এক্সপ্লোর
মমতার নাক কাটার হুমকির নিন্দা, 'পদ্মাবতী'র পাশে টলিউড, কাল ব্ল্যাকআউটের ডাক

কলকাতা: দেশজুড়ে বিতর্ক। বিভিন্ন রাজ্যে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে ছবি মুক্তির তারিখ। ছবির অভিনেতা-অভিনেত্রী সহ পরিচালককে হুমকি-আক্রমণ। পুরো বিতর্কে আগেই বলিউডকে পাশে পেয়েছিল ‘টিম পদ্মাবতী’। এবার পাশে দাঁড়াল টালিগঞ্জও। রবিবার মুম্বই-সহ দেশজুড়ে বিকেল সওয়া ৪টে থেকে সাড়ে ৪টে পর্যন্ত সমস্ত শ্যুটিং বন্ধ রাখা হয়েছিল। এবার একই পথে হেঁটে আগামীকাল ‘ব্ল্যাকআউটে’র ডাক দিল টলিউড। ‘পদ্মাবতী’কে যেভাবে টার্গেট করা হচ্ছে তার বিরোধিতা করে, টলিউডের কলাকুশলীরা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার বেলা ১২টা থেকে ১২.১৫ পর্যন্ত টলিউডে কোনও রকম কাজ হবে না। ইতিমধ্যেই রাজস্থান, গুজরাত, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশের মতো বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলি ‘পদ্মাবতী’ মুক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা চাপিয়েছে। টানা আন্দোলন চালাচ্ছে কট্টর রাজপুত সংগঠন কার্ণি সেনা। যদিও চলচ্চিত্র জগতের সঙ্গে যুক্ত অনেকেরই প্রশ্ন, সেন্সর বোর্ড যেখানে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি, সেখানে ‘পদ্মাবতী’ নিয়ে রাজনীতিতে এত ঝড় বইছে কেন! টলিউডের প্রতিনিধি হিসেবে পরিচালক গৌতম ঘোষ, অভিনেতা প্রসেনজিত চট্টোপাধ্যায়, যীশু সেনগুপ্ত সহ ইন্ডাস্ট্রির বিভিন্ন কলাকুশলীদের বক্তব্য, ছবিটি এখনও পর্যন্ত দেখলই না সেন্সর বোর্ড। তার আগেই একদল কট্টরপন্থী সংগঠনের সদস্যরা ছবিটি রাজস্থানের ঐতিহ্যকে কালিমালিপ্ত করেছে, এই দাবিতে বিক্ষোভ আন্দোলন সামিল হয়েছে। কিন্তু ছবিটিতে আদও ইতিহাস বিকৃত হয়েছে কিনা, সেই সিদ্ধান্ত সেন্সর বোর্ড নেবে। তথ্যপ্রযুক্তির জমানায়, কিছু মানুষের এধরনের মধ্যযুগীয় ভাবনাচিন্তা মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়। সেন্সর বোর্ডের পর আদালত আছে, তারা সিদ্ধান্ত নিক, ছবিটি দেখানো যাবে কিনা। কিন্তু এভাবে কিছু সংগঠন জোরজবরদস্তি করে তাদের সিদ্ধান্ত কারও ওপর চাপিয়ে দিতে পারে না। এই বিতর্ক প্রসঙ্গে অভিনেতা প্রসেনজিত চট্টোপাধ্যায়ের মত, একজন পেশাদার অভিনেতার কাজ অভিনয় করা। শ্যুটিং সেটে অভিনেতারা কার্যত একজন পরিচালকের আজ্ঞাবহ ছাত্র-ছাত্রী হন। তিনি যেমনভাবে নির্দেশ দেন, সেভাবেই তাঁরা অভিনয় করেন। সেখানে অভিনেতাকে আক্রমণের হুমকি দেওয়া অত্যন্ত অসম্মানজনক। শিল্পের, সিনেমার কোনও ভাষা হয় না। এভাবে বাধা দেওয়া হলে, পরিচালকরা আর ছবিই বানাবেন না, অভিনেতারা অভিনয় করবেন না। অথবা চিত্রনাট্য লিখে সেন্সর বোর্ডের বদলে, দেশের সাধারণ মানুষের থেকে মতামত নিতে হবে, ছবিটি কি বানানো যাবে, মুক্তি পেতে পারে ছবিটি, মন্তব্য প্রসেনজিতের। অভিনেতা যীশু সেনগুপ্তর মত, যেখানে শিক্ষা এগিয়ে যাচ্ছে, সেখানে এরকম আচরণ লজ্জাজনক। এমনকি দেশের অন্য রাজ্যে ছবির বিরোধিতা করে প্রচার হলেও, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই পরিস্থিতিতে বলেছেন সঞ্জয় লীলা বনসালী ও চিত্রনির্মাতা সংস্থা যদি অন্য রাজ্যে পদ্মাবতী দেখাতে নাও পারেন, তিনি এখানে আলাদা করে ছবি প্রদর্শনের ব্যবস্থা করবেন। পশ্চিমবঙ্গ ভীষণ খুশি হবে, গর্বও বোধ করবে পদ্মাবতী এখানে দেখাতে পারলে। এরপরই বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকে সরাসরি হুমকি দেন হরিয়ানার এক বিজেপি নেতা। সুরজ পাল আমু, হরিয়ানা বিজেপির প্রধান মিডিয়া মুখপাত্র এহেন মন্তব্যের জন্যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাক কেটে নেওয়ার হুমকি দেন। বিজেপি নেতার এই মন্তব্যের সমালোচনায় সরব নানা মহল। যদিও তারপরও বিজেপি সুর নরম করতে নারাজ। সেকথা উল্লেখ করে প্রসেনজিত বলেন, একটি রাজ্যের প্রধান সম্পর্কে এধরনের মন্তব্য অত্যন্ত অবমাননাকর। তিনি মানুষের ভোটে জিতে চেয়ারে বসেছেন। তাঁর সম্পর্কে এধরনের কথা কেউ যদি বলেন, তাহলে সেটা গোটা দেশের পক্ষে লজ্জার। আপাতত সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট বলে দিয়েছে, তারা পদ্মাবতী ছবির উপর কোনও নিষেধাজ্ঞা জারি করবে না। ছবির মুক্তি হবে কি না, তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া সেন্সর বোর্ডের কাজ। এসবের মধ্যেই পদ্মাবতীর নির্মাতার স্বেচ্ছায় ছবির মুক্তি পিছিয়ে দিয়েছেন। তাতেও অব্যাহত বিতর্ক। একদিকে যখন বিরোধিতার সুর চড়া হচ্ছে, তেমনই অন্যদিকে পাশে দাঁড়ানোর প্রবণতাও বাড়ছে।
খবর (News) লেটেস্ট খবর এবং আপডেট জানার জন্য দেখুন এবিপি লাইভ। ব্রেকিং নিউজ এবং ডেলি শিরোনাম দেখতে চোখ রাখুন এবিপি আনন্দ লাইভ টিভিতে
আরও পড়ুন






















