Exit Poll: পশ্চিমবঙ্গে এক্সিট পোলে বামেদের অবস্থান কোথায়? কেরলেও কমছে আসন সংখ্যা?
এক্সিট পোলে বামেরা পিছিয়ে! কেরল-পশ্চিমবঙ্গে প্রভাব দুর্বল হওয়ার লক্ষণ? জেনে নিন সম্পূর্ণ পরিসংখ্যান।

কলকাতা: শেষ হয়েছে বিধানসভা নির্বাচন। ভোট শেষে বুথ ফেরত সমীক্ষা অনুযায়ী বেশিরভাগ এক্সিট পোল অনুযায়ী ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে বাম দলগুলো দুর্বল অবস্থানেই রয়েছে। কেরালা ও বাংলায় আসন সংখ্যা রয়েছে কমের দিকে। উল্লেখযোগ্য তেমন কিছু নেই। রাজ্যবাসীর রায় কোন দিকে যেতে পারে, তা নিয়ে সমীক্ষা চালিয়েছে একাধিক সংস্থা। পরিবর্তন না প্রত্যাবর্তন, কী ইঙ্গিত দিচ্ছে সমীক্ষক সংস্থাগুলো।
দেশজুড়ে পাঁচটি রাজ্যে নির্বাচনের পর প্রকাশিত এক্সিট পোলগুলোতে বাম দলগুলোর রেজাল্ট নিয়ে তেমন উল্লেখযোগ্য কিছু নয়। এমনকি যে রাজ্যগুলোতে একসময় বামদের শক্তিশালী ঘাঁটি বলে মনে করা হতো, সেখানেও এবার পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে বলে মনে হচ্ছে। এই পাঁচটি রাজ্যের মধ্যে বাম দলগুলোর প্রকৃত ভরসা ছিল মাত্র দুটি রাজ্যে: কেরালা এবং পশ্চিমবঙ্গ। কেরালায় দীর্ঘদিন ধরে বাম সরকার রয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আছেন পিনারাই বিজয়ন। পশ্চিমবঙ্গে বামেরা প্রায় ৩৫ বছর ধরে একটানা শাসন করেছিল। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার সেই শাসনের অবসান ঘটান। এরপর বিধানসভাতেও শূন্য আসন থাকে বামেদের।
এবার পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি কেরলে বামদের অবস্থান খুবই দুর্বল বলে মনে হচ্ছে। বিভিন্ন জনমত সমীক্ষা অনুযায়ী, বাম দলগুলো সেখানে কম আসনে জিততে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
কেরলে বামপন্থীদের জন্য চ্যালেঞ্জ
কেরলে বামদের পরিস্থিতি ভালো নয়। যেখানে আগে বামেরা সরকার গঠনের দ্বারপ্রান্তে ছিল, সেখানে এখন এক্সিট পোল কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন জোটকে এগিয়ে দেখাচ্ছে। অনুমান অনুযায়ী, কেরালায় বামেরা প্রায় ৫৯টি আসন জিততে পারে, অন্যদিকে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন জোট প্রায় ৭৭টি আসন পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা সরকার পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে, যদি এই এক্সিট পোলগুলো সঠিক প্রমাণিত হয়, তাহলে এর অর্থ হবে বাম দলগুলো তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী ঘাঁটি কেরলেও ক্ষমতা হারাতে পারে। বামেরা ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গ এবং ত্রিপুরার মতো রাজ্যগুলিতে তাদের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে, এবং এখন কেরালাতেও তাদের অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়ছে বলে মনে হচ্ছে।
আরও পড়ুন, RSS কর্মীদের মারধর, উত্তপ্ত বেহালা, থানায় গেলে আক্রান্তদেরই গ্রেফতার পুলিশের! ভয়ঙ্কর অভিযোগ!
পশ্চিমবঙ্গে এবার কত আসন পেতে পারে বামেরা? কী বলছে সমীক্ষা?
