Aspergillus fumigatus: ঝড়ের গতিতে ছড়াচ্ছে মারণ-ছত্রাক, ওষুধ নেই...শরীরে ঢুকেই নষ্ট করছে ব্রেন, কিডনি, ফুসফুস
আমেরিকার অনেক জায়গায় ছড়িয়ে পড়ছে এই অসুখ। সাধারণত, দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন মানুষের জন্য মারাত্মক হয়ে উঠছে এই অসুখ।

অ্যাস্পারগিলাস ফুমিগেটাস । বিপজ্জনক ছত্রাক । দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। পরপর অসুস্থ হচ্ছে মানুষ। বাতাসে ভেসে শরীরে সিঁধ কাটছে। তারপর তার পরিণাম ঘটছে ভয়ঙ্কর। আমেরিকার অনেক জায়গায় ছড়িয়ে পড়ছে এই অসুখ। সাধারণত, দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন মানুষের জন্য মারাত্মক হয়ে উঠছে এই অসুখ।
এই ছত্রাকের সংক্রমণের পরিণাম ভয়ঙ্কর। তা শরীরের ভেতরটাকে এক্কেবারে পচিয়ে দেয়। ফ্লোরিডা, লুইসিয়ানা, টেক্সাস, জর্জিয়া এবং ক্যালিফোর্নিয়ার মতো রাজ্যগুলিতে এই সংক্রমণ ঘটছে লক্ষণীয় হারে। সম্প্রতি এই অসুখকে ই কারণেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) অ্যাসপারগিলাস ফিউমিগাটাসকে ক্রিটিক্যাল প্রায়োরিটি প্যাথোজেন ক্যাটাগরিতে তালিকাভুক্ত করেছে ।
আমেরিকায় দ্রুত বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা
আমেরিকার উষ্ণ এবং আর্দ্র জলবায়ুযুক্ত অঞ্চলে অ্যাস্পারগিলাস ফুমিগেটাস বেশ দ্রুত বেড়েছে। সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (CDC) অনুসারে, এই ছত্রাকটি বিশেষ করে হানা দিচ্ছে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল, এমন মানুষের শরীরে। দেখা গিয়েছে, ক্যান্সার রোগী, অঙ্গ প্রতিস্থাপন হয়েছে এমন ব্যক্তি এবং এইচআইভি/এইডস আক্রান্ত ব্যক্তিরা ঝুঁকিতে রয়েছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণে এই ছত্রাকের বাড়বাড়ন্ত। ম্যানচেস্টার ইউনিভার্সিটির একটি গবেষণা অনুসারে, ২১০০ সাল পর্যন্ত এই ছত্রাক ইউরোপের ৭৭.৫% বেশি অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এছাড়াও, উত্তর আমেরিকাতেও এর প্রভাব বাড়বে।
অ্যাস্পারগিলাস ফুমিগেটাস কী?
অ্যাস্পারগিলাস ফুমিগেটাস একটি স্যাপ্রোট্রফিক ছত্রাক, যা মাটি, পচনশীল গাছপালায় পাওয়া যায়। এই ছত্রাক বাতাসে ভাসে। শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে ফুসফুসে প্রবেশ করে। সাধারণত, সুস্থ সবল মানুষ, যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভাল, তারা এই ছত্রাকে আক্রান্ত হন না। কিন্তু দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন ব্যক্তিরা নিজেদের রক্ষা করতে পারেন না। এই ছত্রাক শরীরে ঢুকে টিস্যুগুলিকে নষ্ট করতে শুরু করে। তারপর তা পচিয়ে দেয়। আস্তে আস্তে ছত্রাসের প্রভাবে নষ্ট হতে থাকে ফুসফুস, মস্তিষ্ক, হৃদপিণ্ড এবং কিডনির মতো অঙ্গগুলি।
এই ছত্রাকের লক্ষণগুলি কেমন হয়?
অ্যাস্পারগিলাস ফুমিগেটাস দ্বারা সৃষ্ট রোগ বিভিন্ন ধরনের হতে পারে। এর লক্ষণগুলি নির্ভর করে এটি শরীরের কোন অংশকে প্রভাবিত করছে এবং রোগীর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কেমন তার উপর। অ্যাসপারগিলাস ফিউমিগ্যাটাস উষ্ণ, আর্দ্র পরিবেশে বেড়ে ওঠে। এটি ১২০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের বেশি তাপমাত্রাতেও বেঁচে থাকতে পারে। এর লক্ষণগুলি কেমন হয় জেনে নিই।
- অ্যালার্জিক ব্রঙ্কোপালমোনারি অ্যাস্পারগিলোসিস (ABPA): এটি হাঁপানি বা সিস্টিক ফাইব্রোসিসের রোগীদের মধ্যে সাধারণ। লক্ষণগুলির মধ্যে শ্বাসকষ্ট, কাশি এবং বুকে ব্যথা অন্তর্ভুক্ত।
- ক্রনিক পালমোনারি অ্যাস্পারগিলোসিস (CPA): এক্ষেত্রে একটানা কাশি, ওজন হ্রাস, ক্লান্তি এবং শ্বাসকষ্ট হয়। যদি ছত্রাক রক্তনালীগুলির ক্ষতি করে তবে রক্ত বমি (হেমোফটিসিস) হতে পারে।
- ইনভেসিভ অ্যাস্পারগিলোসিস: এটি সবচেয়ে গুরুতর রূপ, যা দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন ব্যক্তিদের মধ্যে হয়। এর লক্ষণগুলির মধ্যে জ্বর, বুকে ব্যথা, শ্বাস নিতে অসুবিধা। যদি এই ছত্রাক মস্তিষ্কে ছড়িয়ে পড়ে তবে স্ট্রোক বা খিঁচুনি হতে পারে।
- সাইনাস সংক্রমণ: নাক বন্ধ হওয়া, মুখের ব্যথা এবং মাথাব্যথার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। এই লক্ষণগুলি দেখে রোগ চেনা কঠিন হতে পারে, কারণ এরকম লক্ষণ অন্যান্য রোগ যেমন নিউমোনিয়া বা টিবি-র ক্ষেত্রেও হয়ে থাকে।
প্রতিরোধের উপায়
অ্যাস্পারগিলাস ফুমিগেটাস থেকে সম্পূর্ণ সুরক্ষা সম্ভব নয়, কারণ এটি বাতাসে ভেসে বেড়া.। তবে কিছু সতর্কতা অবলম্বন করে এটি থেকে বাঁচা যেতে পারে। ধুলোযুক্ত অঞ্চলে যাওয়া এড়িয়ে চলতে হবে। কোনও কনস্ট্রাকশন সাইট বা বাগানে কাজ করার সময় সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। প্রয়োজনে N95 মাস্ক পরতে হবে। লম্বা হাতাযুক্ত পোশাক পরা ভাল। বাগানে কাজ করার সময় ত্বক অবশ্যই ঢেকে রাখা দরকার। ত্বকে কাটা বা ক্ষত থাকলে, সঙ্গে সঙ্গে সাবান ও জল দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।
ডিসক্লেমার: খবরে দেওয়া কিছু তথ্য বিভিন্ন মিডিয়া রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। কোনো পরামর্শ অনুসরণ করার আগে, সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
Check out below Health Tools-
Calculate Your Body Mass Index ( BMI )






















