Suri TMC-BJP News: তৃণমূলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ, বিজেপি প্রার্থীর সামনেই কেঁদে ফেললেন তৃণমূল বুথ সভাপতির মা
West Bengal Assembly Election 2026: সিউড়ি পুরসভার তৃণমূলের বুথ সভাপতি রবি সাহার মা শান্তারানি সাহা বিজেপি প্রার্থীকে দেখেই ভেঙে পড়েন কান্নায়। ক্ষোভ উগরে দেন বর্তমান রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে।

কলকাতা : প্রচারে গিয়েছিলেন সিউড়ির বিজেপি প্রার্থী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। আর তাঁকে দেখেই ক্ষোভে ফেটে পড়লেন এক তৃণমূল কর্মীর মা। সিউড়ি পুরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূলের বুথ সভাপতি রবি সাহার মা শান্তারানি সাহা বিজেপি প্রার্থীকে দেখেই ভেঙে পড়েন কান্নায়। ক্ষোভ উগরে দেন বর্তমান রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে। যদিও এই ঘটনাকে পাত্তা দিতে চাননি তৃণমূলের ওই বুথ সভাপতি। তিনি বলেন, মায়ের মাথার ঠিক নেই।
২৭ মার্চ শুক্রবার সকালে সিউড়ি পুরসভার হাটজন বাজারের ১৮৬ নম্বর বুথে প্রচারে যান সিউড়ি বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। সেই সময় তাঁর সঙ্গে দেখা হয় ওই বুথেরই তৃণমূল সভাপতি রবি সাহার মা শান্তারানি সাহার সঙ্গে। আর সামনে বিজেপির প্রার্থীকে দেখেই কান্নায় ভেঙে পড়েন শান্তা দেবী।
শান্তারানি সাহা বলেন, "ছেলেরা সব বেকার। বস্তা টানলে তবে ভাত হয়। লেবার খেটে মেয়েটাকে কষ্ট করে বিএ পড়িয়েছি, পাশও করেছে। মেয়েটা কোনও কাজ পায়নি। ২ মাস, ৩ মাস পর সরকারের হাজার টাকা আসে। এখন তো ওষুধ কিনতে গেলেই তো ২ হাজার টাকা লাগে। কে খোঁজ নেয়? গোটা পাড়ায় একটাই কল, এতদিন ভেঙে পড়েছিল। এই ঠিক করা হল।"
সিউড়ির বিজেপি প্রার্থী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় জানান, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের মানুষের ক্ষোভ নিয়নট্রোয়ণ করতে পারছেন না। আর সিউড়ি পুরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল নেতা তাঁর মায়ের ক্ষোভ নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না। তাঁর মেয়ের কান্না আমি আজ দেখলাম।"
এই বিষয়ে শান্তারানি শহর ছেলে অর্থাৎ তৃণমূল কর্মী রবি সাহাকে জিজ্ঞাস করা হলে তিনি অবশ্য ঘটনটিকে পাত্তা দিতেই চাননি। তাঁর বন্তব্য, মায়ের মাথা খারাপ। "মায়ের বয়স হয়েছে। মাকে এক বিজেপি কর্মী বুঝিয়েছিলেন জগন্নাথ বাবুর কাছে গিয়ে কাঁদবেন। তাহলে আপনার সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। মায়ের মাথারও ঠিক নেই।"
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলরের স্বামী তথা তৃণমূল নেতা পবিত্র দাস বলেন, "উনি বয়স্ক মানুষ। কী বলতে কী বলে ফেলেছেন। ওঁরা সবাই লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পান। ওঁর এক ছেলেকে আমি পুরসভার হেলথ সেন্টারে কাজে ঢুকিয়ে দিয়েছি।" তবে তৃণমূল যাই বলুক না কেন, এই ঘটনায় দলের নীচের তলা থেকে বিধানসভার নেতারা পর্যন্ত সকলেই যে বেশ অস্বস্তিতে রয়েছে, সেই কথা বলাই যায়।




















