এক্সপ্লোর

'চিকিৎসার সময় বাড়বে শুনে ওর মুখটা যন্ত্রণায় কুঁকড়ে যায়' ঐন্দ্রিলাকে নিয়ে লিখছেন সব্যসাচী

উৎস, ফেসবুকে লেখা এক একটা লম্বা পোস্ট। সেখান থেকেই স্বাস্থ্যের খবর আর মনের হদিশ পাওয়া যায় অভিনেত্রীর।

কলকাতা: উৎস, ফেসবুকে লেখা এক একটা লম্বা পোস্ট। সেখান থেকেই স্বাস্থ্যের খবর আর মনের হদিশ পাওয়া যায় অভিনেত্রীর। আর মনের মানুষকে নিয়ে লেখা যেন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে তাঁর প্রেমিকের। তাঁর কলমে ঝরে পড়ে ভালোবাসা আর লড়াইয়ের গল্প। দুই চরিত্র। নাম, সব্যসাচী চৌধুরী ও ঐন্দ্রিলা শর্মা। 

সম্প্রতি নিজের ফেসবুক পোস্টে ঐন্দ্রিলার স্বাস্থ্যের খবর ভাগ করে নিয়েছেন অভিনেতা সব্যসাচী। এক বছরের বেশি সময় ধরে ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছেন অভিনেত্রী ঐন্দ্রিলা শর্মা। শরীরের জন্য বাধ্য হয়ে ছাড়তে হয়েছে শ্যুটিং ফ্লোর। মারণ রোগের সঙ্গে প্রেমিকার প্রতিনিয়ত লড়াইয়ের কথা ফুটে ওঠে সব্যসাচীর কলমে। 

সম্প্রতি একটি ফেসবুক পোস্টে সব্যসাচী লিখছেন, 'প্রতি মাসের শেষে ঐন্দ্রিলাকে নিয়ে লেখাটা আমার প্রায় রীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। আসলে সারা মাস ধরে বহু সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে নানান পত্রপত্রিকা এবং সংবাদমাধ্যম আমায় নিয়মিত প্রশ্ন করেন ওর বিষয়ে। আমি কাউকেই বিশেষ কিছু বলি না, আসলে ‘ভালো আছে’ বলতে আমার ভয় লাগে। সত্যি বলতে, চোখের সামনে আমি যা দেখেছি এবং নিয়মিত দেখছি, সেটাতে ভালো থাকা বলে না, সেটাকে অস্তিত্বের লড়াই বলে। অবশ্য এইসব খটোমটো কথা কেবলমাত্র আমিই বলি, ওকে যদি কেউ জিজ্ঞাসা করে তাহলে এক গাল হেসে উত্তর দেবে “খুব ভালো আছি, আমার রাশিফল ভালো যাচ্ছে।”

প্রসঙ্গত বলি, অসুস্থ হওয়ার আগে জানুয়ারী মাসে কাকে যেন হাত দেখিয়েছিলো, আমি এসবে খুব একটা বিশ্বাস করি না, তাই আমায় আগে জানায়নি। তিনি কুষ্ঠী বিচার করে বলেছিলেন, “ রাশিফল ভালো যাচ্ছে, এই বছর তোমায় নিচের দিকে তাকাতেই হবে না।” সত্যিই তাই, মাথার ওপরে সিলিং ফ্যান আর ঝুলন্ত কেমোর বোতল দেখেই ওর বছর পার হতে চলল। সে যাই হোক, দেখলাম যে জ্যোতিষশাস্ত্রের ওপর থেকে ওর বিশ্বাসটা প্রায় উঠে গেছে।
 