বিধানসভা ভোটে বুথ ফেরত সমীক্ষা চালিয়েছে পিপলস পালসও। তাদের সমীক্ষায় আবার এগিয়ে রয়েছে তৃণমূল। এই সমীক্ষা অনুযায়ী, তৃণমূল ১৭৭ থেকে ১৮৭টি আসন পেতে পারে। অর্থাৎ ক্ষমতা ধরে রাখতে পারে তারা। তৃণমূলকে কড়া টক্কর দিয়ে ৯৫ থেকে ১১০টি আসন পেতে পারে বিজেপি। বিধানসভায় খাতা খোলার জোরাল সম্ভাবনা রয়েছে সিপিএমের। সমীক্ষক সংস্থা পোল ডায়েরির ডেটা অনুযায়ী, বিজেপি ১৪২ থেকে ১৭১টি আসনে জিতে পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবার ক্ষমতায় আসতে পারে। ৯৯ থেকে ১২৭টি আসন যেতে পারে তৃণমূলের ঝুলিতে। ৩ থেকে ৫ আসনে কংগ্রেস এবং ২ থেকে ৩টি আসন পেয়ে খাতা খুলতে পারে বামেরা।
আরেক সমীক্ষক সংস্থা জনমত পোলস-এর সমীক্ষা অনুযায়ী আবার চতুর্থবারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হতে পারেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাদের সমীক্ষায় দাবি, ১৯৫ থেকে ২০৫ আসনে জয়ী হতে পারে তৃণমূলের। ৮০ থেকে ৯০ আসনে আটকে যেতে পারে বিজেপি। কংগ্রেস ১ থেকে ৩টি আসন বামেদের খাতা খোলার সম্ভাবনাও রয়েছে।
তবে এসবই একটা সম্ভাবনা মাত্র। অতীতে একাধিকবার ভুল প্রমাণিত হয়েছে এক্সিট পোল। আবার কখনও তা মিলেও গেছে। তাই আদতে কোন দল জিতবে, আর কারা পরাজিত হবে তা বোঝা যাবে ৪ মে, সোমবার।
Disclaimer: রাজ্যে দু’দফায় বিধানসভা নির্বাচন হয়ে গেল। জনতা জনার্দন কী রায় দিয়েছে? পরিবর্তন নাকি প্রত্যাবর্তন, কী ভাবছেন ভোটাররা? সেই সব উত্তর আর প্রার্থীদের ভাগ্য এখন EVM বন্দি। তবে, তা নিয়ে বুথ ফেরত সমীক্ষা করেছে দেশের বিভিন্ন মিডিয়া। সেই দুহাজার পাঁচ সাল থেকে এবিপি আনন্দে প্রতিটি নির্বাচনে ওপিনিয়ন পোল বা এক্সিট পোল আপনাদের সামনে তুলে ধরা হচ্ছে। তার মধ্যে কিছু মিলেছে, আবার কিছু মেলেনি। মেনে নিতে এতটুকুও দ্বিধা নেই যে, এইসব সমীক্ষার accuracy কিন্তু ক্রমশ কমছে। এর কারণ, শুধুমাত্র সমীক্ষার Sample Size ছোট হওয়া নয়, ইদানিং এর বড় কারণ চ্যাটবট বা বিভিন্ন AI সফটওয়্যারের ব্যবহার। Field-Survey যত কমবে, মোবাইল বা AI সফটওয়্যারের ব্যবহার যত বাড়বে, বাস্তবের সঙ্গে সমীক্ষার ফারাক তত বাড়বে। তবুও, প্রতিষ্ঠিত সমীক্ষক সংস্থাগুলো বাংলার ভোট নিয়ে যে-সব সমীক্ষা করবে, তাদের সবার সমীক্ষাই আমরা তুলে ধরব। কিন্তু এই সমীক্ষার সঙ্গে আমাদের জার্নালিস্টিক জাজমেন্ট বা এডিটোরিয়াল পলিসির কোনও সম্পর্ক নেই। সমীক্ষক সংস্থার দেওয়া সংখ্যাগুলো হুবহু আপনাদের সামনে তুলে ধরা হচ্ছে মাত্র। আরও স্পষ্ট করে জানানো হচ্ছে, এবিপি আনন্দ নিজস্ব কোনও সমীক্ষা করেনি। রাজ্যের মসনদে কে, তা জানা যাবে একমাত্র ৪ মে-ই।
সেরা শিরোনাম




















