Jammu and Kashmir News: জম্মু ও কাশ্মীরে নিষিদ্ধ হল ২৫টি বই, দোকানের পাশাপাশি, বইমেলাতেও তল্লাশি পুলিশের
Book Ban in Jammu And Kashmir: লেফটেন্যান্ট গভর্নর মনোজ সিনহার নির্দেশেই এমন সিদ্ধান্ত বলে বিবৃতিতে জানিয়েছেন জম্মু ও কাশ্মীরের স্বরাষ্ট্রবিভাগের প্রধান সচিব চন্দ্রকর ভারতী।

নয়াদিল্লি: চাইলেই আর যে কোনও বই পড়তে পারবেন না উপত্যকাবাসী। জম্মু ও কাশ্মীরে নিষিদ্ধ হল ২৫টি বইয়ের মুদ্রণ। জম্মু ও কাশ্মীরের স্বরাষ্ট্র বিভাগ এই নির্দেশিকা জারি করেছে। অরুন্ধতী রায়, এজি নুরানির লেখা বইও রয়েছে সেই তালিকায়। বলা হয়েছে, ওই বইগুলি ‘মিথ্যে ভাষ্য’ ছড়ায়, ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী’ ভাবনায় উস্কানি জোগায়। বইয়ের মুদ্রণে এই নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে আসলে জম্মু ও কাশ্মীরের ভাবনাচিন্তাকে সেন্সর করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠছে। যদিও মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লার দাবি, এই সিদ্ধান্তে তাঁর কোনও ভূমিকা নেই। (Jammu and Kashmir News)
লেফটেন্যান্ট গভর্নর মনোজ সিনহার নির্দেশেই এমন সিদ্ধান্ত বলে বিবৃতিতে জানিয়েছেন জম্মু ও কাশ্মীরের স্বরাষ্ট্রবিভাগের প্রধান সচিব চন্দ্রকর ভারতী। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সরকারের নজরে এসেছে যে, কিছু সাহিত্য ভুয়ো ভাষ্য ছড়ায়, জম্মু ও কাশ্মীরে বিচ্ছিন্নতাবাদে উস্কানি জোগায়। যুবসমাজের মনে গভীর প্রভাব ফেলছে এই সব বই, নিজেদের ভুক্তভোগী মনে করছে তারা, নিজেদের শিকার মনে করছে তারা, সন্ত্রাসবাদকে বীরত্ব ভেবে বসছে’। (Book Ban in Jammu And Kashmir)
গত ৫ অগাস্ট ২৫টি বই নিষিদ্ধের কথা জানানো হয়। এর পর উপত্যকার দোকানে দোকানে তল্লাশি শুরু হয়। শ্রীনগরে প্রায় একডজন বইয়ের দোকানে হানা দেয় পুলিশ। চিনার বুক ফেস্টিভ্যালেও তল্লাশি চলে। সেখানে প্রায় ২০০ বইয়ের স্টল বসেছিল। ঘটনাচক্রে ন'দিন ব্যাপী ওই বইমেলার উদ্বোধনও করেন লেফটেন্যান্ট গভর্নর। তল্লাশি চলে জম্মু ও কাশ্মীরের অন্যত্রও।
#WATCH || Srinagar Police Conducts Raid Of Bookshops Following Government Ban On Books Peddling Anti-Nationalist Ideologies.@SrinagarPolice @DrGVSundeep_IPS pic.twitter.com/NkVuMVBQda
— The Kashmir Magazine (@Thekashmirmag) August 7, 2025
জম্মু ও কাশ্মীরের স্বরাষ্ট্র দফতরের দাবি, এই সব বই ইতিহাসের বিকৃতি ঘটিয়েছে, সন্ত্রাসবাদীদের নায়ক হিসেবে তুলে ধরেছে, নিরাপত্তাবাহিনীকে খলনায়ক বানিয়েছে, ধর্মীয় মৌলবাদে উস্কানি জুগিয়েছে, সন্ত্রাস ও হিংসায় মদত জুগিয়েছে, উপত্যকাকে গোটা দেশের থেকে আলাদা করে দিয়েছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার আওতায় এই ২৫টি বই ভারতের অখণ্ডতা এবং সার্বভৌমত্বের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ বলে দাবি করা হয়েছে। বলা হয়েছে, এই ২৫টি বইয়ের মুদ্রণ একেবারে নিষিদ্ধ।
কাশ্মীর নিয়ে দেশ-বিদেশের যে ২৫টি বইয়ের মুদ্রণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে, সেগুলি হল, Human Rights Violations in Kashmir , Kashmiris Fight for Freedom, Colonizing Kashmir: State-Building under Indian Occupation, Kashmir Politics and Plebiscite, Do You Remember Kunan Poshpora, Mujahid ki Azan, Al Jihadul fil Islam, Independant Kashmir, Resisting Occupation in Kashmir, Between Democracy and Nation: Gender and Militarisation in Kashmir, Contested Lands, In Search of a Future: The Story of Kashmir, Kashmir in Conflict: India, Pakistan and the Unending War, The Kashmir Dispute: 1947-2012, Kashmir at the Crossroads: Inside a 21st-Century Conflict, A Dismantled State: The Untold Story of Kashmir after Article 370, Resisting Disappearance: Military Occupation & Women’s Activism in Kashmir, Confronting Terrorism, Freedom in Captivity: Negotiations of belonging along Kashmiri Frontier, Kashmir: The Case for Freedom, Azadi, USA and Kashmir, Law & Conflict Resolution in Kashmir, Tarikh-i-Siyasat Kashmir, Kashmir & Future of South Asia. এর মধ্যে বুকার পুরস্কার পাওয়া অরুন্ধতী রায়ের লেখা Azadi বইটি রাখা হয়েছে।
The Government of Jammu & Kashmir has banned 25 books, accusing them of 'glorifying terrorism and inciting violence'. But many are written by respected journalists, historians, feminists, and peace scholars.
— Amnesty India (@AIIndia) August 8, 2025
Let’s talk about what’s really being silenced. 👇#Kashmir #BannedBooks pic.twitter.com/H1ATzzP5qm
বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হতেই মুখ খুলেছেন জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর। তাঁর বক্তব্য, “লেফটেন্যান্ট গভর্নর নিষেধাজ্ঞা চাপিয়েছেন। যে দফতরকে তিনি নিয়ন্ত্রণ করেন, তার মাধ্যমে। আমি কখনও বই নিষিদ্ধ করিনি, করবও না।” বই নিষিদ্ধের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে অ্যামনেস্টি ইন্ডিয়াও। তাদের দাবি, যে বইগুলি নিষিদ্ধ করা হয়েছে, সেগুলি কোনও ভাবেই সন্ত্রাসে উস্কানি জোগায়নি, বরং মানবাধিকার লঙ্ঘনের কথা বলেছে, সরকারের সমালোচনা করেছে। মানুষের কাছে যাতে তথ্য না পৌঁছয়, তার জন্যই বইগুলি নিষিদ্ধ করা হয়েছে, যা মানবাধিকার লঙ্ঘনের আওতায় পড়ে বলেও জানিয়েছে তারা।






















