Indian Air Force: অনেক এগিয়ে চিন, এগোচ্ছে পাকিস্তানও, ভারত এখনও ফোর্থ জেনারেশন যুদ্ধবিমানে আটকে? অবসরের পরই মুখ খুললেন বায়ুসেনার এয়ার মার্শাল
Air Marshal Nagesh Kapoor: এখনও ফোর্থ জেনারেশন যুদ্ধবিমানে আটকে ভারত? এবার মুখ খুললেন এয়ার মার্শাল।

নয়াদিল্লি: সামরিক ক্ষেত্রে বার বার করে আত্মনির্ভর হওয়ার কথা শোনা গেলেও, বাস্তব পরিস্থিতি যেতে একেবারে উল্টো, এবার তা বুঝিয়ে দিলেন ভারতীয় বায়ুসেনার সদ্যপ্রাক্তন ভাইস চিফ, এয়ার মার্শাল নাগেশ কপূর। দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি Tejas MK-2 যুদ্ধবিমানের গুণমান নিয়ে প্রশ্ন তুললেন তিনি। ভারতের পড়শি দেশ চিন যেখানে সিক্সথ জেনারেশন যুদ্ধবিমানে পৌঁছে গিয়েছে, এমনকি পাকিস্তান পর্যন্ত যেখানে ফিফথ জেনারেশন যুদ্ধবিমানের দিকে এগোচ্ছে, সেখানে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত ফোর্থ জেনারেশন যুদ্ধবিমানে ভারতের আটকে থাকা কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলে দিলেন তিনি। (Air Marshal Nagesh Kapoor)
মেরেকেটে মাস দুয়েক আগে বায়ুসেনা থেকে অবসরগ্রহণ করেছেন এয়ার মার্শাল কপূর। ২০৩৫ সালের মধ্যে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি Tejas Mk-2 (ফোর্থ জেনারেশন তেজস এমকে-২) যুদ্ধবিমানকে ভারতীয় বায়ুসেনার অন্তর্ভুক্ত করা নিয়ে প্রশ্ন করলে নিজের মতামত তুলে ধরেন তিনি। কোনও রকম রাখঢাক না করেই জানান, ২০৩০-এর মাঝামাঝি সময়ে ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ Tejas Mk-2 যুদ্ধবিমান যখন ভারতীয় বায়ুসেনার অন্তর্ভুক্ত হবে, সেই সময় সম্মুখসমরে তার ভূমিকা কার্যকরী থাকবে না। প্রাসঙ্গিকতা হারাবে ওই যুদ্ধবিমান। (Indian Air Force)
আরও পড়ুন: ক্যান্সার বধে ‘স্মার্ট ড্রাগ’, নিজস্ব ওষুধ আনছে ভারত, কেমোথেরাপির প্রয়োজন পড়বে না আর!
‘অপারেশন সিঁদুরে’র পর চিন এবং পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের সামরিক ক্ষমতার তুলনা যখন বার বার করে উঠে আসছে, সেই সময় ফোর্থ জেনারেশনের যুদ্ধবিমানে আটকে থাকা কতটা বাস্তবসম্মত, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। কারণ চিন ইতিমধ্যেই সিক্সথ জেনারেশন যুদ্ধবিমানে পৌঁছে গিয়েছে। ফিফথ জেনারেশন যুদ্ধবিমানের দিকে এগোচ্ছে পাকিস্তানও। তাই ২০৩৫ সালের মধ্যে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ফোর্থ জেনারেশন যুদ্ধবিমানকে বায়ুসেনার অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্য়মাত্রা কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সেব্যাপারে সমালোচকদের সঙ্গে একমত এয়ার মার্শাল কপূর। তাঁর বক্তব্য, “কৌশলগত দিক থেকে একেবারেই (যৌক্তিকতা) নেই, একেবারেই নেই।”
আমেরিকার US F-22, চিনের J-20 ফিফথ জেনারেশন স্টেলথ যুদ্ধবিমান, যা রেডার এড়িয়ে শত্রুর এলাকায় ঢুকে পড়তে পারে। পাশাপাশি, ওই যুদ্ধবিমানের অস্ত্রবহনের ক্ষমতাও বেশ। চিনের সিক্সথ জেনারেশন যুদ্ধবিমান J-36 এবং J-50-ও রেডার এড়াতে সক্ষম, সেগুলি AI দ্বারা চালিত স্বয়ংক্রিয় বিমান এবং একক প্ল্যাটফর্ম নয়, বরং নেটওয়র্ক নোড হিসেবে কাজ করে। সেই তুলনায় ভারতের কাছে ফিফথ এবং সিক্সথ জেনারেশনের যুদ্ধবিমান নেই। অথচ গোয়েন্দাদের রিপোর্ট বলছে, ২০৩০ সাল নাগাদ ৫০০টি J-20 সিক্সথ জেনারেশন যুদ্ধবিমান মোতায়েন করতে চলেছে চিন।
আর সেই আবহেই ভারতের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুললেন এয়ার মার্শাল কপূর। তাঁর মতে, অত্যাধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর নয়, এমন কাজে লাগানো যেতে পারে ফোর্থ জেনারেশন যুদ্ধবিমানগুলিকে। তাঁর কথায়, “নির্দিষ্ট সংখ্যক ফিফথ এবং সিক্সথ জেনারেশন যুদ্ধবিমান রাখা যায়। কিন্তু দেশের আয়তন অনুযায়ী, সর্বত্র সেগুলি মোতায়েন করা সম্ভব হবে না। সেই শূন্যস্থানপূরণে এগুলি (ফোর্থ জেনারেশন যুদ্ধবিমান) ব্যবহার করা যেতে পারে।”
হিন্দুস্তান এ্যারোনটিক্স লিমিটেড (HAL)-এরও তীব্র সমালোচনা করেছেন এয়ার মার্শাল কপূর। HAL-ই ‘তেজস’ যুদ্ধবিমান তৈরি করে। Tejas Mk-1A যুদ্ধবিমানের সংখ্যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। বলেন, “বহু বছর আগে আমাদের হাতে নির্দিষ্ট ক্ষমতাসম্পন্ন যে মেশিন তুলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, কোনও কোনও অজুহাতে ক্রমাগত কেন তা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। কেউ যদি কথা দিয়ে তা না রাখতে পারে, তার জন্য আমরা কেন অচল হয়ে পড়ব?” সামরিক শক্তিতে বারংবার আত্মনির্ভর হওয়ার কথা শোনা গেলেও, তাঁর প্রশ্ন, “নিঃসন্দেহে দেশীয় প্রযুক্তির উপর নির্ভরশীল হতে হবে আমাদের। কিন্তু তার জন্য আর কত অপেক্ষা করতে হবে?”
