Dev on Anirban Bhattacharya: '১০ মাস ধরে একটা মানুষ 'ব্যান', তাঁকেও তো সংসার খরচ চালাতে হবে', অনির্বাণ প্রসঙ্গে মন্তব্য দেবের
Dev on Anirban Bhattacharya Issue: সাংবাদিক আর অনুরাগীদের প্রশ্নের উত্তরে দেব যেমন ধোঁয়াশা বজায় রেখেছিলেন, শুভশ্রীর প্রশ্নের উত্তরেও কিছুটা সেই ধোঁয়াশাই জিইয়ে রাখলেন তিনি

কলকাতা: দেব-শুভশ্রীর (Dev and Subhasree Ganguly) পুজোর ছবি, অর্থাৎ 'দেশু সেভেন' (DeSu7)-এ অনির্বাণ ভট্টাচার্য (Anirban Bhattacharya) থাকছেন কি না.. তা নিয়ে ক্রমাগত চর্চা চলছে। সদ্যই শোনা গিয়েছিল যে, এই সিনেমায় খলনায়কের চরিত্রে দেখা যেতে চলেছে অনির্বাণকে। তবে দেব-কে এ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে, তিনি ধোঁয়াশা বজায় রাখেন। আর আজ, বিনোদন দুনিয়ার সবার নজর ছিল যে ফেসবুক লাইভের দিকে, তা হল দেব আর শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়ের। এই প্রথম, পুজোর ছবি নিয়ে ঘোষণা করতে পাশাপাশি বসে ফেসবুক লাইভ করলেন তাঁরা। দর্শকদের প্রশ্নের উত্তর যেমন দিলেন, পাশাপাশি ছবি নিয়েও বড় ঘোষণা করলেন। আর এই লাইভেই, শুভশ্রী সরাসরি দেবকেই প্রশ্ন করে বসলেন, তাঁদের পুজোর ছবিতে অনির্বাণ থাকছেন কি না? কী উত্তর দিলেন দেব?
সাংবাদিক আর অনুরাগীদের প্রশ্নের উত্তরে দেব যেমন ধোঁয়াশা বজায় রেখেছিলেন, শুভশ্রীর প্রশ্নের উত্তরেও কিছুটা সেই ধোঁয়াশাই জিইয়ে রাখলেন তিনি। এদিন শুভশ্রী দেবকে প্রশ্ন করেন যে, অনির্বাণ কী 'দেশু সেভেন' (DeSu7)-এ থাকছেন? দেব বলেন, 'অনির্বাণকে নিয়ে কিছু সমস্যা তৈরি হয়েছে। সেই সময়ে আমি আমার কাজ নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। খবরে বিষয়টা দেখলাম। সেই সময়ে বিষয়টা না ভাবলেও, তারপর থেকে ভাবতে শুরু করলাম। ফেডারেশনের সঙ্গে ওর একটা মনোমালিন্য চলছে। আমি চাই, সবাই যেন সুস্থভাবে কাজ করতে পারে। আমি, জিৎ-দা আর বুম্বাদা (প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়) বাদ দিয়ে, নায়কই নেই... অঙ্কুশ, আবির, পরমব্রত সবাই চেষ্টা করছে। আমরা সবাই চেষ্টা করছি। সেখান থেকে একজন নায়ককে ব্যান করে দেওয়া মানে তো অনেকগুলো কাজও বন্ধ হয়ে যাওয়া। ১ বছরে অনির্বাণ 'হইচই'-তে একাধিক সিরিজ করে ফেলে। বছরে অন্তত ১০০ দিন তো ও কাজ করে। সেই ১০০ দিনের কাজটা বন্ধ। আমি আগের দিন অনির্বাণের হয়ে ক্ষমা চাইলাম। একজন লিডারের কাজ হচ্ছে, মানুষকে ২ বেলা খাবার জোগাড় করে দেবে। তার খাবার বন্ধ করে দেবে না।'
