Parvesh Verma : বিজেপি, সঙ্ঘ, উভয়েরই সিলমোহর ! দিল্লির আগামী মুখ্যমন্ত্রী প্রবেশই: সূত্র
শোনা যাচ্ছে, প্রবেশকে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী করার বিষয়ে ঐক্যমত পোষণ করেছে সঙ্ঘ ও বিজেপি।

নয়াদিল্লি : প্রায় তিন দশক পর গেরুয়া ঝড় দেখল দিল্লি। মুখ থুবড়ে পড়েছে আপ। ১০ বছর পর দিল্লিবাসী মুখ ফেরাল অরবিন্দ কেজরিওয়ালের থেকে। নিজের গড় থেকেই জিততে পারেননি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী, আপ প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল। অরবিন্দকে হারিয়েছেন দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সাহিব সিংহ বর্মার পুত্র প্রবেশ বর্মা। তাই প্রবেশকে নিয়ে উচ্ছ্বসিত রাজধানীর গেরুয়া শিবির। কিন্তু দিল্লিতে এত বড় জয়ের পরও প্রশ্ন ছিল পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন? প্রবেশকে দৌড়ো এগিয়ে রাখলেও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের নজরে ছিল আরও কয়েকটি নাম। তবে প্রবেশও শুরু থেকে বলছিলেন, তাঁর কোনও ক্যারিশ্মা নেই, সবই নরেন্দ্র মোদির প্রভাব। তাই মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন,তা নিয়ে তিনি চিন্তিত নন। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব।
তবে এবার অন্দরমহলের খবর। এবিপি নিউজের করা একটি প্রতিবেদন অনুসারে, দিল্লির পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন প্রবেশই। রাজধানীতে এত বছর পর সরকার গড়ছে বিজেপি। তার শীর্ষ পদটিতে কে বসবে, তা নির্ণয় করার ক্ষেত্রে সঙ্ঘের মত গুরুত্বপূর্ণ। শোনা যাচ্ছে, প্রবেশকে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী করার বিষয়ে ঐক্যমত পোষণ করেছে সঙ্ঘ ও বিজেপি। নতুন দিল্লি আসন থেকে আপের জাতীয় আহ্বায়ক এবং দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে পরাজিত করা প্রবেশ বর্মাকে মুখ্যমন্ত্রী পদের জন্য সবচেয়ে বেশি উপযুক্ত বলেই মনে করছে তারা।
এবিপি নিউজের করা একটি প্রতিবেদন অনুসারে, আরএসএসের সূত্রের খবর, বিজেপি প্রবেশের নাম প্রস্তাব করে। সঙ্ঘ পরিবারও তাতেই সায় দিয়েছে। তারপরই চূড়ান্ত হয়েছে প্রবেশ বর্মার নাম। এই পদের আরও দাবিদার থাকলেও, প্রবেশই অরবিন্দকে হারিয়েছেন। তাই এই পদ তাঁরই প্রাপ্য বলে মনে করছে তারা।
দিল্লির রাজনীতিতে, প্রবেশ বর্মার আপাতত 'জায়ান্ট কিলার'। এবার আপের হারের পিছনে যে কয়টি বিষয়কে মূল বলে ধরা হচ্ছে, তার মধ্যে যমুনা দূষণ অন্যতম। বারবার যমুনাকে দূষণ মুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েও ব্যর্থ ছিল আপ-সরকার। প্রবেশ এই বিষয়টিকেই সঠিক সময়ে উত্থাপন করেছিলেন। বলা ভাল, এই বিষয়টিকে হাতিয়ার করে প্রবেশ কেজরিওয়ালকে আক্রমণে ঝাঁঝরা করেছিলেন । বিজেপি আনুষ্ঠানিক ভাবে নয়াদিল্লি কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হিসেবে তাঁর নাম ঘোষণার করার আগে থেকেই তিনি প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছিলেন। এর ফলে তিনিও লাভবান হন এবং আর শেষ হাসি হাসে তাঁর দল বিজেপি।
দিল্লি নির্বাচনের ফলাফল বেরনোর পর পর, প্রবেশই প্রথম কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করতে যান। তখনই রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলেন, দলের শীর্ষ নেতৃত্বের তাঁর নামের উপর আস্থা রয়েছে। সেই কারণেই তাঁকে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের বিরুদ্ধে প্রার্থী করা হয়েছিল।
নয়াদিল্লি বিধানসভা আসনে প্রবেশ মোট ৩০০৮৮ ভোট পেয়েছেন, অর্থাৎ মোট ভোটের ৪৮.৮২ শতাংশ। অরবিন্দ কেজরিওয়াল এই আসনে ২৫৯৯৯ ভোট পেয়েছেন, ভোটের ভাগ ৪২.১৮ শতাংশ। ইভিএম এবং পোস্টাল ব্যালট, উভয় ক্ষেত্রেই প্রবেশ এগিয়ে । ইভিএম থেকে ২৯৮৭৮টি ভোট এবং ২১০টি পোস্টাল ভোট পেয়েছেন। । অন্যদিকে অরবিন্দ কেজরিওয়াল ২৫৮৬৫টি ইভিএম ভোট এবং ১৩৪টি পোস্টাল ভোট পেয়েছেন। সবমিলিয়ে মোট ৪০৮৯ ভোটের ব্যবধানে আসনটি ছিনিয়ে নিয়েছেন প্রবেশ বর্মা।
সূত্র : ABP News (পড়তে ক্লিক করুন)
ট্রেন্ডিং
সেরা শিরোনাম
