Malda Incident : মোথাবাড়ির আসল 'মাথা' কে ? পিছন থেকে কারা কলকাঠি নেড়েছে ? ভয়ঙ্কর অভিযোগ !
West Bengal SIR Protest : ধর্মীয় মেরুকরণের উদ্দেশ্য়েই কি মোথাবাড়িকাণ্ড ঘটানো হয়েছে ? ভোটের মুখে এতে কার লাভ হল ?

আশাবুল হোসেন, সুদীপ চক্রবর্তী ও শিবাশিস মৌলিক : মোথাবাড়িকাণ্ড নিয়ে চড়ছে রাজনৈতিক তরজার পারদ। শাসক দল তৃণমূল হোক বা বিরোধী, একে অপরের ঘাড়ে দায় চাপাতে ব্যস্ত। এই প্রেক্ষাপটে অমিত শাহ থেকে শুরু করে বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনকে একযোগে আক্রমণ শানালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাল্টা জবাব দিয়েছে বিজেপিও।
মোথাবাড়ির আসল 'মাথা' কে ? পিছন থেকে কারা কলকাঠি নেড়েছে ? ভোটের স্বার্থেই কি এমনটা করা হয়েছে ? কে সেই ষড়যন্ত্রী ? ধর্মীয় মেরুকরণের উদ্দেশ্য়েই কি মোথাবাড়িকাণ্ড ঘটানো হয়েছে ? ভোটের মুখে এতে কার লাভ হল ? তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন, "মালদায় যে ঘটনা করা হয়েছিল, বিচারকদের অ্যাটাক করা হয়েছিল, যে করেছে তাঁকে হাতেনাতে কে ধরেছে জানেন ? আমাদের CID। মুম্বই থেকে বিজেপি ধার করে ওই MIM-কে নিয়ে এসেছে। ISF-ও ওদের সঙ্গে। কংগ্রেসেরও উস্কানি আছে। আর বিজেপিরও উস্কানি আছে।"
যদিও নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুরের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, "অবিলম্বে সাবিনা ইয়াসমিন সহ চক্রান্তকারীদের গ্রেফতার করা হোক। NIA অথবা CBI তারা যে চার্জ নিয়েছে, কোনও দেরি না করে তথ্য যেহেতু নষ্ট হবে, কালকে গাড়ির কাচ ভেঙেছে। আগুন লাগিয়েছে।"
২৩ ও ২৯ এপ্রিল, পশ্চিমবঙ্গে ২ দফায় হতে চলেছে বিধানসভা ভোট। গতবারের মতো এবারও রাজ্যের শাসক দল তৃণমূলের অন্যতম অস্ত্র 'খেলা হবে' স্লোগান। আর সেই স্লোগানকে হাতিয়ার করে বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনকে একসঙ্গে আক্রমণ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফের নিশানা করেছেন অমিত শাহকেও। তৃণমূল নেত্রী বলেছেন, "৫টা রাজ্যে ভোট হচ্ছে, তাই তো ? অসম, তামিলনাড়ু, কেরল, বাংলা- ৫০৬ জন অফিসারকে ট্রান্সফার করেছে। তার মধ্যে শুধু বাংলায় ৪৮৩ জনকে ট্রান্সফার করেছে। বুঝতে পারছেন খেলাটা। এর চক্রান্তের খেলা, বুঝে নেব। খেলা হবে, দুরন্ত খেলা।" পাল্টা বিজেপি মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার বলেন, "৫ রাজ্যে যে ভোট হচ্ছে সেখানে কোথাও SDO অফিস পুড়েছে নাকি ! কোথাও এরকম জাতীয় সড়কের ওপর প্ররোচনামূলক বক্তৃতা দিয়ে জজ সাহেবদের আটকে রাখা হয়েছে....এখানে অনুপ্রেরণাদাত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর তৃণমূল কংগ্রেস। তাঁরা এইসব গোলমাল করেছেন যার জন্য এইসব ঘটনা ঘটছে।"
বৃহস্পতিবার রাজ্যে এসে তৃণমূলকে উৎখাতের ডাক দেন অমিত শাহ। তিনি বলেছেন, "এক একটা করে আসন জিতবেন, ১৭০টা আসন পর্যন্ত পৌঁছবেন, তখন পরিবর্তন হবে। এই বছর মমতাজি সারা বাংলায় হারবেন, আর ভবানীপুরেও হারবেন।"
অন্যদিকে, সুর চড়িয়ে মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায় বলেন, "ও মোটা ভাই, যতই সন্ত্রাস করো ভাই, যতই কুৎসা করো ভাই, সবার বাড়িতে ভোটের আগে যতই ED করো ভাই, অনৈতিক। আমার সঙ্গে যারা কাজ করতো, বর্ডার আটকাতো, তাদের সময় এসব করতে দিতাম না। তাই তোমরা বদলা নিতে গিয়ে... বিজেপি জিতবে না সামনাসামনি।"
কেন্দ্রীয় এজেন্সি নিয়েও আক্রমণ শানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, "আরে, খবর আমাদের কাছেও আছে। কোথায় কোথায় টাকা ব্রিফকেসে করে, কোন কেন্দ্রীয় এজেন্সি নিয়ে যাচ্ছে, আর কার ঘরে ঢুকছে, সব রেখে দিয়েছি যত্ন করে। সময় মতো দিয়ে দেব।" বিজেপি নেতা সুভাষ সরকার বলেন, "বিজেপি কখনো কেন্দ্রীয় সরকারের কোনও সংস্থাকে অপব্যবহার করে না। যত অপব্যবহার করতো তাহলে তো গোটা মন্ত্রিসভাটাই জেলের মধ্যে ঢুকে থাকত।"
এবারের ভোটের সব নজর মুখ্যমন্ত্রীর কেন্দ্রে। নন্দীগ্রামের পাশাপাশি এবার ভবানীপুরেও বিজেপি প্রার্থী হিসাবে লড়ছেন শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার অমিত শাহর উপস্থিতিতে নমিনেশন জমা দেন তিনি। অমিত শাহ বলেন, "বাংলার নির্বাচনের জন্য আমি ১৫ দিন বাংলাতেই থাকতে চলেছি।" পাল্টা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, "সবাইকে ভয় দেখানোর জন্য বলছে আমি ২৫ দিন বাংলায় থাকব। আমি বলছি, তুমি ২৫ দিন কেন, তুমি ৩৬৫ দিন থাক। তাতেও কিছু যায় আসে না। তোমার মুখের মধ্যে অত্যাচারের চিহ্ন, স্বৈরাচারের চিহ্ন, দাঙ্গার চিহ্ন। এটা মাথায় রেখ।" আক্রমণ, পাল্টা আক্রমণ। সব মিলিয়ে সপ্তমে ভোটমুখী রাজ্যের পারদ।





