দেব আরও বলেন, 'একজন শিল্পীর কাছে, তাঁর সম্মান ছাড়া আর কী রয়েছে? সব বিষয়ে ক্ষমা চাইতে হবে কেন? যদি একজন সর্দারজিকে বলা হয় পাগড়ি খুলে পায়ের নিচে রাখতে বা মুসলিম কোনও ভাইকে বলা হয় টুপি খুলে পায়ের নিচে রাখতে বা ব্রাহ্মণকে বলা হয় ঠাকুর ফুল পায়ে ছোঁয়াতে.. এটা কেন? একজন শিল্পীর কাছে তার সম্মানটা চলে গেলে সে তো উলঙ্গ হয়ে যাবে। বাঙালি শুধুই কী কাঁকড়ার জাত? আমরা তো বিপ্লবীর জাত ও ছিলাম। বাঙালি হচ্ছে প্রথম বিপ্লবী যারা আগলে রাখার জন্য লড়াইতে নেমেছিল। আমি বলছি.. আমি গতকাল অবধি ও 'দেশু সেভেন' (DeSu7)-এর মধ্যে অনির্বাণকে চাইছিলাম না, কিন্তু আজ আমি সত্যিই চাইছি অনির্বাণ কাজ করুক। আমাদের রাজ্যে রাজনীতি রয়েছে... কিন্তু কখনও কোনও নেতা দলবদল করতে তাঁকে তো সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষমা চাইতে দেখিনি।'
এরপরে শুভশ্রী বলেন...'আমাদের মানুষজন ভীষণ নরম। সেখানে ক্ষমা চাওয়া.. কাউকে ছোট করা, কাউকে বড় করা কেন? আমরা তো ছোট থেকেই বিশ্বাস করে এসেছি, জেনে এসেছি যে, কাউকে ছোট করে বড় হওয়া যায় না। সেখানে শিল্পীদের জায়গা...' এখানে দেব শুভশ্রীকে থামিয়ে দিয়ে বলেন, 'শুধু শিল্পী নয়, কখনও যদি আমার কোনও টেকনিশিয়ান ভাই বোনেদের সমস্যা হয়, আমি তাদের হয়েও লড়ব। ১০ মাস ধরে একটা লোককে ব্যান করলে, তাকেও তো সংসার চালাতে হবে। খরচ চালাতে হবে। সে বেচারা ব্লগার হয়ে যাচ্ছে.. কোথাও গান গাইছে, সেখানেও বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে.. আবার আমি ফেডারেশন এবং সমস্ত টেকনিশিয়ানদের বলছি.. ইগো এমন এটা জিনিস, সেটা যত বাড়াবে, তত নিচের দিকে টেনে নামাবে। হিটলার ও একটা সময়ে নিজেকে নায়ক মনে করতেন। আমি ইন্ডাস্ট্রির প্রত্যেকটা মানুষকে অনুরোধ করব.. আসুন সবাই একসঙ্গে কাজ করি। অনির্বাণ বা যাঁরা যাঁরা ব্যান হয়ে রয়েছেন, তাঁদের হয়ে আমি ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। আমরা একটা খারাপ উদাহরণ তৈরি করছি।'
এরপরে দেব, এবিপি লাইভ বাংলাকে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের দেওয়া সাক্ষাৎকারের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, 'বুম্বাদা একটি সাক্ষাৎকারে বলেছেন, কথাটা একদম ঠিক যে, আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে কী উদাহরণ তৈরি করে যাচ্ছি? একজন অভিনেতাকে ব্যান করে দিল আর আর্টিস্ট গিল্ড চুপ করে সেটা দেখছে! প্রশ্ন হল, কাজ করতে পারবেন কি না? আমার মনে হয়, যদি দর্শক চান, বাংলায়, বাংলার বাইরে যদি দর্শক চান অনির্বাণ কাজ করবেন, যদি চান দেব-শুভশ্রী সবাই মিলেমিশে কাজ করবেন.. তাহলে সব ঠিক হয়ে যাবে।'






















