এক্সপ্লোর
ডিমের কুসুম বা মাংস খাওয়ার সঙ্গে রক্তে কোলেস্টেরল বাড়ার সম্পর্ক নেই, জানাল মার্কিন রিপোর্ট

কলকাতা: কুসুমের প্রতি ভালবাসার সামনে আর কাঁটা হয়ে দাঁড়াবে না কোলেস্টেরল। হ্যাঁ, সানডে হোক বা মানডে, এবার রোজ খেতে পারেন আন্ডে। এক্কেবারে নিশ্চিন্তে। রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ার ভয় দূরে সরিয়ে রেখেই। কারণ, মার্কিন সরকারের সংস্থা ডায়েটারি গাইডলাইন্স অ্যাডভাইজরি কমিটি তাদের ২০১৫ সালের রিপোর্টে পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, কোলেস্টেরল যুক্ত খাবার খাওয়ার সঙ্গে রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ার কোনও সম্পর্কই নেই। ডায়েটিশিয়ানরা বলছেন, এই রিপোর্ট মানুষের খাবার টেবিলের চেহারাটাই বদলে দিতে পারে। কারণ, এতদিন প্রচলিত ধারণাই ছিল, বয়স ৪০ পেরিয়েছে? তাহলে ডিমের কুসুম, মাখন, চিজ খাওয়া কমাতে হবে। কারণ এসব খেলেই রক্তে বাড়বে কোলেস্টরলের মাত্রা! তা থেকে তৈরি হতে পারে হৃদরোগের আশঙ্কা! এই ধারণার জন্মও ডায়েটারি গাইডলাইন্স অ্যাডভাইজরি কমিটির ২০১০ সালের রিপোর্ট থেকে। যেখানে বলা হয়, প্রতিদিন ৩০০ মিলিগ্রামের বেশি কোলেস্টেরল মানুষের শরীরে যাওয়া উচিত নয়। এরপরই বহু চিকিৎসক ডিম, মাখন চিজ বা রেড মিট খেতে নিষেধ করে দেন। কিন্তু, ২০১৫ সালে ডায়েটারি গাইডলাইন্স অ্যাডভাইজরি কমিটি যে ৫৭২ পাতার রিপোর্ট দিয়েছে, তাতে স্পষ্টই স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে যে, তাদের একটা ভুল হয়েছিল। পরীক্ষানিরীক্ষার ফল বলছে যে, কোলেস্টেরল যুক্ত খাবার খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ার কোনও সম্পর্ক নেই। কোলেস্টেরল যুক্ত খাবার খেলে, সেই কোলেস্টেরল আমাদের শরীরেই থেকে যায়, এমনটা ভাবার কোনও কারণই নেই। আমাদের রক্তে থাকা কোলেস্টেরলের ৮৫ থেকে ৮৮ শতাংশই তৈরি হয় যকৃৎ থেকে। খাবার থেকে রক্তে মেশে মাত্র ১২ থেকে ১৫ শতাংশ কোলেস্টেরল। এন্ডোক্রিনোলজিস্ট অভিজিৎ চন্দ জানান, লিভার কোলেস্টেরল তৈরি করে। বাইরেরটা খেলে সমস্যা হবে, এমন নয়। খাওয়ার কোলেস্টেরলের সঙ্গে রক্তের কোলেস্টেরলের সম্পর্ক নেই। অনেকে ভাবতে পারেন, মার্কিন সরকারের এক কমিটির রিপোর্টে এত ভরসা করব কেন? সেক্ষেত্রে বলে রাখা ভাল, ডায়েটারি গাইডলাইন্স অ্যাডভাইজরি কমিটিকে আর দশটা স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সংস্থার সঙ্গে মিলিয়ে ফেলবেন না! কারণ, মার্কিন সরকারের এই কমিটির রিপোর্টের দিকে শুধু আমেরিকা নয়, গোটা বিশ্ব তাকিয়ে থাকে। সহজ কথায় বললে এদের কাজ, দু’বছর বা তার বেশি বয়সীদের জন্য আলাদা আলাদা করে পুষ্টিকর খাদ্যতালিকা সুপারিশ করা। যাতে তারা রোগভোগ ছাড়া সুস্থভাবে জীবনযাপন করতে পারে। এজন্য প্রত্যেক পাঁচ বছর অন্তর তারা রিপোর্ট দেয়। আমেরিকার বিভিন্ন স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সংস্থা থেকে শুরু করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিও এই রিপোর্টের ওপর ভরসা করে। এমনকী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য এবং পুষ্টি নীতি কী হবে, বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ অভিযান কীভাবে চালানো হবে, তাও ঠিক হয় এই রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই। এহেন ডায়েটারি গাইডলাইন্স অ্যাডভাইজরি কমিটির রিপোর্টের পর অন্তত ডিম, মাখন বা চিজের দিকে আড়চোখে তাকানোর কোনও কারণ নেই। ইচ্ছে করছে? খেয়ে নিন।
খবর (News) লেটেস্ট খবর এবং আপডেট জানার জন্য দেখুন এবিপি লাইভ। ব্রেকিং নিউজ এবং ডেলি শিরোনাম দেখতে চোখ রাখুন এবিপি আনন্দ লাইভ টিভিতে
আরও পড়ুন






















