টি আসনের মধ্য়ে মাত্র ৮০টি আসনে জিতেছে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থীরা। আর দলের হারের পরই মুখ খুলতে শুরু করেছেন দলেরই অনেক নেতা ও মন্ত্রীরা। এবার তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়লেন প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার মনোজ তিওয়ারি। শুধু বিদায় জানানো হয়, যেতে যেতে অনেক গুলো অভিযোগও করে গিয়েছেন জাতীয় দলের প্রাক্তন এই ক্রিকেটার ও বাংলা ক্রিকেট দলের প্রাক্তন অধিনায়ক।
মনোজ নিজের সোশ্য়াল মিডিয়ায় একটি ছবি পোস্ট করেছেন। সেখানে তিনি লিখেছেন, 'পাপ বাপকেও ছাড়ে না।' সংবাদ সংস্থা ANI-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মনোজ আরও জানিয়েছেন, 'রাজ্যে দল তৃণমূল কংগ্রেসের এমন ব্যাপক বিপর্যয়ে আমি একেবারেই অবাক হচ্ছি না। যেখানে একটা গোটা দল পুরোপুরি দুর্নীতিতে ডুবে গিয়েছে, সেখানে আর কোনও ভাবেই উন্নতির দেখা মিলবে না। কাজেই এই ফলাফল খুব স্বাভাবিক ছিল এই দলের জন্য।' তবে এর থেকেও গুরুতর একটি অভিযোগ করেছেন প্রাক্তন বাংলা ক্রিকেটার। তিনি জানিয়েছেন, 'তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী টিকিট পেতে হলে ৫ কোটি টাকা করে দিতে হয়। শুধুমাত্র যারা মোটা টাকা খরচ করতে পারবেন তারাই টিকিট পাবেন। এবারও অন্তত ৭০ থেকে ৭২ জন প্রার্থী টিকিট পেয়েছেন ৫ কোটি টাকা করে দেওয়ার বদলে। আমাকেও এই টাকা দিতে বলা হয়েছিল। তবে আমি তাতে রাজি ছিলাম না। তাই টিকিট পাইনি।'
রাজনীতিতে আসার কোনও ইচ্ছে প্রথম থেকে ছিল না মনোজ তিওয়ারির। তিনি জানিয়েছেন, '২০১৯ সালে আমাকে লোকসভা ভোটে দাঁড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। আমি রাজি হইনি। পরে ফের ফোন আসে আমার কাছে। ২০২১ সালে পরে শিবপুর থেকে বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলাম।'
আরও অভিযোগ জানিয়ে মনোজ জানিয়েছেন, 'হাওড়ার বিধায়ক হিসেবে আমাকে ড্রেনেজ সিস্টেমের সমস্যা মেটানোর জন্য এখানে ওখানে দৌড়েছি প্রচুর। কিন্তু কোনও জায়গা থেকে কোনও সাহায্য পাইনি। এখানে পুরসভায় দিনের পর দিন নির্বাচন না করে যাঁরা দায়িত্ব নিয়ে বসে থাকত, তাঁরা কোনও কিছুই পরোয়া করেননি।'
বেহালা পশ্চিমের তৃণমূল প্রার্থী রত্না চট্টোপাধ্যায় হেরে যাওয়ার পর ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, 'নেতাদের কাছে গিয়ে ঔদ্ধত্য পায়, অহঙ্কার পায়, নেতারা কথা শুনতে না চায় নেতাদের কাছে গেলে তাঁরা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন, তখন মানুষ বিরক্ত হয়, অবশ্যই হয়। সিন্ডিকেট কিছুটা হয়েছিল, নো ডাউট। আমার মতো অনেকেই আছেন যাঁরা করেননি। কিন্তু আবার অনেকে আছেও হয়তো, যাঁরা করেছেন, যেটা মানুষকে বিষয়ে দিয়েছে। মানুষের কাছে একটা বিরক্তিকর ব্যাপার হয়েছিল।'
সেরা শিরোনাম




















