Sana Yousuf: পাকিস্তানে TikToker সানাকে গুলি করে খুন! নারী শিক্ষা অধিকার নিয়ে কথা বলার জের?
এই ঘটনাটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে, অনেকেই ন্যায়বিচার দাবি করেছেন। #JusticeForSanaYousuf এর মতো হ্যাশট্যাগগুলি ইনস্টাগ্রাম এবং X এর মতো প্ল্যাটফর্মে ট্রেন্ডিং শুরু করেছে।

নয়া দিল্লি: পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে বাড়িতে ঢুকে ১৭ বছরের TikToker সানা ইউসুফকে গুলি করে খুন করল অজ্ঞাত এক বন্দুকধারী। জনপ্রিয় টিকটকারের মৃত্যুতে উত্তাল পাকিস্তানের সোশাল মিডিয়ায়। সোমবার ইসলামাবাদের জি-১৩ সেক্টরের সুম্বল থানার অন্তর্গত এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে বলে, এমনটাই খবর পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন সূত্রে।
ঘটনার পরপরই হামলাকারী ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। ওই ব্যক্তির খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অজ্ঞাত এক ব্যক্তি সানার নিজ বাড়িতে প্রবেশ করে খুব কাছ থেকে গুলি চালায়। কয়েক রাউন্ড গুলি ছোঁড়ার পর ওই ব্যক্তি দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যায়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় সানাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
একজন সুপরিচিত কন্টেন্ট স্রষ্টা সানা, যার ৪ লক্ষেরও বেশি ফলোয়ার্স। ইতিমধ্যেই সানার মরদেহ বর্তমানে ময়নাতদন্তের জন্য ইসলামাবাদের পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস (পিআইএমএস)-এ রাখা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা, এটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে।
এই ঘটনাটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে, অনেকেই ন্যায়বিচার দাবি করেছেন। #JusticeForSanaYousuf এর মতো হ্যাশট্যাগগুলি ইনস্টাগ্রাম এবং X এর মতো প্ল্যাটফর্মে ট্রেন্ডিং শুরু করেছে।
১৭ বছর বয়সী সানা ইউসুফ রাজধানী ইসলামাবাদের চিত্রাল এলাকার বাসিন্দা ছিলেন এবং অল্প বয়সেই টিকটকে প্রচুর জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন। একজন সমাজকর্মীর মেয়ে, সানার ভিডিওগুলি বেশিরভাগই দৈনন্দিন জীবনযাত্রা, চিত্রাল সংস্কৃতি, নারী অধিকার ও শিক্ষা সম্পর্কিত সচেতনতামূলক ভিডিও পোস্ট করেতেন। তার কনটেন্ট মূলত ফ্যাশন, লিপ-সিঙ্ক, জীবনধারা এবং সামাজিক বার্তা নিয়ে তৈরি হতো। তরুণ প্রজন্মের মাঝে তার জনপ্রিয়তা ছিল চোখে পড়ার মতো।
অনেকেই তাকে একজন সম্ভাবনাময় অনলাইন ইনফ্লুয়েন্সার হিসেবে দেখছিলেন, যার ভবিষ্যৎ ছিল উজ্জ্বল। তার আকস্মিক ও নির্মম মৃত্যুতে ভক্ত, বন্ধু, এবং সোশ্যাল মিডিয়া কমিউনিটির মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
এই ঘটনাটি মালালা ইউসুফজাইয়ের স্মৃতি ফিরিয়ে আনে, যাকে ২০১২ সালে নারী শিক্ষার অধিকারের পক্ষে কথা বলার জন্য পাকিস্তানে তালেবানরা গুলি করে হত্যার চেষ্টা করেছিল।
পুলিশ জানিয়েছে, তারা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। তবে এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি, এবং হত্যার পেছনে কোনও সুনির্দিষ্ট মোটিভও উদঘাটন করা যায়নি। এই ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা এবং সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেকেই বলছেন, তরুণ কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।






















