পরীক্ষা দিতে গেলে পৈতে খুলতে হবে ! কলেজের কড়াকড়ি ঘিরে ধুন্ধুমার, সাসপেন্ড ৩ অধ্যাপক
অভিযোগ, পরীক্ষার হলে ঢোকার আগে পাঁচ জন ব্রাহ্মণ ছাত্রকে তাঁদের উপবীত খুলে ফেলতে বাধ্য করা হয়। ঘটনাটি ঘটে পরীক্ষার প্রথম দিনই।

কলকাতায় এসএসসি পরীক্ষা দিতে গিয়ে পরীক্ষার্থীকে নোয়া খুলে ফেলতে বলা নিয়ে জলঘোলা হয়েছিল বিস্তর। এবার বেঙ্গালুরু উত্তপ্ত এক পরীক্ষার্থীকে পৈতে খুলে ফেলতে বলা নিয়ে। টেক-সিটির একটি কলেজে কমন এন্ট্রান্স টেস্ট CET পরীক্ষা দিতে যাওয়া একাধিক ছাত্রকে হলে ঢোকার আগে পৈতি খুলে ফেলতে বলা হয়। সেই নিয়ে এখন জলঘোলা বিস্তর। অভিযোগ, পরীক্ষার হলে ঢোকার আগে পাঁচ জন ব্রাহ্মণ ছাত্রকে তাঁদের উপবীত খুলে ফেলতে বাধ্য করা হয়। ঘটনাটি ঘটে পরীক্ষার প্রথম দিনই। ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত লাগার অভিযোগে এই ঘটনায় উত্তেজনা চরমে ওঠে।
অভিভাবকদের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ইতিমধ্যেই ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-র সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের সঙ্গে যুক্ত ধারায় একটি এফআইআর দায়ের করেছে। পাশাপাশি, ওই কলেজের তিন জন অধ্যাপককে সাসপেন্ডও করা হয়েছে। ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য সরকার।
সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে এক ছাত্র জানিয়েছে, “আমি পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছানোর পর শিক্ষকরা আমার কানের দুল খুলতে বলেন। সেটা আমি মেনে নিই, কারণ ধাতব জিনিস নিষিদ্ধ। কিন্তু তাঁরা আমাকে এরপর পবিত্র উপবীতও খুলে ফেলতে বাধ্য করেন।” পরিস্থিতির চাপে পড়ে শেষ পর্যন্ত পরীক্ষায় বসার জন্য সেই নির্দেশ মানতে বাধ্য হন ওই ছাত্র। কিন্তু পরে বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানান এবং আইনি পথে অভিযোগ জানান।
এই ঘটনার পর ক্ষুব্ধ অভিভাবকেরা পরীক্ষাকেন্দ্রে এসে কর্তৃপক্ষের কাছে জবাব চান। তাঁদের দাবি,পৈতে খোলার কোনও নির্দেশ ছিল না। গত বছরও এমনই একটি বিতর্কের পর সরকার জানিয়েছিল, সেট পরীক্ষার সময় যজ্ঞোপবীত খোলা বাধ্যতামূলক নয়। শুধু পৈতে নয়, কয়েকজন ছাত্রের অভিযোগ, তাঁদের হাতে বাঁধা লাল-হলুদ সুতো পর্যন্ত খুলে ফেলতে বলা হয়েছিল। ঘটনাকে “দুঃখজনক” বলে মন্তব্য করেছেন কর্ণাটকের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী এম সি সুধাকর। তিনি জানান,ইতিমধ্যে ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে থেকে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে সরকারকে। ঘটনায় তিন জনকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। “আমরা বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছি এবং ইতিমধ্যেই দফতরের কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়েছি।”
মন্ত্রী আরও বলেন, দোষীদের বিরুদ্ধে আইনের আওতায় কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি, আগামী বছর থেকে এ ধরনের বিষয় নিয়ে আগে থেকেই স্পষ্ট নির্দেশিকা জারি করা হবে এবং আইন অনুযায়ী কী ধরনের শাস্তি হতে পারে, তা সকলকে জানানো হবে। এদিকে, বিরোধী দল বিজেপি এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন কর্ণাটক সরকারকে “হিন্দু-বিরোধী” বলে আক্রমণ শানিয়েছে । বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা আর অশোক দাবি করেছেন, “মঙ্গলসূত্র ও উপবীত খুলতে বাধ্য করার মতো হিন্দু-বিরোধী কাজ এই সরকারের আমলে লাগাতার ঘটছে।”






















