Lok Sabha Election 2024: ছাপ্পা ভোট থেকে এজেন্টকে বুথে বসতে বাধা, প্রার্থীকে 'চোর-গো ব্যাক' স্লোগান; অশান্তিতেই পঞ্চম দফাও
Fifth Phase Lok Sabha Elections : কার্যত বঙ্গের সাত কেন্দ্রে বনগাঁ, ব্যারাকপুর, হাওড়া, উলুবেড়িয়া, শ্রীরামপুর, হুগলি ও আরামবাগে অশান্তির একাধিক ছবি উঠে এল।

কলকাতা : কোথাও ছাপ্পা ভোটের অভিযোগ, তো কোথাও বিরোধী প্রার্থীর এজেন্টকে মারধর করে বের করে দেওয়া। কোথাও বিক্ষোভের মুখে পড়লেন সিপিএম প্রার্থী। তো কোথাও বিজেপি প্রার্থী পৌঁছতেই রণক্ষেত্রের চেহারা নিল এলাকা। আবার কোথাও অ্যাকশনে নামল কেন্দ্রীয় বাহিনী। পঞ্চম দফার ভোটে সোমবার এরকমই একাধিক বিক্ষিপ্ত ঘটনার সাক্ষী থাকল রাজ্য। কার্যত বঙ্গের সাত কেন্দ্রে বনগাঁ, ব্যারাকপুর, হাওড়া, উলুবেড়িয়া, শ্রীরামপুর, হুগলি ও আরামবাগে অশান্তির একাধিক ছবি উঠে এল।
রাজ্যের সাত কেন্দ্রে অশান্তির ছবি-
কেন্দ্র- ব্যারাকপুর
অর্জুন সিংকে ঘিরে তৃণমূলের বিক্ষোভ থেকে কৌস্তভ বাগচীর গাড়ি ভাঙচুর। আমডাঙায় বিজেপি সমর্থক ভোটারদের ভোটদানে বাধা দেওয়ার অভিযোগ থেকে সিপিএম ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ। পঞ্চম দফার ভোটে এমনই বিক্ষিপ্ত অশান্তির ঘটনা ঘটল ব্য়ারাকপুর জুড়ে। এদিন একাধিক জায়গায় তৃণমূলের বিক্ষোভের মুখে পড়েন ব্যারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী অর্জুন সিং। অভিযোগ, জগদ্দল বিধানসভার শ্যামনগরের কাছে কাউগাছিতে একটি বুথে বিজেপি এজেন্টকে বসতে বাধা দেওয়া হয়। ঘটনাস্থলে গেলে, অর্জুন সিংকে ঘিরে গো ব্য়াক স্লোগান দেয় তৃণমূল। অর্জুন সিংহকে গো ব্য়াক, কালো পতাকা দেখানো হয়। পাল্টা তেড়ে যান অর্জুনও। ধাক্কাধাক্কি, মারামারি, চেয়ার ছোড়াছুড়ি বাদ যায়নি কিছুই।
কেন্দ্র-হুগলি
এদিন ধনেখালিতে তৃণমূলকর্মীদের বিক্ষোভের মুখে পড়েন লকেট চট্টোপাধ্যায়। গোলমালের মধ্যেই হাজির হন শাসক বিধায়ক অসীমা পাত্র। স্লোগান, পাল্টা স্লোগানে উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। মইদিপুরের বুথে ভোট পরিদর্শনে এসেছিলেন হুগলির বিজেপি প্রার্থী লকেট চট্টোপাধ্যায়। তখনই তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা। দু-পক্ষের মধ্যে চলে কথা কাটাকাটি। ভোটারের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকজনও বিজেপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন। এরই মাঝে বিজেপি প্রার্থীকে দেখে একজন 'চোর চোর' স্লোগান দিতে থাকেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটনাস্থলে আসেন ধনেখালির তৃণমূল বিধায়ক । একটা সময় একেবারে কাছাকাছি চলে আসেন যুযুধান দুই পক্ষ। একদিক থেকে উড়ে আসে 'চোর' স্লোগান, তো অন্যদিকে 'ডাকাত'। এনিয়ে চরম উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়।
ধনেখালি থেকে চন্দননগরে যান হুগলির বিজেপির প্রার্থী লকেট চট্টোপাধ্যায়। সেখানে ১৭৮ নম্বর বুথে তুমুল বিক্ষোভের মুখে পড়েন তিনি। বিক্ষোভকারীদের মধ্যে কেউ কেউ আবার হাতে জুতোও তুলে নিয়েছিলেন। একদিকে যখন লকেট চট্টোপাধ্যায় বিক্ষোভের মুখে পড়েছেন, তেমনি গোঘাটে দফায় দফায় বিজেপির বিক্ষোভের মুখে পড়েন আরামবাগ লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী মিতালি বাগ।
কেন্দ্র- উলুবেড়িয়া
উলুবেড়িয়া কেন্দ্রের বিভিন্ন জায়গায় দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়ায়। এদিন পুলিশের সামনেই বুথের বাইরে তৃণমূল কর্মীদের সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন উলুবেড়িয়ার কংগ্রেস প্রার্থী (Uluberia Congress Candidate) আজহার মল্লিক (Azhar Mallick)। কানপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ঘোড়াদহ উচ্চ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৬৯ নম্বর বুথের ঘটনা। কংগ্রেস প্রার্থীর অভিযোগ, সকাল থেকে বারবার বুথ বের করে দেওয়া হয় তাঁর এজেন্টকে। বুথে গেলে কংগ্রেস প্রার্থীকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন তৃণমূল কর্মীরা। কংগ্রেস প্রার্থীর সঙ্গে হাতাহাতি বেধে যায়। নিজেকে বাঁচাতে বুথের মধ্যে আশ্রয় নেন কংগ্রেস প্রার্থী।
