Mothabari News: ১০ দিন আগে আশঙ্কায় প্রশাসনকে চিঠি বিচারকদের, তারপরও কেন ব্যবস্থা নেওয়া হল না? মোথাবাড়ি কাণ্ডে পুলিশের ভূমিকায় প্রশ্ন
Malda Mothabari Update; BDO অফিসে কেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকতে হল জুডিশিয়াল অফিসারদের? মালদার মোথাবাড়ির ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।

কলকাতা: ১০ দিন আগে আশঙ্কা প্রকাশ করে প্রশাসনকে চিঠি দিয়েছিলেন। ঘটনার দিন দুপুরেও প্রশাসনকে পরিস্থিতির কথা জানিয়েছিলেন বিচারকরা। তারপরও কেন ব্যবস্থা নেওয়া হল না? BDO অফিসে কেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকতে হল জুডিশিয়াল অফিসারদের? মালদার মোথাবাড়ির ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।
আরও পড়ুন, ভোটের আগে আমলা-বদলি বিতর্কে এবার ব্যাখ্যা কমিশনের, "IAS, IPS, WBCS, WBPS অফিসারদের.."
বুধবার মালদার মোথাবাড়িতে এরকমই ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির মুখে পড়েন জুডিশিয়াল অফিসাররা। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে SIR-এর কাজ করছেন যাঁরা, তাঁদের ঘিরে এরকম বিক্ষোভ হল কী করে? কী করে এতক্ষণ ধরে ঘেরাও হয়ে থাকলেন তাঁরা? এই ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে! প্রশ্ন উঠছে কেন্দ্রীয় বাহিনী ভূমিকা নিয়ে! প্রশ্ন উঠছে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে! সূত্রের খবর, বুধবার যখন BDO অফিসের বাইরে বিক্ষোভের পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে, তখন বেলা সাড়ে ১২টা নাগাদ জেলা বিচারকের মাধ্য়মে প্রশাসনের কাছে তা জানিয়েছিলেন জুডিশিয়াল অফিসাররা। কিন্তু, তারপরও ঘণ্টার পর ঘণ্টা, সেখানে আটকে থাকতে হয় মহিলা-সহ বাকি বিচারকদের। কেন প্রশাসনের তরফে আগেই কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হল না?
উত্তরবঙ্গ ADG কে জয়রমন বলেন, পুলিশ ওখানে দিনের বেলায় ছিল। সেখানে বিক্ষোভ চলছিল। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভই হচ্ছিল। ওটাতে তো অসুবিধা হওয়ার কোনও কারণ নেই। জজ সাহেবরা সাধারণত সাড়ে ৫টা-৬টা পর্যন্ত কাজ করেন। ৬টার পরেই ওঁদের বাড়ি যাওয়ার কথা। সেই সময়ই আমরা (বের) করতে পারিনি। আমরা ওঁদের বার করতে পারিনি। কারণ অনেক মেয়েরা, অনেক বাচ্চারা ছিল। সেইজন্য ফোর্স ব্যবহার করতে আমাদের দেরি হয়েছে। শুধু তাই নয়, সূত্রের খবর, বুধবারের ঘটনার অনেক আগেই এই বিচারকরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। ১০ মার্চ থেকে মালদায় SIR-এর কাজ করছেন ৪ মহিলা-সহ ৮ জন জুডিশিয়াল অফিসার।
সূত্রের খবর, ২২ তারিখ জেলা বিচারকের মাধ্য়মে প্রশাসনের কাছে তাঁরা মৌখিকভাবে জানান, পরিস্থিতি ঠিক নয়। ঠিক পরদিন অর্থাৎ ২৩ মার্চ ৫ বিচারকের সই-সহ একটি চিঠিও দেন তাঁরা। যেখানে প্রথম পয়েন্টেই নিরাপত্তার বিষয়ে উল্লেখ করা হয়। সূত্রের খবর, সেই চিঠিতে জুডিশিয়াল অফিসাররা মূলত তুলে ধরার চেষ্টা করেছিলেন যে, ভোটের তালিকায় নাম তোলার ক্ষেত্রে অযোগ্য, এমন কিছু স্থানীয়দের দ্বারা নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। এই প্রত্যন্ত এলাকায় আমাদের যাতায়াত রীতিমতো ঝুঁকিপূর্ণ।
সূত্রের খবর, ওই চিঠিতে তাঁদের কাজের জায়গা মালদা শহরের আশপাশে সরিয়ে আনার আবেদনও জানান বিচারকরা। প্রশ্ন উঠছে, প্রায় ১০ দিন আগে বিচারকরা আশঙ্কার কথা জানালেও প্রশাসন কিছুই করল না? BDO অফিস, যেখানে SIR-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ করছেন খোদ বিচারকরা, সেখানে কীভাবে এমন ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি তৈরি হল? কলকাতা পুলিশ প্রাক্তন ডেপুটি কমিশনার সত্যজিৎবন্দ্যোপাধ্য়ায় বলেন, শুরুতেই কেন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, প্রশ্ন তুলেছেন মুখ্য় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারও।
সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার ভার্চুয়াল বৈঠকে মালদার জেলাশাসককে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার প্রশ্ন করেন - আপনাকে ফোন যোগাযোগ করা যায়নি। বাড়িতে ছিলেন না? কোথায় ছিলেন? মালদহের পুলিশ সুপারকেও জ্ঞানেশ কুমার বলেন - ঘটনাস্থলে যাননি কেন? উত্তরে SP জানান - অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। তখন মুখ্য় নির্বাচন কমিশনার বলেন - তাহলে আপনাকে ADG করে দিই? ডিজি, জেলাশাসকদের কড়া বার্তা দিয়ে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে আরেকটা সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু এরপর আর নয়।




