যা বুঝলাম, এই অসুখটার কোনো নিয়মবিচার নেই, ওষুধপত্র সবই আছে অথচ নেই, চিকিৎসার নির্দিষ্ট দিনক্ষণ আছে কিন্তু আরোগ্যের নেই। কথা ছিল সেপ্টেম্বর অবধি চিকিৎসা চলবে, ক্রমে সেটা গুটিগুটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ডিসেম্বরে। প্রতিবার যখন ডাক্তার বলেন চিকিৎসার সময় বাড়াতে, ওর মুখটা যন্ত্রনায় কুঁকড়ে যায়। প্রতিবার কেমো নেওয়ার পর কয়েক রাত অসহ্য যন্ত্রনায় ছটফট করে। শুয়ে থাকলে মনে হয়ে বুকে পাথর চেপে বসছে, আবার উঠে বসলে শ্বাস নিতে পারে না। রক্তচাপ মাঝেমধ্যেই ৮০/৪০ এ এসে ঠেকে। খাওয়ার ইচ্ছা এবং স্বাদ চলে যায়। আধখানা ফুসফুস বাদ যাওয়াতে সবটাই বড় কঠিন কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। খুব কড়া ডোজের ঘুমের ওষুধ খাইয়ে একপ্রকার অচেতন করে রাখা হয় ওই কয়েকটা দিন। তবে বাকি দিনগুলিতে দিব্যি ঠিক থাকে, পুজোর জন্য অনলাইন শপিং, আমার ওপর হম্বিতম্বি, লেজওয়ালা বাচ্চাদের তদারকি, সবটাই পরিপাটি করে পালন করে।
 
আরেকটা বিষয় আমি উপলব্ধি করেছি, ক্যানসার শুনলেই অধিকাংশ মানুষ মূলত দুই ভাবে প্রতিক্রিয়া দেয়। প্রথমটি হল, ক্যান্সারের কোনও উত্তর নেই। দ্বিতীয়টি হলো, “ আরে এটা কোনও ব্যাপারই না, এই তো আমার অমুকের হয়েছিল, কেমো চলাকালীন কাজকর্ম সবই করতো, এখন তো ঠিকই আছে।” বাস্তবে দুটোর কোনোটাই সত্যি নয়। প্রতিটা মানুষের ক্ষেত্রে অসুখটা ভিন্ন জাতের এবং ভিন্ন মাপের। বিভিন্ন বিষয়ের ওপর তার মাত্রা নির্ভর করে। ২০১৫ তে যখন ঐন্দ্রিলার প্রথমবার ক্যানসার ধরা পরে, প্রাথমিক বিপদ কেটে যাওয়ার পর, কেমো চলাকালীন ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করতো, টিউশন যাওয়া থেকে শুরু করে স্কুটি চালানো, সবই করেছে, কিন্তু এই বার বিষয়টা একদমই উল্টো। মাঝেমধ্যে বিছানা থেকে নেমে বাথরুম যাওয়ারও জোর পায় না।
 
যদিও ক্রিকেট আমার পছন্দের খেলা, তবে ইউনিভার্সিটিতে পড়ার সময় অবধি আমি একটু আধটু গোলকিপিং করতাম। খুব একটা যে ভালো খেলতাম তা নয়, তবে খুব মন্দও নয়। মাঝেমধ্যে গোল খেলে বন্ধুরা খুব হাসাহাসি করতো ঠিকই, তবু আমি ভালোবেসেই খেলতাম। দুই পক্ষেই এগারোজন করে খেলে, হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়, এগুলো দেখেই আমি অভ্যস্ত। কিন্তু এটা তো আর তা নয়, এ বড় অসম লড়াই। একটা তেকাঠি রক্ষা করতে পুরো দলটা কেবল লড়েই যায়, ডাক্তার, পরিবার, বন্ধু, সমাজ, সকলে। এরই ফাঁকে যে কত কাছের মানুষ অচেনা হয়ে যায়, আবার কত দূরের মানুষ নিঃস্বার্থে প্রার্থনা করে, তা হিসেবের বাইরে।
 
