Party Flag Factory: সিপিএম, তৃণমূল, বিজেপি, সব দল মিলেমিশে একাকার হাওড়ার উনসানির কারখানাগুলিতে
West Bengal Assembly Election: হাওড়ার উনসানিতে পতাকা তৈরীর কারখানা গুলিতে সারা বছর তৈরি হয় নানা ধরনের পতাকা। তবে সবচেয়ে বেশি ব্যস্ততা থাকে ভোট এলে।

সুনীত হালদার, হাওড়া: রাজ্যে শুরু হয়ে গিয়েছে ভোট উৎসব। আর ভোট মানেই মিটিং, মিছিল, সভা। প্রতিক্ষেত্রেই কিন্তু দলীয় পতাকা একেবারে মাস্ট। ভোটের ঢাকে কাঠি পড়তেই ব্যস্ততা তুঙ্গে হাওড়ার পতাকা তৈরীর কারখানায়। কারিগররা নাওয়া খাওয়া ভুলে দিনরাত তৈরি করছেন সব রাজনৈতিক দলের পতাকা। সিপিএম, বিজেপি, তৃণমূল কংগ্রেস, নেই কোনও ভেদাভেদ। একদিকে তৃণমূলের পতাকা তৈরি হচ্ছে, তো পাশেই বানানো হচ্ছে বিজেপির পতাকাও। ভোটের উৎসবে কিন্তু শামিল এই কারিগররাও।
ভোটের আগে রাজনৈতিক দলগুলির প্রচারের হাতিয়ার দলীয় পতাকা। মিছিল, মিটিং অথবা রাস্তায় টাঙানোর জন্য লাগে দলের পতাকা। হাওড়ার উনসানিতে পতাকা তৈরীর কারখানা গুলিতে সারা বছর তৈরি হয় নানা ধরনের পতাকা। প্রজাতন্ত্র দিবস এবং স্বাধীনতা দিবসের আগে জাতীয় পতাকা তৈরির কাজ বেশি হয়। তবে সবচেয়ে বেশি ব্যস্ততা থাকে ভোট এলে। এবারেও তার ব্যতিক্রম নয়।
জাতীয় নির্বাচন কমিশন দুই দফায় ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা করতেই এই কারখানা গুলিতে হু হু করে অর্ডার আসতে শুরু করেছে। তৃণমূল কংগ্রেস, বিজেপি, সিপিএম, কংগ্রেস, আইএসএফ, প্রায় সব দলের প্রার্থীরা হোয়াটসঅ্যাপে তাদের পতাকা তৈরীর অর্ডার দিচ্ছেন এখানে। ভোটের মুখে কর্মীরাও চরম ব্যস্ত। সকাল আটটা থেকে রাত দশটা পর্যন্ত কাজ করছেন তাঁরা। মাঝে সামান্য সময় টিফিন টাইম। যেভাবেই হোক সময়ের মধ্যে পৌঁছে দিতে হবে রাজনৈতিক পতাকা।
পতাকা তৈরির এক কারিগর শেখ সাইফুল জানালেন ইদে মাত্র দুইদিন ছুটি পেয়েছেন। তারপর তাঁকে কাজে যোগ দিতে হয়েছে। এখন দিনে ১২ থেকে ১৪ ঘন্টা কাজ করতে হচ্ছে যাতে ভোটের আগে পতাকা হাতে পেতে পারে দল। সব দলের পতাকা তৈরি করলেও সবচেয়ে বেশি পতাকা তৈরি করছেন তৃণমূল এবং সিপিএমের। একটি কারখানার মালিক রাজু হালদার বলেন, 'এখান থেকে পতাকা উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা ছাড়াও দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলাতে পাঠানো হয়। এমনকি কলকাতার বড় বাজারেও পাঠানো হয়। ভোটের সময় চাহিদা সবচেয়ে বেশি। ১৫-২০ ইঞ্চি এবং ২০-৩০ ইঞ্চি, এই দুই সাইজের পতাকার চাহিদা বেশি। প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর এই চাহিদা আরও বেড়ে যায়। তাই কারখানার কর্মীরা ছাড়াও বাইরের কারিগরদের দিয়ে কাজ করানো হয়।'
পতাকা তৈরীর কারখানায় সব রং মিলেমিশে এক। ভোট আসে ভোট যায়। জোরকদমে চলে পতাকা তৈরি। তবে এখানকার কারিগরদের একটাই আক্ষেপ ভোট মিটলে যে দল ক্ষমতায় আসুক কেউ তাদের খবর নেয় না। এবার সেই ছবিটা বদলাবে? সময়ই দেবে এর জবাব।





















