Bihar Voter List Row: বেছে বেছে নির্বাচনের আগেই ভোটারতালিকা সংশোধন কেন? সুপ্রিম কোর্টে প্রশ্নের মুখে নির্বাচন কমিশন
Supreme Court on Election Commission:

নয়াদিল্লি: বিহারে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে প্রশ্নের মুখে নির্বাচন কমিশন। বিধানসভা নির্বাচনের কয়েক মাস আগে ভোটার তালিকা সংশোধনের কী প্রয়োজন পড়ল, প্রশ্ন তুলেছে দেশের শীর্ষ আদালত। আইনত এমন পদক্ষেপ করার অধিকার আছে কমিশনের। কিন্তু যে সময়ে ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে, তা প্রশ্নের উদ্রেক ঘটাচ্ছে বলে জানাল আদালত।
বিহারে বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে ভোটার তালিকা সংশোধনে উদ্যোগী হয়েছে কমিশন। তারা জানায়, ২০০৩ সাল থেকে তালিকায় নাম থাকলেই কেউ বৈধ ভোটার বলে গণ্য হবেন না, মা-বাবার জন্মের শংসাপত্র থেকে মোট ১১টি নথি জমা দিয়ে বৈধতা প্রমাণ করতে হবে। সেই নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিজেপি-কে সুবিধা করে দিতেই কমিশন বিরোধী শিবিরের ভোটারদের তালিকা থেকে বাদ দিতে উদ্যোগী হয়েছে বলে অভিযোগ।
শুধু তাই নয়, বিহার দিয়ে শুরু হলেও, আসলে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি-কে জেতাতেই ভোটারতালিকা সংশোধনের সিদ্ধান্ত বলে অভিযোগ করেছেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে দলের সাংসদ মহুয়া মৈত্র। মহুয়া নিজেও আদালতে মামলা করেছেন। সেই আবহেই বৃহস্পতিবার এই সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে কমিশনের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলল আদালত। বলা হয়, "আপনাদের কাজ এখানে সমস্যা নয়, সমস্যা সময় নিয়ে।"
বিচারপতি সুধাংশু ধুলিয়া এবং জয়মাল্য বাগচির ডিভিশন বেঞ্চে মামলার শুনানি চলছিল। সেখানে বিচারপতি ধুলিয়া বলেন, "ভোটারতালিকা সংশোধন করায় কোনও অন্যায় নেই। কিন্তু নির্বাচনের ঠিক মুখে একজন ভোটারকে অবৈধ ঘোষণা করে দেওয়া হচ্ছে, নিজের সপক্ষে সওয়াল করার যথেষ্ট সময় পর্যন্ত নেই তাঁর হাতে।"
আদালতে সওয়াল জবাব চলাকালীন আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণ জানান, একদশকের বেশি সময় ধরে যাঁরা ভোটার, তাঁদের নিজেদের বৈধতা প্রমাণ করতে বাধ্য করা হচ্ছে। এই সিদ্ধান্ত 'স্বৈরাচারী', 'বৈষম্যমূলক'। শুধু তাই নয়, বৈধ ভোটার হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করার ক্ষেত্রে কেন আধার কার্ড এবং কমিশনের নিজের ভোটার কার্ড প্রমাণপত্র হিসেবে গ্রাহ্য হবে না, সেই প্রশ্নও ওঠে আদালতে। আইনজীবী শঙ্করনারায়ণ বলেন, "কমিশন বলছে, ২০০৩ সালের আগে হলে বৈধ নাগরিক। কিন্তু ২০০৩ সালের পরে হলে নয়। পাঁচ নির্বাচনে ভোট দিয়ে থাকলেও, তা আপনার নাগরিক হওয়ার প্রমাণ নয়।"
বৈধ ভোটার হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করার ক্ষেত্রে আধার কার্ড কেন প্রমাণপত্র হিসেবে গ্রাহ্য হবে না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলে আদালত। এতে কমিশনের প্রতিনিধি জানান, আধার কার্ড নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র নয়। জবাবে আদালত জানায়, সেটা সম্পূর্ণ পৃথক বিষয়। বিষয়টি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের এক্তিয়ারের মধ্যে পড়ে, কমিশনের এক্তিয়ারের মধ্যে নয়। কমিশনের তরফে ভোটার তালিকা সংশোধনে স্থগিতাদেশ না দেওয়ার আবেদন জানানো হয় আদালতে। আদালত চাইলে, চূড়ান্ত হওয়ার আগে সংশোধিত ভোটার তালিকা দেখতেও পারে বলে জানানো হয়।
আদালতে এদিন আবেদনকারীদের হয়ে উপস্থিত ছিলেন অভিষেক মনু সিংভিও। বেছে বেছে ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দিলে সুষ্ঠ নির্বাচন প্রক্রিয়া বিঘ্নিত হবে, সকলে সমান সুযোগ পাবেন না বলে জানান তিনি। যদিও কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে যুক্তি দেওয়া হয়, বড্ড তাড়াতাড়ি বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করছে আদালত। তবে মৌখিক ভাবে হলেও, আদালত জানায়, ভোটারতালিকা প্রস্তুত হওয়ার পরই নির্বাচনের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া যায়। নির্বাচনী বিজ্ঞপ্তি জারি হয়ে গেলে, কোনও আদালত হস্তক্ষেপ করত না।






















