Tanishk Bagchi: জন্ম কলকাতায়, বাংলা থেকেই কাজের শুরু, একসময় মুম্বইয়ের স্টেশনে রাত কাটিয়েছেন এই সঙ্গীতশিল্পী!
Tanishk Bagchi News: বাংলা থেকে এসে মুম্বইতে নিজের জায়গা তৈরি করা.. তানিষ্কের জন্য এই পথটা সহজ ছিল না

কলকাতা: তাঁর জন্ম কলকাতাতেই, তারপরে কর্মসূত্রে মুম্বই পাড়ি দেওয়া। তবে তাঁর কাজের শুরু হয়েছিল কলকাতাতেই। তাঁর সঙ্গীত শিক্ষার একেবারে গোড়ার দিকের সাক্ষী এই বাংলা। পায়ে পায়ে সময় পেরিয়েছে। তিনি এখন মুম্বইয়ের অন্যতম জনপ্রিয় মিউজিক কম্পোজার। তানিস্ক বাগচী (Tanishk Bagchi)। সদ্য মুক্তি পেয়েছে তাঁর কম্পোজ করা নতুন একটি গান, 'সাঁইয়ারা'। হিন্দি গানের একেবারে ৯০-এর দশকের স্মৃতি মনে করিয়ে দেবে এই গান। কীভাবে তৈরি হল এই গান? কলকাতা থেকে মুম্বইতে কাজ করতে গিয়ে কী কী অভিজ্ঞতা হয়েছিল সঙ্গীতশিল্পীর? এবিপি লাইভ বাংলাকে মুম্বইতে বসে মুঠোফোনে সেই গল্প শোনালেন তানিস্ক বাগচী।
'সাঁইয়ারা' গান তৈরির সূত্রপাত কীভাবে? তানিষ্ক বলছেন, 'যখন আস্তে আস্তে স্বাধীন শিল্পী, স্বাধীন মিউজিকের ধারণা তৈরি হচ্ছে, আমি শিল্পীদের সঙ্গে একসঙ্গে মিলে কাজ করতে চেয়েছিলাম। আমিই প্রথম গায়ক গায়িকাদের সঙ্গে কোল্য়াবরেশন করা শুরু করি। আমার কাছে কাশ্মীর থেকে ফাহিম, আর্সানল আর জুনেদ এসেছিল। ৩ জনের গানই আমার ভীষণ ভাল লেগেছিল। খুব সাধারণ ঘরের ওরা। আমি বলেছিলাম, তখনও সুযোগ তৈরি হলে ওদের ডাকব। সেই সময়ে ৩-৪টে গান ওদের সঙ্গে তৈরিও করেছিলাম। এরপরে আমি 'সাঁইয়ারা' গানটা নিয়ে কাজ শুরু করি। পুরো গান তৈরি করার পদ্ধতির মধ্যে মোহিত স্যর ছিলেন। আমার কেরিয়ারের একেবারে শুরুর দিক থেকেই আমি সমস্ত গান নিয়ে ওর সঙ্গে আলোচনা করি। ওঁর সঙ্গে আমার খুব ভাল সম্পর্ক। গান তৈরি হওয়ার পরে নিজে ওনাকে গেয়ে শোনাই গানটা। সিনেমায় গানটা দারুণ ফিট হচ্ছিল। এরপরে আমি ফাহিমকে ডাকলাম। ওকে দিয়ে গান গাওয়ালাম। সিনেমাটার সঙ্গেও আমি একেবারে প্রথম থেকে যুক্ত ছিলাম। সবার সঙ্গে কাজ করে আমার ভীষণ ভাল লেগেছে। গানটা ইরশাদ ভাই লিখেছেন। দর্শকেরাও গানটা ভালবাসছেন। ফাহিম আর ইরশাদও খুব প্রশংসা পাচ্ছে কাশ্মীরে। আমার কেরিয়ারে এমন একটা সময় ছিল, যখন আমিও কষ্ট করেছি। সেই সময়ে আমি সহযোগীতা পেয়েছি। তাই আমিও এখন চেষ্টা করি নতুনদের সাহায্য করার।'
বাংলা থেকে এসে মুম্বইতে নিজের জায়গা তৈরি করা.. তানিষ্কের জন্য এই পথটা সহজ ছিল না। তানিষ্ক বলছেন, 'আমায় কম কষ্ট করতে হয়নি। এখন এত কথা বলছি.. কিন্তু একটা সময়ে আমি খুব চুপচাপ থাকতাম। কারণ আমার কাছে পয়সাই ছিল না। আমি মুম্বইয়ের রাস্তায় থেকেছি। গোরেগাঁও স্টেশনে সাত আটদিন রাত কাটিয়েছি কারণ আমার থাকার মতো কোনও ঘর ছিল না। কোথাও গিয়ে যে খাব, সেই পয়সাও ছিল না। তবে আমি এখন উপভোগ করি সেই সময়টাকে। যে একটা সময়ে আমার কাছে কিছুই ছিল না। কিন্তু এখন রয়েছে।'
'সাঁইয়ারা' গানটাতে একটা পুরাতনী ছোঁয়া রয়েছে। মানুষ কেন এমন গান শুনতে চায় বলে মনে করেন তানিষ্ক? শিল্পী বলছেন, 'মানুষ সবরকম গানই শুনতে চায়। মানুষ যে গান শুনতে চান, সেটা হিট হয়। 'সাঁইয়ারা'-র যে আবেগ, সেটা মানুষ ছুঁতে পারবেন সহজেই।' বাংলা থেকেই কাজের শুরু, ফের বাংলায় ফিরে কাজ করার ইচ্ছা রয়েছে তানিষ্কের? শিল্পী বলছেন, 'কেন নয়? বাংলা আমার শিকড়। আমি বাংলার বাউল গান থেকে শুরু করে বিভিন্ন ফোক গান নিয়ে কাজ করছি। এই নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় আমি বিভিন্ন চুক্তিবদ্ধ ও হয়েছি। আমি বাংলা মিউজককে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরতে চাই।'






