এই লড়াইয়ে কোনও নিয়ম নেই, সময়সীমা নেই, আক্রমণ নেই, কাউন্টার অ্যাটাক নেই, কেবল রক্ষণটুকু আছে। তবে খেলার মাঠেও আক্রমণ করার ক্ষমতা আমার ছিল না, এখানেও তা নেই। আমি শুধু দাঁতে দাঁত চিপে আগলাতে পারি, আমি শুধু বুঝি, গোল না খাওয়া মানে জিতে যাওয়া। খেলার মাঠের বন্ধুরা কেউই আর সেইভাবে অবশিষ্ট নেই আমার জীবনে। মাঝেমাঝে ইচ্ছা হয় তাদের ডেকে এনে বলি, একবার দেখে যা হতচ্ছাড়াগুলো, জীবনের সেরা কিপিংটা আমি এখন করছি।' (অপরিবর্তিত)

ক্যানসারের সঙ্গে প্রতিনয়ত লড়াই, কেমোর যন্ত্রণা, তা সত্ত্বেও ঐন্দ্রিলার প্রাণশক্তি অফুরন্ত। হামেশাই নিজের রোগ নিয়ে হালকা চালে মজা করেন অভিনেত্রী। শাসন করলেই বলে ওঠেন, 'এরকম করো না গো, আমি তো একটা অসুস্থ মানুষ.. অপারেশনের রুগী…'। ভালোবাসার মানুষের রোজনামচা লিখতে গিয়ে সব্যসাচীর লাইনে লাইনে আবেগ। 

বিনোদন জগত থেকে শুরু করে অনুরাগীরা চান, একেবারে সুস্থ হয়ে শ্যুটিং ফ্লোরে ফিরুক হাসিখুশি ঐন্দ্রিলা। রোগমুক্তি ঘটুক, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব। ঐন্দিলা ফিরুক, ফিনিক্স হয়ে।

 

আরও পড়ুন
Sponsored Links by Taboola

সেরা শিরোনাম

Sai Pallavi: কঙ্গনা রানাওয়াতের সিনেমায় একসময় ছিলেন জুনিয়র আর্টিস্ট, আজ 'রামায়ণ'-এর সীতা সাই পল্লবী
কঙ্গনা রানাওয়াতের সিনেমায় একসময় ছিলেন জুনিয়র আর্টিস্ট, আজ 'রামায়ণ'-এর সীতা সাই পল্লবী
Excessive Mobile Phone Use: ফোনে মুখ গুঁজে থাকার চরম মাশুল গুনতে হল, ঘাড়ে অস্ত্রোপচার নায়িকার, একধাক্কায় কয়েক লক্ষ টাকা খসল
ফোনে মুখ গুঁজে থাকার চরম মাশুল গুনতে হল, ঘাড়ে অস্ত্রোপচার নায়িকার, একধাক্কায় কয়েক লক্ষ টাকা খসল
Bollywood News: মল্লিকা শেরাওয়াতকে পছন্দ টম ক্রুজের? নায়িকা বললেন, ‘আমার উপর ক্রাশ খেয়েছে, ভিডিও পাঠায় ’
মল্লিকা শেরাওয়াতকে পছন্দ টম ক্রুজের? নায়িকা বললেন, ‘আমার উপর ক্রাশ খেয়েছে, ভিডিও পাঠায় ’
Piyush Mishra Targets Naseeruddin Shah: নসীরুদ্দিন শাহকে বেনজির আক্রমণ কঙ্গনা রানাউতের, পাশে পেলেন বলিউডের আর এক অভিনেতাকে?
নসীরুদ্দিন শাহকে বেনজির আক্রমণ কঙ্গনা রানাউতের, পাশে পেলেন বলিউডের আর এক অভিনেতাকে?

ভিডিও

ঘণ্টাখানেক সঙ্গে সুমন পর্ব ২ (১৩.৮.২৬)।নেতাজিকে 'দেশদ্রোহী' বলা অনন্ত মহারাজের 'বঙ্গবিভূষণ' কাড়ল সরকার
ঘণ্টাখানেক সঙ্গে সুমন পর্ব ১ (১৩.৮.২৬)। আর জি করকাণ্ডে অবশেষে গ্রেফতার নির্মল ঘোষ। Nirmal Ghosh
Panihati। Nirmal Ghosh : নির্মল ঘোষ গ্রেফতার, খবর ছড়িয়ে পড়তেই পানিহাটিতে উচ্ছ্বাস, চলল মিষ্টিমুখ
Anant Maharaj: অনন্ত মহারাজের দলীয় সদস্য়পদ খারিজের দাবি তুললেন তথাগত রায়। Tathagata Roy
Anant Maharaj: নেতাজিকে 'দেশদ্রোহী' বলা, অনন্ত মহারাজের বঙ্গবিভূষণ সম্মান কেড়ে নিল রাজ্য় সরকার

