Bengali News: বড়পর্দায় সাহিত্যের গল্প, সঙ্গে ভৌতিক ছোঁয়া! 'ভূতপূর্ব'-তে থাকছে কী কী চমক?
New Bengali Film: গল্পে ষাটের দশকের শেষ ভাগের সময়কালকে দেখানো হবে। গল্পটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মনিহারা বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের "তারানাথ তান্ত্রিক" এবং মনোজ সেনের শিকার গল্প থেকে নেওয়া হয়েছে

কলকাতা: ফের একবার, সাহিত্যের চরিত্র রুপোলি পর্দায়। এ বার আসছে কাকলি ঘোষ-অভিনব মুখোপাধ্যায়ের ছবি ‘ভূতপূর্ব’। গল্প লেখার বদলে বড় পর্দায় এবার গল্প বলবেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, মনোজ সেন। বিভূতিভূষণের বাড়িতে বৈঠকে আসবেন নীলকণ্ঠ, শশীধর। তাঁরা শোনাবেন ‘মণিহারা’, ‘তারানাথ তান্ত্রিক’, ‘শিকার’-এর গল্প। প্রসঙ্গত, বড় পর্দায় ‘মণিহারা’র গল্প প্রথম দেখিয়েছিলেন সত্যজিৎ রায়। তাঁর ‘তিন কন্যা’ ছবিতে। তারানাথ তান্ত্রিক এর আগেও এসেছে ছোট পর্দায়। ছবিতে অভিনয় করেছেন রূপাঞ্জনা মিত্র, সন্দীপ্তা সেন, সুহোত্র মুখোপাধ্যায়, সত্যম ভট্টাচাৰ্য। এছাড়াও রয়েছেন, সপ্তর্ষি মৌলিক, অমৃতা চট্টোপাধ্যায়। সাহিত্যের পাতা থেকে উঠে আসা চেনা চরিত্র হয়ে উঠবেন এঁরাই। প্রযোজনা সংস্থা হল ইন্দোশ্রী।
গল্পে ষাটের দশকের শেষ ভাগের সময়কালকে দেখানো হবে। গল্পটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের "মনিহারা" বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের "তারানাথ তান্ত্রিক" এবং মনোজ সেনের "শিকার" মূলগল্প থেকে নেওয়া হয়েছে। ‘তারানাথ তান্ত্রিক’ ও ‘মণিহারা’ ছাড়াও এই ছবিতে ‘শিকার’ গল্পটিতেও। পূর্ণেন্দু ভট্টাচার্যের জীবনকে নিয়ে তৈরি হয়েছে এই গল্প। ‘মণিহারা’ গল্পে দেখানো হবে ফণীভূষণ ও তাঁর স্ত্রীয়ের গল্প। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা এই গল্প সবারই জানা। অন্যদিকে ‘তারানাথ তান্ত্রিক’-এর গল্পে দেখানো হবে মাতু পাগলী-র পর্যায়টিকে। তারানাথ তান্ত্রিকে প্রচুর অন্যান্য চরিত্র রয়েছে। তবে এখানে তুলে ধরা হবে মাতু পাগলী-র অধ্যায়কে।
'ভূত'পূর্ব এক রাতের তিনটি গল্প, তিনজন কথক, আর এক অভিন্ন রহস্যের গল্প। ষাটের দশকের শেষভাগে, এক বৃষ্টিভেজা সন্ধ্যায় বিভূতিভূষণের বাড়িতে হাজির হয় দুই অচেনা ব্যক্তি—নীলকণ্ঠ ও শশীধর। তিনজনের আড্ডা জমে ওঠে, আর সেই আড্ডার মধ্যেই খুলে যায় তিনটি ভিন্ন কাহিনির পাতা। প্রথম গল্প ‘মনিহারা’—রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কালজয়ী রচনা থেকে অনুপ্রাণিত, যেখানে বনেদি ব্যবসায়ী ফণীভূষণ সাহা ও তার স্ত্রীর গয়নার প্রতি লোভের মধ্য দিয়ে উঠে আসে এক মর্মান্তিক পরিণতি। দ্বিতীয় গল্প ‘তারানাথ তান্ত্রিক’, বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সৃষ্টি, যেখানে এক তান্ত্রিকের অলৌকিক অভিজ্ঞতা, গৃহত্যাগ ও মাতু পাগলীর দীক্ষা লাভের রহস্যময় অধ্যায় উঠে আসে। তৃতীয় গল্প ‘শিকার’, মনোজ সেনের লেখা থেকে গৃহীত, যেখানে ইন্দো-চীন যুদ্ধোত্তর সময়ে অপরাধ জগতের অন্ধকারে প্রবেশ করে এক শিক্ষিত যুবক পূর্ণেন্দু, যার গন্তব্য হয়ে ওঠে এক ভৌতিক রহস্য। প্রতিটি গল্পই প্রথমে আলাদা মনে হলেও, শেষ পর্বে এসে তাদের মধ্যে সূক্ষ্ম এক সংযোগ প্রকাশ পায়। ভূতপূর্ব শুধুমাত্র একটি অ্যান্থোলজি নয়, এটি সময়, স্মৃতি ও অতৃপ্ত আত্মার সম্মিলনে গড়ে ওঠা এক রহস্যময় অভিজ্ঞতা।






















