Gangster Arrested: কখনও পুলিশ, কখনও CBI সেজে চড়াও, ১৪ রাজ্যে ছড়িয়ে ছিল অপরাধচক্র, অবশেষে গ্রেফতার গ্যাংস্টার ‘রহমান ডাকাত’
Rahman Dakait of Bhopal: গুজরাত পুলিশের সুরত ক্রাইম ব্রাঞ্চ ভোপালের ‘রহমান ডাকাত’কে সুরত থেকেই গ্রেফতার করেছে।

নয়াদিল্লি: বড়পর্দায় দেখা কোনও চরিত্র নয়। বাস্তবের মাটিতেই ঘোরাফেরা ছিল তার। বাঘ আর গরুকে একঘাটে জল খাইয়েই ছাড়ত। এতদিনে পুলিশের জালে ধরা পড়ল ভোপালের সেই ‘রহমান ডাকাত’। সিনেমায় জায়গা না পেলেও, বাস্তবে এতটাই ‘ধুরন্ধর’ ছিল যে, এতদিন তার টিকি ছুঁতে পারেনি পুলিশ। (Rahman Dakait of Bhopal)
গুজরাত পুলিশের সুরত ক্রাইম ব্রাঞ্চ ভোপালের ‘রহমান ডাকাত’কে সুরত থেকেই গ্রেফতার করেছে। আসল নাম রাজু ইরানি। কিন্তু আবিদ আলি, রহমান ডাকাত, এমন আরও একাধিক নামে পরিচিয় সে। বহু বছর ধরে পুলিশকে ঘোল খাইয়ে বেড়াচ্ছিল সে। সম্প্রতি একটি বড় ঘটনা ঘটানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তার আগেই, তার নাগাল পেল পুলিশ। (Gangster Arrested)
দেশের ১৪টি রাজ্যে নিজের অপরাধ চক্রের নেটওয়র্ক বিস্তার করেছিল ভোপালের ‘রহমান ডাকাত’। ইরানি গ্যাং-সহ ছ’-ছ’টি গ্যাংয়ের সর্বেসর্বা ছিল সে। ভোপালে যে আস্তানা থেকে অপরাধমূলক কাজকর্ম চালাত, সেটি পরিচিত ছিল ‘ইরানি ডেরা’ নামে। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে, তাকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ আধিকারিক জে এন গোস্বামী জানিয়েছেন, পরবর্তী অপরাধ ঘটাতে যাচ্ছিল। তার আগেই গ্রেফতার করা হয়েছে ভোপালের ‘রহমান ডাকাত’কে।
পুলিশ জানিয়েছে, ভাইয়ের সঙ্গে মিলে বিরাট সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল ভোপালের ‘রহমান ডাকাত’। ছয়টি পৃথক গ্যাং ছিল তাদের, যার শাখা ছড়িয়েছিল ১৪টির বেশি রাজ্যে। ছয়টির বেশি রাজ্যে ‘ওয়ান্টেড’ ছিল সে। একেবারে পরিকল্পনা অনুযায়ী অপরাধ সংঘটিত করত। নিজে মাঠে নেমে কাজ করত সে, যা উৎসাহ জোগাত তার সাঙ্গপাঙ্গদের। কোন গ্যাং কোথায় কাজ করবে, তাদের ঘাড়ে কী দায়িত্ব থাকবে, পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, সব নিজেই ঠিক করল ভোপালের ‘রহমান ডাকাত’।
মূলত প্রবীণ নাগরিকদেরই নিশানা করত ওই গ্যাং। কখনও পুলিশ, কখনও সিবিআই সেজে হাজির হতো ভোপালের ‘রহমান ডাকাত’। তদন্তের নামে টাকা-পয়সা, সোনা-গয়না হাতিয়ে চম্পট দিত। এমনকি ব্যারিকেড করে গাড়িরও তল্লাশি নিত। ব্যবসায়ীদের গাড়িতে থাকা টাকা-গয়নাও লুঠ করত ওই গ্যাং। পাশাপাশি, জোর করে জমি দখল, আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানো, চোরা কারবার, সবই চলত পাল্লা দিয়ে। দামি ও বিলাসবহুল গাড়ি নিয়ে চলত আনাগোনা।
ভোপালের ‘রহমান ডাকাতে’র বিরুদ্ধে কমপক্ষে ১০টি গুরুতর অপরাধের মামলা রয়েছে। গত সপ্তাহে ‘ইরানি ডেরা’ এলাকায় তল্লাশি অভিযান চলে। ১৫০ জনের বেশি জনকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়। সেই থেকে এলাকায় দেখা যায়নি ভোপালের ‘রহমান ডাকাত’কে। সে সুরতে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছিল বলে জানা যায়। সেই মতো সূত্র ধরে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
ভোপালের ‘রহমান ডাকাত’ রাতারাতি কুখ্যাত হয়ে ওঠেনি। তার বাবা হসমত ইরানিই সাতের দশকে ইরানি গ্যাংয়ের সূচনা করে। ২০০৬ সালে ছেলে দায়িত্ব গ্রহণ করে। তবে ডেরার নেতৃত্বে কে থাকবে, তা ঠিক করে ট্রাইবাল কাউন্সিল। যার নামে যত বেশি অপরাধ মামলা, তার দর ততই বেশি হয়। দিল্লি, মুম্বই, অন্ধ্রপ্রদেশ, তামিলনাড়ু, রাজস্থানের মতো একাধিক রাজ্যে তাদের নেটওয়র্ক ছড়িয়ে। গ্য়াংয়ের কোনও সদস্যকে গ্রেফতার করা হলেও, অল্প সময়ের মধ্যেই জামিনে বেরিয়ে যেত তারা। তবে এবার সরাসরি মাথাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।