কেন্দ্র-শ্রীরামপুর
এদিকে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সামনেই সিপিএমের এজেন্টকে রাস্তায় ফেলে পেটানোর অভিযোগ ওঠে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। তার আগে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বুথ থেকে বার করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। ডোমজুড়ের মোল্লাপাড়া অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের ২৪৬ নম্বর বুথের ঘটনা। শ্রীরামপুর লোকসভার সিপিএম প্রার্থী দীপ্সিতা ধরের এজেন্ট ছিলেন আলি হোসেন গাজি। ডোমজুড়ের বাঁকড়ায় ১২০ নম্বর বুথে এজেন্টকে বসান শ্রীরামপুরের সিপিএম প্রার্থী। অভিযোগ, রাস্তায় মারধর করা হয় সিপিএম এজেন্টকে। জেলা হাওড়া হলেও ডোমজুড় বিধানসভা শ্রীরামপুর লোকসভার অন্তর্গত। মুন্সিডাঙা বোর্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সিপিএম এজেন্টকে মেরে বার করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। এমনকী, তাঁর চেয়ারও তুলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। খবর পেয়ে বুথে গিয়ে এজেন্টকে বসান শ্রীরামপুরের সিপিএম প্রার্থী দীপ্সিতা ধর। এখানে এতদিন ভোটই হত না, এবার বাধা দিলে প্রতিরোধ হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন দীপ্সিতা।
কেন্দ্র-আরামবাগ
গোঘাটের ৩টি জায়গায় আরামবাগের তৃণমূল প্রার্থীকে ঘিরে বিক্ষোভ, জয় শ্রীরাম স্লোগান ওঠে। সাতবেড়িয়ার ৪৩ নম্বর বুথে তৃণমূল প্রার্থী মিতালি বাগকে দেখে ওঠে জয় শ্রীরাম স্লোগান। বুথের ১০০ মিটারের মধ্যে বিজেপি কর্মীদের জমায়েতের অভিযোগ তোলেন মিতালি। এরপর পুখুরিয়ার ৪৫ নম্বর বুথেও একই ঘটনা ঘটে। তৃণমূল প্রার্থীকে জয় শ্রীরাম স্লোগান দেওয়া নিয়ে উত্তেজনা ছড়ায়। তাঁর গাড়ি আটকে পড়ে। পরে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশ গিয়ে আরামবাগের তৃণমূল কর্মীকে এলাকা থেকে বার করে নিয়ে যায়।
কেন্দ্র বনগাঁ-
ভোটগ্রহণ ঘিরে আজ সকাল থেকেই অশান্তি ছড়ায় বনগাঁ লোকসভার একাধিক এলাকায়। কোথাও তৃণমূল-বিজেপির সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। বিরোধীদের এজেন্টকে বসতে না দেওয়ার অভিযোগ থেকে বিরোধী দলের কর্মীদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। অভিযোগ অস্বীকার করেছে শাসকদল। এদিন পুলিশের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্য়কর অভিযোগ তোলেন বনগাঁর বিজেপি প্রার্থী শান্তনু ঠাকুর।
তাঁর অভিযোগ, গয়েশপুর এলাকায় তৃণমূলের নেতৃত্বে ছাপ্পা ভোট হচ্ছিল। তিনি যাওয়া মাত্র সাইরেন বাজিয়ে তৃণমূল কর্মীদের সতর্ক করে দিচ্ছিল রাজ্য় পুলিশ। অন্যদিকে, বনগাঁ লোকসভার তৃণমূল প্রার্থী বিশ্বজিৎ দাসের অভিযোগ, গোপালনগর গিরিবালা বালিকা বিদ্যালয়ে ১১৪ ও ১১৫ নম্বর বুথে তাঁর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা।
কেন্দ্র-হাওড়া
ভোটের শুরুতেই অশান্ত হয়ে ওঠে হাওড়া লোকসভা কেন্দ্রের একাধিক এলাকা। এজেন্টকে বাধা, তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষ থেকে বোমাবাজি---বাদ গেল না কিছুই। এমনকী সালকিয়ায় একটি আবাসনের আবাসিকদের ভয় দেখিয়ে ভোট দিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠল বহিরাগতদের বিরুদ্ধে। পরে কেন্দ্রীয় বাহিনী এসে ভোটারদের বুথে নিয়ে যায়।
সিপিএম ও তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষকে ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ডোমজুড়ের ৭১ নম্বর বুথ চত্বর। শুরু হয়ে যায় ইটবৃষ্টি। অন্যদিকে, রাজখোলা পাড়ায় সিপিএমের প্রার্থী পৌঁছতেই তাঁকে ঘিরে শুরু হয় বিক্ষোভ। জয় বাংলা স্লোগান।
আপনার পছন্দের খবর আর আপডেট পাবেন আপনার পছন্দের চ্যাটিং প্ল্যাটফর্ম হোয়াটস অ্যাপেও। যুক্ত হোন ABP Ananda হোয়াটস অ্যাপ চ্যানেলে।





















