US Nuclear Weapon: ৩৩ বছর পর পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা করবে আমেরিকা, রাশিয়া-চিনকে দেখেই নির্দেশ ট্রাম্পের? পারদ চড়ছে
Donald Trump Orders Nuclear Test: দক্ষিণ কোরিয়ায় চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাতের ঠিক কয়েক মিনিট আগে বৃহস্পতিবার এই ঘোষণা করেন ট্রাম্প।

ওয়াশিংটন: মসনদে ফিরেই একের পর এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়ে চলেছেন। এবার পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষায় গতি আনার সিদ্ধান্ত নিলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জানালেন, অবিলম্বে পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা শুরু করবেন তাঁরা। অর্থাৎ ট্রাম্পের হাতে ৩৩ বছর আগে নেওয়া পণ ভাঙতে চলেছে আমেরিকা। (Donald Trump Orders Nuclear Test)
দক্ষিণ কোরিয়ায় চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাতের ঠিক কয়েক মিনিট আগে বৃহস্পতিবার এই ঘোষণা করেন ট্রাম্প। এই সিদ্ধান্ত নেহাতই কৌশলগত অবস্থান, নাকি রাশিয়া এবং চিনকে বার্তা, তা নিয়ে কাটাছেঁড়া শুরু চলছে। চিনা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাতের ঠিক আগেই কেন ট্রাম্প এই ঘোষণা করলেন, তা নিয়েও শুরু হয়েছে জল্পনা। (US Nuclear Weapon)
ট্রাম্প যদিও কোনও লুকোছাপা করেননি। বরং জানান, রাশিয়া এবং চিন পরমাণু কর্মসূচিতে যে সম্প্রসারণ ঘটিয়েছে, তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার প্রয়োজন থেকেই এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। আমেরিকা এতদিন হাত গুটিয়ে থাকলেও, রাশিয়া এবং চিন যেভাবে পরমাণু শক্তির বৃদ্ধি ঘটিয়ে চলেছে, তাতে আমেরিকারও একই পথে হাঁটা ছাড়া উপায় নেই বলে দাবি তাঁর।
পেন্টাগনকে পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষায় গতি আনার নির্দেশ দিয়ে Truth Social-এ ট্রাম্প লেখেন, ‘অন্য সব দেশের তুলনায় আমেরিকার কাছে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক পরমাণু অস্ত্র রয়েছে। রাশিয়া দ্বিতীয় স্থানে, অনেক ব্যবধান-সহ তৃতীয় স্থানে চিন। কিন্তু আগামী পাঁচ বছরে সমকক্ষ হয়ে উঠবে তারা’। তিনি আরও লেখেন, ‘অন্য দেশগুলি যে ভাবে অস্ত্রপরীক্ষা কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে, ডিপার্টমেন্ট অফ ওয়ারকে আমিও একই মাত্রায় পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছি। অবিলম্বেই অগ্রগতি চোখে পড়বে’।
ট্রাম্পের দাবি, প্রথম দফায় আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরই আমেরিকার পরমাণু শক্তিতে বিরাট সংস্কার ঘটিয়েছিলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, “বিধ্বংসী শক্তির কথা স্মরণ করে এতে মন ছিল না তাঁর। কিন্তু এছাড়া অন্য উপায় ছিল না তাঁর।”
এই ঘোষণা অনুযায়ী, তিন দশকেরও বেশি সময় পর প্রথম বার পরিকল্পিত ভাবে পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা করতে চলেছে আমেরিকা। ১৯৯২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে শেষ বার নেভাডায় পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা করে আমেরিকা। অত্যাধুনিক কম্পিউটার মডেলিংয়ের সাহায্যে গুরুত্বপূর্ণ ওই পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা করা হয়। তিন দশক আগে একরকম স্বেচ্ছাতেই আর পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা না করার সিদ্ধান্ত নেয় আমেরিকা।
পৃথিবীর তিন অন্য়তম গুরুত্বপূর্ণ পরমাণু শক্তিধর দেশ, আমেরিকা, রাশিয়া এবং চিন ১৯৯৬ সালের পর কোনও পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা করে নি। আমেরিকা শেষ বার পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা করে ১৯৯২ সালে, রাশিয়া শেষবার পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা করেছিল ১৯৯০ সালে, চিন ১৯৯৬ সালে। উত্তর কোরিয়া শেষ বার ২০১৭ সালে পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা করে। তবে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা না করলেও, পরীক্ষা নিরীক্ষা চলছিলই। ক্ষেপণাস্ত্রে পরমাণু ওয়ারহেড বসানোর প্রযুক্তি গড়ে তুলেছে প্রায় সকলেই। কিন্তু বুধবারই রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জানান, পরমাণু শক্তিসম্পন্ন একটি সুপার টর্পেডো ‘পোসাইডনে’র পরীক্ষায় সফল হয়েছেম তাঁরা। চলতি অক্টোবর মাসেই, পরমাণু শক্তিসম্পন্ন Burevestnik ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার কথা জানান তিনি।
আর তার ঠিক পর পরই পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষায় গতি আনার নির্দেশ দিলেন ট্রাম্প। CNN জানিয়েছে, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে আমেরিকার নৌবাহিনী পরমাণু শক্তিসম্পন্ন চারটি ট্রাইডেন্ট ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা করেছে তারা। চিন কমপক্ষে তিনটি পরমাণু সক্তিসম্পন্ন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রয়োগ করেছে। ২০২৪ সালে প্রশান্ত মহাসাগরে ইন্টারকন্টিনেন্টাল ক্ষেপণাস্ত্রও পরীক্ষা করে করে তারা। ২০২৩ সালে তিন দেশই নতুন পরমাণু পরীক্ষাগার ও সুড়ঙ্গপথ তৈরি করে।
মিডলবারি ইনস্টিটিউট অফ ইন্টারন্যাশনাস স্টাডিজের জেমস মার্টিন সেন্টার ফর ননপ্রলিফারেশন স্টাডিজের অধ্যাপক জেফ্রি লুইসের বক্তব্য, "রাশিয়া, চিন এবং আমেরিকা যে ফের পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা করতে চলেছে, তার ইঙ্গিত মিলছে।" আর তাতেই অশনি সঙ্কেত দেখছেন কূটনীতিকরা। তাঁদের মতে, এভাবে চলতে থাকলে পরমাণু শক্তি প্রদর্শনের প্রতিযোগিতা শুরু হবে। পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ চুক্তিরও আর কোনও মূল্য থাকবে না।






















