Ajit Doval: ধমক-ধামক চলবে না, দরকারে ট্রাম্প যাওয়া অবধি ...ডোভালের হুঙ্কারেই গুটিয়েছে আমেরিকা? চাঞ্চল্যকর কথোপকথন প্রকাশ্যে
আমেরিকা যখন রাশিয়ার থেকে তেল কেনা নিয়ে ক্রমাগত ভারতকে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে আর শুল্কের বোঝা চাপিয়ে চাপে রাখার চেষ্টা করছে, তখন ঘাড় সোজা করে পাল্টা হুঙ্কার দিয়েছিল দেশ।

নয়া দিল্লি: অতি সম্প্রতি ভারতীয় পণ্যের উপর শুল্ক কমানোর কথা ঘোষণা করেছেন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প । সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে ট্রাম্প দাবি করেছেন,প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘অনুরোধ’ মেনেই নাকি আমেরিকা অবিলম্বে ভারতীয় পণ্যের উপর কার্যকর থাকা ৫০ শতাংশ শুল্ক-হার কমিয়ে ১৮ শতাংশে নিয়ে আসবে। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই বিষয়ে ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদিও। এরই মধ্যে ব্লুমবার্গ-র এক প্রতিবেদনে দাবি, ভারত কিন্তু আমেরিকার কাছে মাথা নোয়ায়নি। বরং ২০২৫ আমেরিকা যখন রাশিয়ার থেকে তেল কেনা নিয়ে ক্রমাগত ভারতকে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে আর শুল্কের বোঝা চাপিয়ে চাপে রাখার চেষ্টা করছে, তখন ঘাড় সোজা করে পাল্টা হুঙ্কার দিয়েছিল ভারত।
ব্লুমবার্গ-র এক প্রতিবেদনে দাবি, মোদি সরকার আমেরিকাকে স্পষ্টভাবে বলে দেয়,ধমক-চমকে লাভ নেই, ভারত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার জন্য ট্রাম্প-শাসনের অবসান অবধিও অপেক্ষা করতে পারে। ট্রাম্পের রাষ্ট্রপতিত্বের শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে অসুবিধে নেই ভারতের। এর আগেও ভারত অনেক উচ্চ-নীচ পরিস্থিতি সামলে এসেছে। এখনও ভারত সেটাই করবে। ব্লুমবার্গ-র এক প্রতিবেদনে দাবি, মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে এমন কথাই জানিয়েছিলেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল। গত সেপ্টেম্বরে হয়েছিল এই কথোপকথন।
ব্লুমবার্গ -এর রিপোর্ট বলছে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (NSA) অজিত ডোভাল এবং মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিওর মধ্যে একটি বৈঠক হয়। মার্কিন চাপের মুখেও ভারত বৈঠকে তার কঠোর অবস্থান তুলে ধরে বলে খবরে প্রকাশ। সেই সময় ট্রাম্প প্রশাসন ক্রমাগত নরেন্দ্র মোদি সরকারের উপর শুল্ক নিয়ে চাপ দিয়ে যাচ্ছিল, সেই সঙ্গে চলছিল ট্রাম্পের তর্জন -গর্জন। কিন্তু তার 'দাদাগিরি'র তোয়াক্কা যে ভারত করে না, তাই স্পষ্ট করে দেন ডোভাল। তিনি নাকি রুবিওকে মনে করিয়ে দেন, 'যাতে দু’দেশের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়, সেই চেষ্টাই করা উচিত।
প্রতিবেদনে দাবি, অজিত ডোভাল রুবিওকে বলেন, "ট্রাম্প বা তাঁর 'বন্ধু'দের দিয়ে ভারতকে ভয় দেখানো যাবে না এবং দরকারে ট্রাম্পের রাষ্ট্রপতিত্ব কাল শেষ হওয়ার জন্য অপেক্ষা করবে ভারত। ভারত আগেও এমন কঠিন মার্কিন প্রশাসনের মুখোমুখি হয়েছে।" ব্লুমবার্গ নাকি এই তথ্য নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক মন্ত্রকের উচ্চপদস্থদের কাছ থেকে পেয়েছেন । তাঁরা নাম প্রকাশ না করার শর্তেই এই তথ্য জানিয়েছেন ব্লুমবার্গকে। যদিও ভারতের বিদেশ মন্ত্রক এবং মার্কিন বিদেশ মন্ত্রকের তরফে এই বৈঠক সম্পর্কে কোনও কথা প্রকাশ্যে আসেনি।





















