Samik Bhattacharya : বাঙালি মাছ ছাড়া থাকবে কী করে! বিজেপি হয়েও স্পষ্ট কথা শমীকের, বরং বলছেন, দল তো...
Samik Bhattacharya EXCLUSIVE: 'বাঙালি মাছ ছাড়া থাকবে কী করে'...বলছেন মৎস্য-প্রিয় শমীক ভট্টাচার্য। ভাবছেন, পার্টির বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মাছের নতুন নতুন পদ খাওয়াবেন !

বিজেপি বাংলায় এলে নাকি মাছ মাংস খাওয়া বন্ধ করে দেবে ! বিভিন্ন সময় এই অভিযোগ করে এসেছে তৃণমূল কংগ্রেস। বিভিন্ন সময় বিজেপির বিভিন্ন নেতার মুখে , বাঙালির মাছ খাওয়ার সমালোচনাও শোনা গিয়েছে। তা নিয়ে এ রাজ্যে বিতর্ক কম হয়নি। তৃণমূল কংগ্রেস বিজেপি নেতাদের এই সব মন্তব্যকে হাতিয়ার করেই বলেছে, 'বিজেপি আমাদের 'মাছে-ভাতে বাঙালি' পরিচয়টাই মুছে ফেলতে চাইছে!' অথচ, এ রাজ্যে বিজেপি দলের কাণ্ডারী, রাজ্যসভাপতি শমীক ভট্টাচার্য রীতিমতো মৎস্যপ্রেমী। তাঁর প্রিয় পদ মানেই আমিষ। তিনি তো বিহারে প্রকাশ্য মাছ-মাংস বিক্রি বন্ধ করে দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন শুনেই, গলা চড়িয়ে বলেছিলেন, 'বিহারী মাছ ছাড়া বাঁচতে পারবে না কি? বিহারী মাংস খাবে না? কী বলছেন? প্রকাশ্য়ে অপ্রকাশ্যে কী? কী হান্ডি বলে মাংসটা? চম্পারন। কলকাতা ছেয়ে ফেলছে। মাছ বাঙালিও খাবে, মাছ বিহারীও খাবে। ওখানে ওরা চম্পারন মিট খাওয়াবে আমাদের। আমরা ওদের কচি পাঁঠার ঝোল খাওয়াব।' ABP Ananda - র বাংলার বিধান অনুষ্ঠানে মুখোমুখি হয়ে রাজ্য বিজেপির একাদশতম সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যর কথায় ছত্রে ছত্রে উঠে এল তাঁর মাছ-প্রীতির কথা। বিজেপি নাকি মাছ খাওয়া বন্ধ করে দেবে , এই বিতর্কে জল ঢেলে বললেন, যে যেটা খাবে, সে সেটা খাবে। খাওয়া নিয়ে বাছবিচার করা যায় না ! কারণ এই শমীকই সবার সামনে সওয়াল করেছিলেন, 'আরে, বিবেকানন্দ বলে গেছেন, মা কালী পাঁঠা খাবে। বাঙালি পাঁঠা খাবে, বিহারী পাঁঠা খাবে। কেউ আটকাতে গেলে ভেঙে গুড়িয়ে দেবে। কে কোথাকার কোন অফিসার বলেছে, আমরা দরকার হলে এখান থেকে লোক পাঠিয়ে দেব।'
সুমন দে : যেদিন তুমি ওই সাংবাদিকরা প্রশ্ন করছিলেন...বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, মাংস খাওয়া নিয়ে যে বিতর্ক, যেটা একই সঙ্গে বিজেপির বিরুদ্ধে তৃণমূলের স্পেসিফিক রাজনৈতিক প্রচার, যে বিজেপি এলে মাটন ছাড়তে হবে, মাছ ছাড়তে হবে...যে প্যাশন নিয়ে যে ডেসিবেলে তুমি বললে, কে বলেছে ! তাতেই বোঝা যায়, মাছ এবং মাংসের প্রতি...