ফটো গ্যালারি

ব্যক্তিগত কর্নার

সেরা প্রতিবেদন
সেরা রিল
Independence Day 2026: দেশের জাতীয় পতাকা, সংবিধান ও জাতীয় সঙ্গীতের প্রতি সম্মান না দেখালে কী শাস্তি হতে পারে জানেন?
দেশের জাতীয় পতাকা, সংবিধান ও জাতীয় সঙ্গীতের প্রতি সম্মান না দেখালে কী শাস্তি হতে পারে জানেন?
Vaibhav Sooryavanshi: টেস্টে খেলার ক্ষমতা রয়েছে বৈভবের? টিম ইন্ডিয়ার বিস্ময় বালককে নিয়ে ম্যাথু হেডেন যা বললেন...
টেস্টে খেলার ক্ষমতা রয়েছে বৈভবের? টিম ইন্ডিয়ার বিস্ময় বালককে নিয়ে ম্যাথু হেডেন যা বললেন...
Excessive Mobile Phone Use: ফোনে মুখ গুঁজে থাকার চরম মাশুল গুনতে হল, ঘাড়ে অস্ত্রোপচার অ্যাডাল্ট ছবির নায়িকার, একধাক্কায় কয়েক লক্ষ টাকা খসল
ফোনে মুখ গুঁজে থাকার চরম মাশুল গুনতে হল, ঘাড়ে অস্ত্রোপচার অ্যাডাল্ট ছবির নায়িকার, একধাক্কায় কয়েক লক্ষ টাকা খসল
Netaji Subhas Chandra Bose: নেতাজিকে ‘দেশদ্রোহী’ বলে আক্রমণ, “এটা তো নেহেরু বলেছেন..”, দাবি BJP-র অনন্ত মহারাজের
নেতাজিকে ‘দেশদ্রোহী’ বলে আক্রমণ, “এটা তো নেহেরু বলেছেন..”, দাবি BJP-র অনন্ত মহারাজের
Sai Pallavi: কঙ্গনা রানাওয়াতের সিনেমায় একসময় ছিলেন জুনিয়র আর্টিস্ট, আজ 'রামায়ণ'-এর সীতা সাই পল্লবী
কঙ্গনা রানাওয়াতের সিনেমায় একসময় ছিলেন জুনিয়র আর্টিস্ট, আজ 'রামায়ণ'-এর সীতা সাই পল্লবী
IND vs BAN: বাংলাদেশ সফরে কি যাবে ভারতীয় দল ? কোথায় দাঁড়িয়ে সফরের ভবিষ্যৎ
বাংলাদেশ সফরে কি যাবে ভারতীয় দল ? কোথায় দাঁড়িয়ে সফরের ভবিষ্যৎ
Netaji Subhas Chandra Bose: 'উনি হাউসে পাগড়ি পরে আসতেন, ওনার মাথায় কিছু নেই', অনন্ত মহারাজ প্রসঙ্গে কী বললেন সৌগত রায় ?
'উনি হাউসে পাগড়ি পরে আসতেন, ওনার মাথায় কিছু নেই', অনন্ত মহারাজ প্রসঙ্গে কী বললেন সৌগত রায় ?
Uttar Pradesh News: ১০ টাকায় এক লিটার, গোমূত্র কিনছে উত্তরপ্রদেশ সরকার, শিশুদের মিড ডে মিলে মাথাপিছু বরাদ্দ ৬.৭৮ টাকা
১০ টাকায় এক লিটার, গোমূত্র কিনছে উত্তরপ্রদেশ সরকার, শিশুদের মিড ডে মিলে মাথাপিছু বরাদ্দ ৬.৭৮ টাকা
Embed widget