২০০১ সালে প্রথম ‘তেজস’ যুদ্ধবিমানের প্রোটোটাইপ আকাশে ওড়ে। ভারতীয় বায়ুসেনার তরফে সেই সময় ৪০টি ‘Tejas Mk.1’ যুজ্ঝবিমান তৈরির বরাত দেওয়া হয়। আরও অত্যাধুনিক ৮৩টি Mk-1A যুদ্ধবিমানের বরাতও দেওয়া হয়েছিল। চুক্তি হয়েছিল ৪৬ হাজার কোটি টাকার। কিন্তু আজ পর্যন্ত একটিও Mk-1A যুদ্ধবিমান হাতে পায়নি ভারতীয় বায়ুসেনা। য়ে গতিতে বিমান তৈরির কাজ চলছে, তার সঙ্গে আমেরিকায় তৈরি General Electric F404-IN20 ইঞ্জিন সরবরাহে সামঞ্জস্য থাকছে না কিছুতেই। জানা যাচ্ছে, বিমানের রেডার, এভিওনিক্স এবং অস্ত্র বোঝাই রাখা সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের কাজ করছে HAL.
সেই আবহেই ২০২৫ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর আরও ৯৭টি ‘Tejas Mk-1A’ যুদ্ধবিমান তৈরির বরাত দেয় ভারতীয় বায়ুসেনা। চুক্তি হয় ৬২ হাজার ৩৭০ কোটি টাকার। পাশাপাশি, ‘Tejas Mk-2’ যুদ্ধবিমান তৈরির কাজও করছে HAL, যার প্রোটোটাইপ ওড়ানোর কথা ছিল ২০২২ সালেই। কিন্তু তার পর ২০২৬ শেষ হতে চললেও, প্রোটোটাইক আকাশে ওড়েনি। অতি সম্প্রতি HAL জানায়, ২০২৭ সালের মার্চ থেকে জুলাই মাসের মধ্য়ে প্রোটোটাইপটি আকাশে ওড়ানো যেতে পারে। তাই এয়ার মার্শাল কপূরের বক্তব্য, “ভারতীয় বায়ুসেনার তাগিদের সঙ্গে HAL-এর তাগিদ মিলছে না। কাজ নিয়ে ভারতীয় বায়ুসেনার যে তৎপরতা, তার চেয়ে ওদের তৎপরতা অনেকটাই কম।”
শুধু ‘তেজস’ যুদ্ধবিমানই নয়, দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি প্রথম স্টেলথ যুদ্ধবিমান নিয়েও HAL গড়িমসি করছে বলে অভিযোগ। নির্ধারিত সময়ে সেটিও হাতে আসবে না বলে আশঙ্কা। এয়ার মার্শাল কপূর তাই HAL-এর পরিবর্তে ইউরোপিয়ান সংস্থাগুলির সঙ্গে জোট বাঁধার পক্ষপাতী। তাঁর বক্তব্য, “FCAS (ফ্রান্স, জার্মানি, স্পেনের যৌথ উদ্যোগ), GCAP (ইতালি, জাপান, ব্রিটেনের যৌথ উদ্যোগ) নয় কেন? যাদের কাজকর্ম, উন্নতির রেকর্ড ভাল…উন্নত সংস্করণ রয়েছে যেখানে, সেক্ষেত্রে ফোর্থ জেনারেশন, ৪.৫ জেনারেশনের মতো ধাপে ধাপে এগোব কেন? সরাসরি উন্নততর সংস্করণের দিকে কেন এগোব না?”
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসেই ভারতের AMCA স্টেলথ প্রোগ্রাম থেকে বাদ দেওয়া হয় HAL-কে। ওই প্রকল্পে যুক্ত হতে চেয়ে Tata Advanced System Limited সোলো, L&T-Bel কনসর্টিয়াম এবং Bharat Forge-BEML কনসর্টিয়াম-এই তিনটি বেসরকারি সংগঠনের প্রস্তাব জমা পড়েছে।
Before You Go
Jadavpur University: মেরামত করে ফিরল ঐতিহ্যের এমব্লেম, ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি যাদবপুরে






