শমীক ভট্টাচার্য : ওঁকে বিজেপির পক্ষ থেকেও সে-কথা বলা হয়েছে। আসলে উপস্থাপনায় ভুল ছিল। উনি বলেছেন আরও হাইজেনিক ওয়েতে বিক্রি করতে হবে। একদম মন্দিরের গায়ে মাছের বাজার বসতে বারণ করেছেন। এটা তো মানুষের ধর্ম ভাবনার ব্যাপার। যাঁরা নিরামিষাশী , মন্দিরে যান, তাঁদের যদি মাছের গন্ধ নাকে লাগে সেই সময়...সেটা তো এখানের বাঙালিও পছন্দ করবেন না। এইটা বলেছেন। সেটা বলতে গিয়ে ঘুর পথে এটা চলে এসেছে। না না, বাঙালি মাছ ছাড়া থাকবে কী করে !
সুমন দে : প্রধানমন্ত্রীও বলেছেন, শ্রাবণ মাসে মাছ খাই, সেই নিয়ে কটাক্ষ ! সেই নিয়ে বাঙালিদের মধ্যে যথেষ্ট প্রতিক্রিয়া হয়েছিল। ইনফ্যাক্ট আমার মনে পড়ছিল, যখন শত্রুঘ্ন সিনহা ওটা বললেন, তুমি তখন বোধ হয় পার্লামেন্টে, ২০২৪ এর ফেব্রুয়ারি মাস...যে প্যাশন নিয়ে তুমি বাঙালির চিংড়ি মাছের মালাইকারির উপর সওয়াল করলে...তাতে বোঝা যায় যে তুমি বিজেপি হলেও
শমীক ভট্টাচার্য : বিজেপি তো বলেনি মাছ ...
সুমন দে : তুমি দিনের শেষে...তোমার মূল পরিচয়, ওই যে অমর্ত্য সেনের আছে না...বিভিন্ন পরিচয় একটা মানুষের থাকে, তোমার বাঙালি পরিচয়টা সবার উপরে, সেদিন বোঝা গিয়েছিল।
শমীক ভট্টাচার্য : অটলজি তো খুব ভাল মাছ খেতেন । ইলিশ। কষ্ট করে হলেও ইলিশ খেতেন। টক খেতেন।
সুমন দে : তাই ! আচ্ছা। তাই বোধ হয় কলকাতায় আসতে এত ভালবাসতেন ! মাছ, মিষ্টি দই..উনি তো মিষ্টিও খুব ভালবাসতেন।
শমীক ভট্টাচার্য : ফিশ ফ্রাই। খাওয়ার ব্যাপারে ওঁর কোনও বাছবিচার ছিল না। অনেকেরই নেই আমাদের দলের মধ্যে।
সুমন দে : কিন্তু পরেশ রাওয়াল যখন বললেন, আমার মনে হয়, তখন তোমার আরও জোরালো প্রতিবাদ করা উচিত ছিল। ওই রকম একটা মন্তব্য।
শমীক ভট্টাচার্য : যে যেটা খাবে, সে সেটা খাবে। খাওয়া নিয়ে বাছবিচার করা যায় না।
সুমন দে : আগে নাকি রাজ্য বিজেপির যে অনুষ্ঠানগুলো হত, তাতে মেনু নিরামিষ থাকত।
শমীক ভট্টাচার্য : এখনও হয়।
সুমন দে : তাই, আমি তো শুনেছি, এখন রাজ্য বিজেপির বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আমিষ খাওয়া হয়।
শমীক ভট্টাচার্য : আগেও হয়েছিল। তখন পয়সা কম থাকত
সুমন দে : তাহলে এখন পয়সা বেড়েছে?
শমীক ভট্টাচার্য : হ্যাঁ দল বড় হয়েছে। পয়সা বেড়েছে অস্বীকার করার তো উপায় নেই।
তার প্রতিবাদ করেছে, সেটা মাটন-প্রেমী ছাড়া কেউ করতেই পারে না। শমীক বলছে -- "বাঙালি পাঁঠা খাবে, বিহারী পাঁঠা খাবে।" দলের মধ্যে নিরামিষাশীরা চটে যাননি?





















